শীতে ঠোঁটের রুক্ষ আচরণ , রুখবেন যেভাবে!

শীতে ঠোঁটের রুক্ষ আচরণ , রুখবেন যেভাবে!
শীতে ঠোঁটের রুক্ষ আচরণ , রুখবেন যেভাবে!
শীত তো আসছে, সাথে আসছে ঠোঁটের রুক্ষ আচরণ করার দিনকাল। তাই রুক্ষতা দূর করার প্রস্তুতিও নিয়ে রাখুন। শীতেও নরম, মোলায়েম, সুন্দর ঠোঁটের জন্য এখনই চট করে জেনে রাখুন কিছু টিপস।

 

শীতের হাওয়া যে বইতে শুরু করে দিয়েছে। এবার পালা ভালোভাবে জেকে বসার।  শীত তো আসছে, সাথে আসছে ঠোঁটের রুক্ষ আচরণ করার দিনকাল। তাই রুক্ষতা দূর করার প্রস্তুতিও নিয়ে রাখুন। শীতেও নরম, মোলায়েম, সুন্দর ঠোঁটের জন্য এখনই চট করে জেনে রাখুন কিছু টিপস।

 

রুক্ষতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন পেট্রোলিয়াম জেলি। প্রতিদিন নিয়মকরে ঠোঁটে পেট্রোলিয়াম জেলি বা লিপবাম ব্যবহার করুন।

ঠোঁট ফেটে যাওয়ার অপেক্ষায় না থেকে শুরুতেই নিয়মিত পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহারের অভ্যেস গড়ুন।  সাথে জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানোর অভ্যাসটাও ত্যাগ করুন।  শুকনো ঠোঁট ভেজাতে জিভ নয় লিপবাম বা পেট্রোলিয়াম জেলিতেই ভরসা রাখুন।  

মেয়েদের প্রিয় প্রসাধনীর  মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে লিপস্টিক। মোদ্দকথা মেয়েদের সাজের পরিপূর্নতা পায়  ঠোঁটে লিপস্টিক লাগানোর পরে। কিন্তু ফাটা ঠোঁটে লিপস্টিক লাগানোর আগে লিপজেল বা লিপবাম জাতীয় কিছু লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে টিস্যু বা নরম কাপর  দিয়ে হালকা মুছে লিপস্টিক লাগানো উচিত। 

এছাড়া কোন ধরনের লিপস্টিক ব্যবহার করছেন সে ব্যাপারেও চোখ-কান খোলা রাখুন।  তাই মেয়েদের উচিত যেসব লিপস্টিক ঠোঁটের ক্ষতি করে না বা ভিটামিন ‘ই’ সমৃদ্ধ লিপস্টিক ব্যবহার করা

ঠোঁট মোলায়েম রাখতে তিলের তেলের ব্যবহারও খুব জনপ্রিয়।

সপ্তাহে এক দিন সমপরিমাণ মধু ও পেট্রোলিয়াম জেলি মিশিয়ে ঠোঁটে লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে দিন। এরপর পরিষ্কার তুলা দিয়ে আস্তে আস্তে তুলে ফেলুন, এতে ঠোঁট কোমল হবে।

এছাড়াও সমপরিমাণ গ্লিসারিন ও অলিভ অয়েল একসঙ্গে মিশিয়ে ঠোঁটে লাগালেও তা ময়েশ্চারাইজারের কাজ করবে।

গোলাপ ফুলের পাপড়ি বেটে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে ২০ মিনিট ঠোঁটে লাগিয়ে রাখুন, ঠোঁটের গোলাপি ভাব ফুটে উঠবে।

গ্লিসারিন, মধু ও গোলাপজল সমপরিমাণে মিশিয়ে ঠোঁটে লাগিয়ে ৩-৪ মিনিট রেখে পরে তুলা ভিজিয়ে মুছে নিয়ে লিপজেল বা ভ্যাসলিন লাগিয়ে নিন। এতে ঠোঁটের নরম ও তুলতুলে ভাব বজায় থাকবে।

টুথব্রাশে একটু পেস্ট এবং তার সাথে মধু মিশিয়ে আলতো করে ঘষে নিতে পারেন এতে  ঠোঁট নরম থাকবে।

এছাড়া কাঁচা দুধ একটু তুলায় ভিজিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ধরে ঘষুন। ঠোঁটের স্বাভাবিক রং ফিরে আসতে সাহায্য করবে।

ঠোঁট ফাঁটার হাত থেকে রক্ষা পেতে পানির গুরুত্বও অনেক। তাই নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান করবেন। তাতে ঠোট অল্পতেই শুকিয়ে যাবেনা।

এ ছাড়া প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কিছু ফল রাখতে পারেন। এ ক্ষেত্রে গাজরের রস ফাটার হাত থেকে ঠোঁটকে ভালো রাখতে অন্যতম ভূমিকা রাখে।

একটি পরিষ্কার ভেজা কাপড়ে চিনি নিয়ে সেটি ঠোঁটে আলতো করে ঘষে নিলে ঠোঁটের মরা চামড়াগুলো উঠে যাবে। এরপর ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ঠোঁটে নারকেল তেল লাগালে ভালো ফল পাওয়া যায়। 

খুব ঠাণ্ডা হাওয়া থেকে মুখের ত্বক বাঁচাতে স্কার্ফ ব্যবহার করতে পারেন।

সমান পরিমাণে লেবুর রস আর মধু মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে নিতে পারেন। এরপর ভালো করে মিশ্রণটি ঠোঁটে লাগিয়ে এক ঘণ্টা পরে  নরম কোনও ভেজা কাপড় দিয়ে আলতো করে ঘষে তুলে ফেলুন।

 

এই শীতে ঠোঁটের রুক্ষতার সাথে লড়াই করার জন্য মাথায় রাখুন টিপস গুলো। এবার শীতে ঠোঁটের যত্নে আর কোনো আপোস নয় । ঠোঁটের রুক্ষ আচারনের বিরুদ্ধে  রুখে দাড়ান আপনিও।