ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় সাইক্লিং

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় সাইক্লিং
ছবি: সংগৃহীত
সাইকেল চালিয়ে অফিসে গেলে ক্যান্সার ও হৃদরোগের ঝুঁকি অর্ধেক কমে যায়। যারা সাইকেল চালিয়ে অফিসে যান তাদের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে ৪৫ ভাগ আর হৃদরোগের ঝুঁকি কমে প্রায় ৪৬ ভাগ, এমনটাই দেখানো হয়ে সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণার ফলাফলে। 

ভাবুন তো, আজকের এই যান্ত্রিক জীবনে প্রাইভেট-কার, বাস, মোটরসাইকেল বাদে কেই বা সাধে সাইকেল চালিয়ে অফিসে যাবে! তবে, স্বাস্থ্য গবেষকরা কিন্তু আমাকে-আপনাকে ওই আরাম আয়েশের অফিসের যাত্রার পরিবর্তে প্রতিদিন সকালে সাইক্লিং করে অফিসে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, নতুবা তারা ক্যান্সারের আশংকা করছেন। 

 

ব্রিটেনের এক গবেষক দলের ব্যাপক গবেষণার পর এই ফলাফল ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। তারপর থেকেই স্বাস্থ্য বিষয়ক বিভিন্ন ওয়েবসাইটগুলোর লেখায় উঠে-পড়ে লেগেছে, আমার-আপনার নিত্যদিনের অভ্যাস পরিবর্তনে মনোযোগী করতে। 

 

এই গবেষণায় দেখা যায়, সাইকেল চালিয়ে অফিসে গেলে ক্যান্সার ও হৃদরোগের ঝুঁকি অর্ধেক কমে যায়। যারা সাইকেল চালিয়ে অফিসে যান তাদের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে ৪৫ ভাগ আর হৃদরোগের ঝুঁকি কমে প্রায় ৪৬ ভাগ, এমনটাই দেখানো হয়ে সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণার ফলাফলে। 

 

প্রায় আড়াই লাখ অফিস যাত্রীদের উপর প্রায় ৫ বছর ধরে চলা এই গবেষণায় দেখা যায়, সাইক্লিং এ অভ্যস্ত মানুষগুলোর সুস্থতার চিত্র গবেষণায় স্পষ্ট। পাঁচ বছরে অংশ নেওয়া অফিস যাত্রীদের ২৪৩০ জন মারা গেছেন, ৩৭৪৮ জন ক্যান্সারে আক্রান্ত এবং ১১১০ জনের হৃদরোগ ধরা পড়ে। কিন্তু সাইকেলে চড়ে অফিসে যাওয়া অধিকাংশ মানুষ এই সকল জটিল রোগ হতে মুক্ত এবং অন্যান্যদের তুলনায় সুস্থ জীবনযাপন করেছেন।

 

সপ্তাহে গড়ে ৩০ মাইল সাইকেল চালিয়েছেন এই মানুষগুলো, তবেই না মিলেছে সুস্থ ও স্বস্তির জীবন। এছাড়া, হেঁটে অফিসে গেলেও ক্যান্সার ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। তবে সেজন্য সপ্তাহে অন্তত ছয় মাইল হাঁটতে হবে।

 

গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. জেসন গিল এক সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, এখন আর কোনো দ্বিমত চলে না যে, কে কিভাবে কাজে যাচ্ছে তার উপর সুস্থতা নির্ভর করে। বিশেষ করে, সাইকেল চালিয়ে অফিসে গেলে শারীরিক সুস্থতা এখন চোখের সামনেই।

 

তবে, সাইকেল চালিয়ে কাজে গেলে কেন শরীরের এইসব জটিল রোগের ঝুঁকি কমে, সেটার নির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করেনি গবেষণায়। স্বাস্থ্যগবেষকরা বলছেন, যেহেতু সাইক্লিং এর মাধ্যমে শরীরের অতিরিক্ত মেদ কমে তাই শরীর থাকে রোগমুক্ত। তাই, তারা অভ্যাসের প্রতি মানুষকে আরো সচেতন হতে বলেছেন; বিশেষ করে সাইক্লিং এর প্রতি।