শেষ শরতে ত্বকের যত্নে

face
ত্বকের যত্ন নিচ্ছেন এক তরুণী
অনেকেই ত্বকের পরিচর্যা করলেও সেটি নিয়মিত করেন না। এভাবে বিশেষ উপকার পাওয়া যায় না। তাই নিয়মিত পরিচর্যা করুন। একটা রুটিন করে নিতে পারেন। কখন কিভাবে পরিচর্যা করবেন সে বিষয়ে একটা রুটিন করে রাখুন, কাজ করতে সুবিধা হবে।

প্রকৃতির চারপাশে শরতের ছোয়া লাগতে শুরু করেছে। প্রকৃতিতে এক কোমল অনুভূতির সৃষ্টি হয়। এ সময় একদিকে যেমন আসে পরিবেশের পরিবর্তন, এমনি অন্যদিকে পরিবর্তন আসে ত্বকেও। ত্বক হারিয়ে ফেলতে থাকে তার চিরায়ত লাবণ্য। তাই প্রতিদিনের রূপচর্চাতেও প্রয়োজন পরিবর্তন। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের যত্নেও পরিবর্তন আনা চাই। 

 

এখন প্রকৃতিতে চলছে শরতের ছোঁয়া। হালকা বৃষ্টি। আবহাওয়া বেশ অনুকূলে। এটি কিন্তু দারুণ উপভোগের একটি সময়। আর শরতকে বলা হয় ট্রানজিশনাল পিরিয়ড অব দ্য ইয়ার অর্থাৎ বছরের ক্রান্তিকাল। শীতের শুরুতে প্রকৃতির একটি প্রস্তুতি। এই প্রস্তুতি কেবল প্রকৃতিতে নয়, ত্বকের ওপরও।

 

গরমের রোদ, তাপ-বৃষ্টিতে ত্বকের যে ক্ষতি হয়েছে তার পূরণ করার সময় এটাই। গরমের দিনগুলোতে ঘাম, ত্বকের ইরিটেশন থেকে মুক্তি পেতে সবাই সুগন্ধিযুক্ত সাবান ব্যবহার করতে পছন্দ করে। শরতের দিনগুলোতে সাবানের বদলে ক্লিনজার ব্যবহার করুন। কারণ সাবান ত্বককে শুষ্ক করে দেয়। তাই সাবানের বদলে ময়েশ্চারাইজারযুক্ত ক্লিনজার বা বডি ওয়াশ ব্যবহার করুন। তেলযুক্ত স্ক্রাব ব্যবহার করুন। এ ছাড়া ঘরে সুজির সাথে চিনি ও অল্প অলিভ অয়েল মিশিয়েও স্ক্রাবার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এটি ত্বককে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করবে।

 

ত্বক সতেজ রাখতে ময়েশ্চারাইজারের বিকল্প নেই। কারণ ময়েশ্চারাইজার ত্বকে আর্দ্রতা জোগায়, ত্বক রাখে সজীব। তাই প্রতিবার ক্লিনজিংয়ের পর ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। তবে ময়েশ্চারাইজারের ক্ষেত্রে একটি বিষয় রয়েছে। অনেকে হয়তো জানেন বা অনেকে জানেন না, সেটি হলো টাইমলেস ময়েশ্চারাইজার। এই ময়েশ্চারাইজারটি আমাদের ত্বকে অনেকক্ষণ ধরে থাকবে, পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললেও। কারণ, শরতে কিন্তু পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলার একটি বিষয় থাকে। ধুয়ে ফেললেও পানির সঙ্গে এটি ধুয়ে যাবে না। পানিতে যে প্রোটিলাইটিক এনজাইম থাকে, তা এই ময়েশ্চারাইজারের সঙ্গে আটকে ত্বকে একটি সুরক্ষাচক্র হিসেবে কাজ করবে। তাছাড়া বছরের এই সময়টাতে রোদের তেজ এ সময়ে কমে আসে। কিন্তু তাই বলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে ভুলবেন না। বাইরে বের হওয়ার আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করবেন।

 

এ সময় হালকা মেকআপই ভালো। দিনের বেলায় ফাউন্ডেশন না লাগিয়ে হালকা কোনো ফেসপাউডার লাগিয়ে দেখতে পারেন। এতে ত্বক অনেক বেশি মসৃণ ও সুন্দর দেখাবে। যদি আপনি ফাউন্ডেশন ব্যবহার করতেই চান, ম্যাটিফায়িং ফাউন্ডেশন লাগান। এতে ত্বক কম ঘামবে এবং কম তৈলাক্ত হবে। মুখের যেখানে সাধারণত বেশি ঘাম হয় সেখানে প্রয়োজনে পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। তবে পোশাকের সঙ্গে মেকআপের মিল রেখে লাইট-ব্রাউন কালারের আইশ্যাডো লাগিয়ে নিলে অনেক বেশি ন্যাচারাল দেখাবে। আর রাতের বেলার সাজে চাইলে একটু গাঢ় করেই চোখটা সাজিয়ে নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে মেরুন, কফি,সবুজ, নীলচে শেডগুলো ব্যবহার করতে পারেন। এ সময় অবশ্যই ওয়াটারপ্রুফ মাশকারা এবং পেনসিল আইলাইনার ব্যবহার করবেন।

 

এ সময় কেবল মুখের ত্বকের যত্ন নিলেই যে হবে তা কিন্তু না। বাস্তবিক আপনার সম্পূর্ণ শরীর জুড়েই ত্বকের অবস্থান। আপনাকে শরীরের সব জায়গায় সমান যত্ন নিতে হবে। বিশেষ করে আপনি যখন বাইরে যান, তখন আপনার ঘাড় কিংবা গলায় সূর্যের আলোর প্রভাব অনেক বেশি পড়ে, একই সঙ্গে এই জায়গায় ময়লাও অনেক বেশি হয়। সুতরাং এসব জায়গায় ঠিকভাবে যত্ন নিতে হবে। গরমের দিনে বাইরে থেকে এসেই ঘাড়ে একটি তোয়ালে ঠাণ্ডা পানিতে ভিজিয়ে লাগান। এতে আপনার ঘাড় এবং মাথা উভয়ই শীতল থাকবে।

 

অনেকেই ত্বকের পরিচর্যা করলেও সেটি নিয়মিত করেন না। এভাবে বিশেষ উপকার পাওয়া যায় না। তাই নিয়মিত পরিচর্যা করুন। একটা রুটিন করে নিতে পারেন। কখন কিভাবে পরিচর্যা করবেন সে বিষয়ে একটা রুটিন করে রাখুন, কাজ করতে সুবিধা হবে।