আজ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে  বইমেলা! 

আজ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে  বইমেলা! 
ছবি: সংগৃহীত
‘নো মাস্ক-নো এন্ট্রি’ শ্লোগানে আয়োজিত হতে যাচ্ছে এবছরের বইমেলা। বৈশ্বিক মহামারী করোনার কারণে এর সংক্রামণ ঠেকাতেই এমন আয়োজন।  নেয়া হয়েছে তিন স্তরের নিরাপত্তা।  প্রবেশ পথেই থাকবে ‘নো মাস্ক-নো এন্টি’ সম্বলিত লোগো।

প্রতিবছর ফেব্রুয়ারির ১ তারিখ থেকে শুরু হয় অমর একুশে বইমেলা। চলে মাস জুড়ে।  কিন্তু করোনার দাপট যখন বিশ্বজুড়ে তখন অনিশ্চয়তার মধ্যেই পরে গিয়েছিলো ২০২১ এর বইমেলা।  অবশেষে সকল জল্পনা-কল্পনা ছাপিয়ে আজ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে অমর একুশে বইমেলা।   

 


বইমেলার ৩৭ তম আসর বসতে যাচ্ছে এবছর। তবে এবছরের বইমেলা একটু বিশেষ তো বটেই। মুজিব বর্ষ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বলে কথা। বাংলা একাডেমি আয়োজিত অমর একুশে বইমেলা ২০২১ উৎসর্গিত হচ্ছে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের স্মৃতির উদ্দেশে।

 


বিকেল ৩টায় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি বইমেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবছরের বইমেলার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী’। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২০ প্রদান করা হবে। 

 


 ‘নো মাস্ক-নো এন্ট্রি’ শ্লোগানে আয়োজিত হতে যাচ্ছে এবছরের বইমেলা। বৈশ্বিক মহামারী করোনার কারণে এর সংক্রামণ ঠেকাতেই এমন আয়োজন।  নেয়া হয়েছে তিন স্তরের নিরাপত্তা।  প্রবেশ পথেই থাকবে ‘নো মাস্ক-নো এন্টি’ সম্বলিত লোগো। 

 বইমেলা ১৯ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। আর  ছুটির দিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার। 

 


এবার বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এবং ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় ১৫ লাখ বর্গফুট জায়গায়। একাডেমি প্রাঙ্গণে ১০৭টি প্রতিষ্ঠানকে ১৫৪টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৩৩টি প্রতিষ্ঠানকে ৬৮০টি ইউনিট; মোট ৫৪০টি প্রতিষ্ঠানকে ৮৩৪টি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মেলায় ৩৩টি প্যাভিলিয়ন থাকবে।

 


সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকবে। অমর একুশে বইমেলা ২০২১-এর প্রচার কার্যক্রমের জন্য একাডেমিতে বর্ধমান ভবনের পশ্চিম বেদিতে ১টি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৩টি তথ্যকেন্দ্র থাকবে। সাংবাদিকদের অবাধ তথ্য আদান-প্রদানের সুবিধার্থে বইমেলায় মিডিয়া সেন্টার থাকবে তথ্যকেন্দ্রের উত্তর পাশে। 

 


বর্তমান সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ ধারণার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই কর্তৃপক্ষ বইমেলায় তাদের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন, তথ্যকেন্দ্রের সর্বশেষ খবরাখবর এবং মেলার মূল মঞ্চের সেমিনার প্রচারের ব্যবস্থা করবে। এমনকি মেলায় ওয়াইফাই সুবিধাও থাকবে।

 


১৯ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল ২০২১ পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৪টায় বইমেলার মূল মঞ্চে সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন বিষয়কেন্দ্রিক আলোচনার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবর্ষ উদযাপন এবং গত এক বছরে প্রয়াত বিশিষ্ট জনদের জীবন ও কৃতি নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া মাসব্যাপী প্রতিদিন সন্ধ্যায় থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, এই অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিদিনই রয়েছে কবি কণ্ঠে কবিতাপাঠ এবং আবৃত্তি।

 


ফেব্রুয়ারি পার করে সময়সীমা মার্চে গড়ালেও বইমেলা নিয়ে মানুষের উৎকণ্ঠার অন্ত নেই।  বরং প্রতিবারের তুলনায় এবছর মানুষের আগ্রহ একটু বেশিই। দীর্ঘ সময়ের অনিশ্চয়তার পর আয়োজিত হতে যাচ্ছে একুশের বইমেলা।