১৭১ বছর ধরে ফ্যাশনে রয়েছে সেফটিপিন!

১৭১ বছর ধরে ফ্যাশনে রয়েছে সেফটিপিন!
১৭১ বছর ধরে ফ্যাশনে রয়েছে সেফটিপিন!
প্রথম পেটেন্ট নেওয়া হয় ১৮৪৯ সালে, আমেরিকায়। পেটেন্ট নেন সে সময়কার বিখ্যাত যন্ত্রকৌশলী ওয়াল্টার হন্ট। সে হিসেবে সেফটিপিনের বয়স ১৭১ বছর! আর মজার ব্যাপার হলো, সেফটিপিনের আদি নাম ‘ড্রেস পিন’। মানে এই পিন দিয়ে কাপড় আটকানো হতো। পিন দিয়ে কাপড় আটকানো অবশ্য নতুন কোনো ঘটনা নয়। মধ্য ব্রোঞ্জ যুগে (খ্রিষ্টপূর্ব ১৯৫০-১৫৪০) মধ্য ইউরোপে এটির সূচনা হয় বলে ধারণা করা হয়। এরপর বিভিন্ন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গিয়েছে কাপড় আটকানোর পিন। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা আধুনিক সেফটিপিন পেয়েছি, সেটাও কাপড় আটকানোর জন্যই।

সেফটিপিন খুব হেলাফেলার বিষয় হলেও ফ্যাশনের ক্ষেত্রে সেফটিপিন কোনো হেলাফেলার জিনিস নয়। খেয়াল করলে দেখতে পাবেন, ব্লাউজের সঙ্গে শাড়ি আটকাতে, জামার সঙ্গে ওড়না আটকাতে খুব কার্যকর ভাবেই ব্যবহার করা হয় সেফটিপিন। এটা কিন্তু এখনো নারীরা একই কাজে ব্যবহার করে চলেছেন সেই আদ্যিকাল থেকে। সেফটিপিনের ব্যবহার পুরুষদের চেয়ে নারীরাই বেশি করেন এবং সেটা ফ্যাশনের প্রয়োজনেই। সেই ১৭১ বছর ধরে নারীদের ফ্যাশনে এই সেফটিপিন ব্যবহার হয়ে আসছে। 


প্রথম পেটেন্ট নেওয়া হয় ১৮৪৯ সালে, আমেরিকায়। পেটেন্ট নেন সে সময়কার বিখ্যাত যন্ত্রকৌশলী ওয়াল্টার হন্ট। সে হিসেবে সেফটিপিনের বয়স ১৭১ বছর! আর মজার ব্যাপার হলো, সেফটিপিনের আদি নাম ‘ড্রেস পিন’। মানে এই পিন দিয়ে কাপড় আটকানো হতো। পিন দিয়ে কাপড় আটকানো অবশ্য নতুন কোনো ঘটনা নয়। মধ্য ব্রোঞ্জ যুগে (খ্রিষ্টপূর্ব ১৯৫০-১৫৪০) মধ্য ইউরোপে এটির সূচনা হয় বলে ধারণা করা হয়। এরপর বিভিন্ন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গিয়েছে কাপড় আটকানোর পিন। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা আধুনিক সেফটিপিন পেয়েছি, সেটাও কাপড় আটকানোর জন্যই। মেটালের তৈরি প্রজাপতি। শাড়ি কিংবা ওড়না আটকাতে ব্যবহার করা হতো এ ধরেনর ব্রোচ।


এখন যে অল ইন ওয়ান ডায়াপার দেখা যায় মূলত শিশুদের ব্যবহারের জন্য, উনিশ শতকেও এ রকম ডায়াপার ব্যবহার করা হতো আমেরিকা আর ইউরোপে। সেগুলোর সাধারণ নাম ছিল ফ্ল্যাট। এই ফ্ল্যাট বা এখনকার অল ইন ওয়ান ডায়াপারের পূর্বসূরি ডায়াপারগুলো আটকানো থাকত পিন দিয়ে। উনিশ শতকের মাঝামাঝি থেকে, অর্থাৎ ১৮৪৯ সালের পর থেকে কাজটি করে আসছে সেফটিপিন। এ ছাড়া কাপড় আটকাতে তো তার ব্যবহার ছিলই। আমেরিকা বা ইউরোপে বিশেষত নারীদের পোশাকের যে ধরন ছিল আঠারো বা উনিশ শতকে, তাতে পিনের মতো একটা কিছুর প্রয়োজন হতোই। সে জায়গাটা পূরণ করে সেফটিপিন।
তবে সেফটিপিন ফ্যাশন জগতের আইকন হয়ে ওঠে বেশ পরে। বলা চলে সত্তরের দশকে। পাংক রক শিল্পীদের অনেকেই ফ্যাশনের জন্য সেফটিপিন ব্যবহার করতেন বিশেষভাবে। এ ছাড়া বিভিন্ন পোস্টারেও সেফটিপিন ব্যবহার করে গেছেন তাঁরা। পাংক রক এবং সেফটিপিনের কথা উঠলেই উঠে আসে বিশ শতকের সত্তরের দশকের বিখ্যাত ব্যান্ড ‘সেক্স পিস্তল’-এর কথা। সম্ভবত এই ব্যান্ড সেফটিপিনকে ফ্যাশনের জগতে প্রতিষ্ঠা করে গেছে।


বিশ্ব ফ্যাশন জগতে এই ধারা চলতে থাকে উনিশ শ নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত। স্টিফেন স্প্রাউস কিংবা জিন পল গালটিয়ারের মতো ফ্যাশন ডিজাইনার এবং এলিজাবেথ হার্লের মতো ভুবনবিখ্যাত অভিনেত্রীরা ফ্যাশনের জগতে সেফটিপিনকে অমরত্ব দিয়ে গেছেন। সে ধারা যে এখনো চলছে, সেটা না বললেও চলে। ২০১৬-১৭ সালের শরৎ বা শীতের পোশাকের কালেকশনে বালেনসিগা, ভায়নেট ও সোনিয়া রাইকিয়েলের মতো বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনাররা সেফটিপিনকে আবারও ফ্যাশনের ঝাঁ-চকচকে মঞ্চে নিয়ে এসেছিলেন।


এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে সেফটিপিন বিশ্ব ফ্যাশন মঞ্চের রঙিন দুনিয়ায় আসার আগে সাধারণ মানুষের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে তার ব্যবহারিক কারণে। শুধু ইউরোপ কিংবা আমেরিকাই নয় অথবা চকচকে চেহারার তন্বী মডেলরাই শুধু নন আমাদের দেশের সাধারণ নারীরা প্রতিদিন ব্যবহার করে চলেছেন সেফটিপিন। বিভিন্ন রকম ধাতুতে বানানো প্রজাপতি, মৌমাছি কিংবা বিভিন্ন ফুলের পেছনে লাগানো সেফটিপিন একসময় শিশুদের ফ্যাশনেও ব্যবহার হয়েছে আমাদের দেশে। সেগুলো ফ্যাশন দুনিয়ার চলতি ফ্যাশনের অক্ষম অনুকৃতি ছিল বটে। কিন্তু আমাদের সাধারণ মানুষের চলতি ফ্যাশনের জগতে তার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম।
জানা যায়, হোমার তাঁর ‘ওডিসি’ মহাকাব্যে কাপড়ে ব্যবহার করা পিনের কথা লিখেছিলেন, যার রং ছিল সোনালি, সেই পিনের বর্তমান রূপ সেফটিপিন। উনিশ শ তিরিশের দশকেও সোনালি রঙের সেফটিপিন ছিল আভিজাত্যের প্রতীক, ইউরোপে। সাজসজ্জায় সেফটিপিনের গুরুত্ব আসলেই অনেক বেশি। পরবর্তী সময়েও সেফটিপিনের সমান উপযোগিতা থাকবে।