ভারতের প্রথম অস্কাজয়ী জয়ী ভানু আথাইয়া আর নেই

Vhanu
‘গান্ধী’ মুভি সংশ্লিষ্ট সাথে অস্কারজয়ী ভানু আথাইয়া
হিন্দি চলচ্চিত্রের কস্টিউম বিভাগে বিপ্লব এনেছিলেন এই ফ্যাশন ডিজাইনার। ভানু ১৯৮৩ সালে অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস জিতেছিলেন রিচার্ড অ্যাটেনবরো পরিচালিত ছবি ‘গান্ধী’র কস্টিউম ডিজাইনের জন্য। পঞ্চাশের দশক থেকে প্রায় ১০০টিরও বেশি ছবিতে কাজ করা ভানু কেরিয়ারের গোড়াতেই গুরু দত্তের টিমে যোগ দেন।

বলতে বলতে না ফেরার দেশে চলে গেলেন ভারতের প্রথম অস্কারজয়ী ভানু আথাইয়া। বৃহস্পতিবার ভোরে ঘুমের মধ্যেই মারা গিয়েছেন ৯১ বছর বয়সি ভানু, জানিয়েছেন তাঁর মেয়ে রাধিকা গুপ্ত। নিউমোনিয়ায় ভুগছিলেন তিনি। আট বছর আগে তাঁর ব্রেন টিউমর ধরা পড়ে। গত তিন বছর ধরে শয্যাশায়ী ছিলেন ভানু, শরীরের এক অংশ প্যারালাইজড হয়ে গিয়েছিল। দক্ষিণ মুম্বইয়ে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। খবর আনন্দবাজারের।

 

ফ্যাশন ডিজাইনার ভানু ১৯৮৩ সালে অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস জিতেছিলেন রিচার্ড অ্যাটেনবরো পরিচালিত ছবি ‘গান্ধী’র কস্টিউম ডিজ়াইনের জন্য। পঞ্চাশের দশক থেকে প্রায় ১০০টিরও বেশি ছবিতে কাজ করা ভানু কেরিয়ারের গোড়াতেই গুরু দত্তের টিমে যোগ দেন। ‘সিআইডি’ ছিল তাঁর প্রথম ছবি। এর পরে একে একে ‘পিয়াসা’, ‘কাগজ কে ফুল’, ‘সাহেব বিবি অওর গুলাম’, ‘তিসরি মঞ্জিল’, -এ তাঁর কাজ নজর কাড়তে শুরু করে। নার্গিস তাঁর কাজ পছন্দ করতেন ব্যক্তিগত ভাবে।

 

‘গাইড’-এ ওয়াহিদা রহমান, ‘সত্যম শিবম সুন্দরম’-এ জিনাত আমন কিংবা ‘আম্রপালী’-তে বৈজয়ন্তীমালা তাঁর পোশাকেই অমর হয়ে রয়েছেন পর্দায়। দু’বার জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছেন ভানু, ‘লেকিন’ ও ‘লগান’ ছবির জন্য। ‘গান্ধী’ ছবির জন্য প্রথম অস্কারজয়ী ভারতীয় হিসেবে নজির সৃষ্টি করেন শিল্পী। হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কস্টিউম বিভাগের উপেক্ষিত হওয়ার কথা ধরা পড়েছিল তাঁর কলমে। বিদেশ থেকে কেনা পোশাক দিয়ে কস্টিউ‌ম ডিজাইন করার বিরোধিতা করেছেন ভানু তাঁর ‘দি আর্ট অব কস্টিউম ডিজাইন’ বইতে। ছবিতে তাঁর শেষ কাজ ছিল ‘স্বদেশ’।

 

১৯২৯ সালে মহারাষ্ট্রের কোলাপুরে ভানু আথাইয়ার জন্ম। তাঁর পুরো নাম ভানুমতী অণ্ণাসাহেব রাজোপাধ্যায়। ১৯৫৬ সালে ‘সিআইডি’র মধ্য দিয়ে বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে কস্টিউম ডিজাইনার হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। ১৯৮২ সালের ‘গান্ধী’তেই মেলে কর্মজীবনের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি।

 

অস্কার জয় করলেও ২০১২ সালে অস্কারের স্মারক একাডেমি অব মোশন পিকচার্সকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন ভানু। কারণ হিসেবে তিনি বলেছিলেন, এই স্মারকের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারছেন না তিনি। অস্কার ছাড়াও ‘লেকিন’ (১৯৯০) ও ‘লাগান’ (২০০১) ছবির জন্য দুবার জাতীয় পুরস্কারও জিতেছিলেন তিনি। ‘স্বদেশ’ তাঁর শেষ সিনেমা। আনন্দবাজারের বিশেষ প্রতিবেদন অনুসারে, হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কস্টিউম বিভাগের উপেক্ষিত হওয়ার কথা তুলে ধরেছিলেন ভানু। তাঁর ডিজাইন করা পোশাকে ধরা পড়েছে ইতিহাসের নানা বাঁক।

 

ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকতে ভালোবাসতেন ভানু। বড় হয়ে মুম্বইয়ের জেজে স্কুল অব আর্টে পড়াশোনা করেন। ফাইন আর্টসে স্নাতক হন। শিল্পশৈলীর স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছিলেন স্বর্ণপদক। ‘ত্রিকাল’ সম্পাদকের অনুরোধে ড্রেস ডিজাইনিং শুরু করেন। সেখানেই তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায়। অভিনেত্রী নার্গিস, কামিনী কৌশল ও পরিচালক গুরু দত্ত তাঁর কাজের গুণগ্রাহী ছিলেন। নার্গিস তাঁকে রাজ কাপুরের সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দেন।