ফিল্ম রিভিউ

ঢালিউডে নারীকেন্দ্রিক সিনেমালাপ

ঢালিউডে নারীকেন্দ্রিক  সিনেমালাপ
ঢাকাই চলচ্চিত্র তার অল্পস্বল্প মেরুদ- সোজা রেখে চলছে তার অনেকটা জুড়েই অবদান রয়েছে সেসব চলচ্চিত্রের নায়িকাদের। শাবানা, শবনম, ববিতা, কবরী, সুবর্ণা মুস্তাফা, শাবনূর, মৌসুমী, মাহি, পরিমণি, পপিদের নিয়ে নির্মিত হয়েছে অনেক নারী প্রধান চলচ্চিত্র। যে ছবিগুলো ঢাকাই সিনেমার সোনালি অতীতের সুবর্ণ সাক্ষী। ছবিগুলো শুধুমাত্র ব্যবসায়িক সাফল্যের ক্ষেত্রেই ভূমিকা রাখেনি; বরং নারীদের মধ্যে মনোবল সৃষ্টিসহ নারীকেন্দ্রিক নানা জনমত গঠনেও নিজেদের ছাপ রেখে গেছে।

ঢাকাই চলচ্চিত্র তার অল্পস্বল্প মেরুদ- সোজা রেখে চলছে তার অনেকটা জুড়েই অবদান রয়েছে সেসব চলচ্চিত্রের নায়িকাদের। শাবানা, শবনম, ববিতা, কবরী, সুবর্ণা মুস্তাফা, শাবনূর, মৌসুমী, মাহি, পরিমণি, পপিদের নিয়ে নির্মিত হয়েছে অনেক নারী প্রধান চলচ্চিত্র। যে ছবিগুলো ঢাকাই সিনেমার সোনালি অতীতের সুবর্ণ সাক্ষী। ছবিগুলো শুধুমাত্র ব্যবসায়িক সাফল্যের ক্ষেত্রেই ভূমিকা রাখেনি; বরং নারীদের মধ্যে মনোবল সৃষ্টিসহ নারীকেন্দ্রিক  নানা জনমত গঠনেও নিজেদের ছাপ রেখে গেছে।

গোলাপি এখন ট্রেনে 


১৯৭৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবিটি পরিচালনা করেছেন আমজাদ হোসেন। মূখ্য চরিত্রে  ছিলেন ববিতা, ফারুক, আনোয়ার হোসেন, রোজী সামাদ, আনোয়ারা, রওশন জামিল, এটিএম শামসুজ্জামান প্রমুখ। নারীর জীবনের সংগ্রাম এই ছবির প্রধান উপজীব্য; যা খুব সহজেই সব শ্রেণির দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছিল।


তিনকন্যা 


নারীপ্রধান চলচ্চিত্র ‘তিনকন্যা’। ১৯৮৫ সালে ছবিটি মুক্তি পায়। পরিচালনা করেছেন শিবলি সাদিক। ছবিটি বাবা হারানো ৩ বোনের কাহিনি নিয়ে নির্মিত। তিনকন্যা ছবিতে প্রধান তিনটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিন বোন সুচন্দা, ববিতা ও চম্পা। আরও ছিলেন সোহেল রানা, ইলিয়াস কাঞ্চন প্রমুখ। 


মেয়েরাও মানুষ 


১৯৯৭ সালে ‘মেয়েরাও মানুষ’ ছবিটি মুক্তি পায়। ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন মনোয়ার খোকন। এই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন প্রয়াত অভিনেতা জসীম ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবানা, কলকাতার ঋতুপর্ণা ও চাঙ্কিপা-ে। ছবির গল্পটি ছিল, সমাজের নানাপ্রতিকূলতা পেরিয়ে নারীরাও যে এগিয়ে যেতে পারে, তারাও যে সাফল্য বয়ে এনে সমাজ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারে তারই চিত্ররূপ। নারী প্রধান চলচ্চিত্র হিসেবে ঢাকাই ছবির ইতিহাসে আজও এই ছবি একটি রেকর্ড। 


পালাবি কোথায় 


পালাবি কোথায়’ ১৯৯৬ সালে মুক্তি পেয়েছিল। কমেডিধর্মী ছবি। হাস্যরসাত্মক বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে কর্মজীবী নারীদের অধিকারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে এখানে। শাবানা, চম্পা ও সুবর্ণা মুস্তাফা চমৎকার অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মুগ্ধ করেছিলেন। হুমায়ূন ফরিদীর কমেডি অভিনয় ছবিটির প্রধান সম্পদ।


মোল্লা বাড়ীর বউ 


পুরোপুরি কমেডি ঘরানার ছবি হলেও এটি ছিল ধর্মান্ধতার সমাজে নারীর অসহায়ত্ব ও লড়াইয়ের চিত্র। ‘মোল্লা বাড়ীর বউ’ ২০০৫ সালে মুক্তি পায়। এটি পরিচালনা করেছেন সালাহ উদ্দিন লাভলু। ছবির মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন মৌসুমি, শাবনূর, রিয়াজ, এটিএম শামসুজ্জামান প্রমুখ। এই ছবিতে রিয়াজের দুই বউয়ের চরিত্রে দেখা যায় মৌসুমি ও শাবনূরকে। যারা ছিল ছবির প্রাণ।


মায়ের অধিকার 


‘মায়ের অধিকার’ ১৯৯৬ সালে ছবিটি মুক্তি পায়। ঢালিউডের অন্যতম নারী প্রধান একটি ছবি। শিবলি সাদিক পরিচালিত এই ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ববিতা। আরো অভিনয় করেছিলেন শাবনাজ, আলমগীর, সালমান শাহ, হুমায়ূন ফরিদী, নাছির খান প্রমুখ। মায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সন্তানের লড়াই ব্যাপারটা ছিল ছবির প্রাণ।। তৎকালীন সময়ে ছবিটি রেকর্ড পরিমাণ ব্যবসা করে।


আম্মাজান 


১৯৯৯ সালে মুক্তি পেয়েছিল ‘আম্মাজান’। ছবিটি কাজী হায়াত পরিচালিত। ছবিতে মান্নার ঠোঁটে আইয়ূব বাচ্চুর গাওয়া ‘আম্মাজান আম্মাজান’ গানটি পেয়েছিল তুমুল জনপ্রিয়তা। ছবিটিও আকাশচুম্বী সফলতা লাভ করে। আম্মাজান ছবিতে মান্নার মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন শবনম পারভীন। সন্তানের সামনে মায়ের সম্ভ্রমহানি ও তারই প্রতিশোধ নিতে মত্ত থাকা সন্তানের গল্প নিয়ে নির্মিত ছবি ‘আম্মাজান’। মূলত মা ও নারীর প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শনের ছবি এটি। আরও অভিনয় করেছেন মৌসুমী, আমিন খান, ডিপজল প্রমুখ। 


খাইরুন সুন্দরী 


এ কে সোহেল পরিচালিত ‘খাইরুন সুন্দরী’ ছবিটি ২০০৭ সালে মুক্তি পায়। ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন মৌসুমী। তার স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফেরদৌস। এই ছবিটি রেকর্ড পরিমাণ ব্যবসা করে। একইসঙ্গে ছবিতে মমতাজের গাওয়া ‘খাইরুন লো’ শিরোনামের গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। ছবির গল্পটি ছিল একজন নারীর প্রতি তার স্বামীর ভালোবাসা ও বিশ্বাস নিয়ে। গ্রামীণ নারীরা পুরুষতান্ত্রিক সমাজে কেমন করে স্বামীর ভালোবাসাবঞ্চিত হয়ে করুণ পরিণতি বরণ করে নেয়, তারই একটি গল্প ছিল এখানে। এই ছবিতে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য মৌসুমি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।


মাতৃত্ব 


‘মাতৃত্ব’ ২০০৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি। পরিচালনা করেছেন জাহিদ হোসেন। একজন নারীর জীবনের সার্থকতা মাতৃত্বে। ছবির নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মৌসুমী। তার বিপরীতে ছিলেন হুমায়ুন ফরীদি। এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেই হুমায়ুন ফরীদি সেরা অভিনেতা শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।


ম্যাডাম ফুলি 


‘ম্যাডাম ফুলি’ মুক্তি পায় ১৯৯৯ সালে। শিমলা অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ম্যাডাম ফুলি। ছবিটির পরিচালক ছিলেন শহীদুল ইসলাম খোকন। এই চলচ্চিত্রে শিমলা ও ফুলি দুটি চরিত্রে অভিনয় করে তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। তিনিই প্রথম অভিনেত্রী যিনি তার অভিষেক চলচ্চিত্রেই শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এ ছবিটিও ছিল একটি নারীপ্রধান গল্পের।