পোশাকের কারণে মন্দিরে নিষেধাজ্ঞা কি আদৌ যুক্তিযুক্ত?

পোশাকের কারণে মন্দিরে নিষেধাজ্ঞা কি আদৌ যুক্তিযুক্ত?
ছবি : সংগৃহীত
স্থান অনুযায়ী পোশাক পরিধানে কিছু সামাজিক নির্দেশনা থাকলেও লিখিতভাবে সাধারণত পোশাক নির্বাচনে তেমন নিষেধাজ্ঞা থাকেনা। তবে ভারতের কর্ণাটকে দেখা গেছে এর এক ভিন্ন রূপ। কর্ণাটকের মন্দিরে ঢুকতে নারীদের পোশাকের ব্যাপারে নতুন সরকারি নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। কর্ণাটকের দক্ষিণ কন্নড় জেলার ২১১টি মন্দিরের উপর নজরদারি চালায় সরকারি পর্ষদ ‘কর্ণাটক স্টেট ধার্মিক পরিষদ’। মন্দিরে পোশাক তারাই এই প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। 

পোশাক প্রতিটি মানুষের বাহিরের আবরণ। একজন মানুষের স্বাধীনমতো পোশাক বাছাই করার ও পরার অধিকার রয়েছে। পাশাপাশি সেই পোশাকে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ানোর অধিকার রয়েছে। স্থান অনুযায়ী পোশাক পরিধানে কিছু সামাজিক নির্দেশনা থাকলেও লিখিতভাবে সাধারণত পোশাক নির্বাচনে তেমন নিষেধাজ্ঞা থাকেনা। তবে ভারতের কর্ণাটকে দেখা গেছে এর এক ভিন্ন রূপ। কর্ণাটকের মন্দিরে ঢুকতে নারীদের পোশাকের ব্যাপারে নতুন সরকারি নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। কর্ণাটকের দক্ষিণ কন্নড় জেলার ২১১টি মন্দিরের উপর নজরদারি চালায় সরকারি পর্ষদ ‘কর্ণাটক স্টেট ধার্মিক পরিষদ’। মন্দিরে পোশাক তারাই এই প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। 

 

কর্ণাটকের মন্দিরে ঢুকতে এখন থেকে নারীদের পোশাকের ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। কোনো মন্দিরে জিন্সের প্যান্ট পরে নারীদের মন্দিরে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, বিজেপি শাসিত রাজ্যের মন্দিরগুলোতে নজরদারি চালায় যে সরকারি ধর্মীয় পরিষদ, তারা বলেছে, মন্দিরে প্রবেশ করতে হলে নারী এবং পুরুষ নির্বিশেষে যথাযথ ‘হিন্দু ধর্মের পোশাক’ পরতে হবে। বিশেষ করে নারীদের নিজেদের শরীর যথাযথ ভাবে ঢাকতে হবে। অন্যথায় মন্দিরে প্রবেশ করা যাবে না।

 

কর্ণাটকের দক্ষিণ কন্নড় মন্দিরের প্রশাসনিক সদস্য পুরোহিত হরিনারায়ণ আশ্রনা মন্দিরে প্রবেশে নারীদের পোশাক নিয়ে বলেছেন, নারীদের ক্ষেত্রে হিন্দু পোশাক শাড়ি হলেই সবচেয়ে ভালো।

 

কেবল যে শাড়ি পরলেই হবে তা নয়, শাড়ি কিভাবে পরতে হবে তা নিয়েও নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেছেন, শাড়ি এমনভাবে পরতে হবে যাতে মহিলাদের বক্ষদেশ যথাযথ ভাবে ঢাকা পড়ে। জিন্স পরে কোনোভাবেই মন্দিরে প্রবেশ করতে দেয়া যাবেনা নারীদের। তবে মজার বিষয় হলো মন্দির প্রবেশে পুরুষদের পোশাক কী হবে, তা এখনও ঠিক হয়নি। বিষয়টি আপাতত আলোচনাধীন।

 

‘কর্ণাটক স্টেট ধার্মিক পরিষদ’ এর বক্তব্য হলো, মন্দিরে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত। বিষয়টি বাধ্যতামূলক করতে তাই দক্ষিণ কন্নড়ের প্রতিটি মন্দিরে ব্যানার ঝোলানোর নির্দেশও দিয়েছে তারা। নারীদের বিষয়ে এমন নির্দেশনা দেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। কেউ কেউ বলছেন, এ যেন দুইশ’ বছর আগের ভারতে বাস করছি।

 

মন্দির হলো একটি পবিত্র স্থান। এখানে অনেক মানুষ আসে। বিভিন্ন বয়সের, বিভিন্ন এলাকার মানুষ এখানে আসে। নারীদের পোশাকের ওপর এমন নিষেধাজ্ঞা সেখানে নারী স্বাধীনতায় কতটুকু ভূমিকা রাখছে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। 

 

মন্দির হলো রাষ্ট্রীয় সম্পদ। এখানে প্রবেশের অধিকার সবার রয়েছে। একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশে কেবল পোশাকের কারণে নারীদের প্রবেশে বাধা দেয়া কতটুকু যুক্তিযুক্ত তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। মন্দিরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বজায় রাখতে দর্শনার্থীদের ওপর এই বোঝা চাপানো মোটেও যুক্তিযুক্ত নয়। পোশাকই কি একজন মানুষ কোথায় যাবে না যাবে তা নির্ধারণ করে দিবে? তাহলে কি শাড়ি পরলেই সেই নারী পুণ্যবান আর জিন্স পরলেই সে খারাপ নারী হয়ে যাবে?

 

পোশাক কখনোই ব্যক্তিসত্তার পরিচয় হতে পারেনা। পোশাকের কারণে কাউকে বেধে রাখা মোটেও যুক্তিযুক্ত নয়। ভারতের এই নারীবিদ্বেষী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সকল নারীদের আওয়াজ তোলা উচিত।