কোথায় তাদের মুক্তি!

কোথায় তাদের মুক্তি!
ছবি : সংগৃহীত
গত আট মাসে সারাদেশে ৮১৩ জন নারী ধর্ষণ ও ১১২ জন কন্যাশিশু যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সম্পাদক নাছিমা আক্তার জলি গত বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আব্দুস সালাম হলে ‘কন্যাশিশুর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন ২০২১’ এর প্রতিবেদন তুলে ধরেন। সেখানে গত আট মাসের যে শুধু ধর্ষণ আর যৌন হয়রানির খবর এসেছে তা নয়,  বরং এই সময়ে ১৪০ জন নারী অপহরণ এবং  পাচার হয়েছে বলেও তথ্য আসে।  

সেই কবে থেকে নারী লাঞ্ছনার যুগ চলে আসছে। কতবার এ সমাজের নিয়ম বদলেছে,  ধরণ বদলেছে।  প্রগতিশীলের তালিকায় সমাজের নাম এসেছে কতবার। উন্নতির কত রূপ, কত ধাপ পেরিয়ে এসেছে এই সমাজ। শুধু এখনো নারী লাঞ্ছনার দৃশ্য গুলো বদলায়নি এতটুকু। ধর্ষণ, যৌন হয়রানি,  শিশু নির্যাতন,  নারী পাচার এসব থেকে যেন নারীদের মুক্তির কোনো পথই নেই। দিনকে দিন এমন সব লাঞ্ছনার মাত্রা বেড়েই চলেছে। 

 

এইতো কদিন আগের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে গত আট মাসে সারাদেশে ৮১৩ জন নারী ধর্ষণ ও ১১২ জন কন্যাশিশু যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সম্পাদক নাছিমা আক্তার জলি গত বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আব্দুস সালাম হলে ‘কন্যাশিশুর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন ২০২১’ এর প্রতিবেদন তুলে ধরেন। সেখানে গত আট মাসের যে শুধু ধর্ষণ আর যৌন হয়রানির খবর এসেছে তা নয়,  বরং এই সময়ে ১৪০ জন নারী অপহরণ এবং  পাচার হয়েছে বলেও তথ্য আসে।  

 

দেশে জাতীয় পত্রিকা গুলোর পাতা উল্টালেই ধর্ষণের খবর থাকে। এমনো অনেক খবর থাকে যা একজন মানুষ হিসেবে আপনাকে মানসিকভাবে আহত করার জন্য যথেষ্ট।  গৃহবধূ নির্যাতনের মত ঘটনাও এ সমাজে কম নেই। এ স্তরে আবার প্রায়ই দেশের শিক্ষিত প্রথম সারির মানুষদেরও দেখা যায়।  যারা বাইরে সভ্য মানুষের মুখোশ পরে থাকলেও ঘরে নিজের স্ত্রী বা নারীদের আসলে কতটা সম্মান করেন তা বড্ড সন্দেহজনক। 

 

বিগত বছরগুলোর হিসেবের দিকে তাকালে, এমন নারী লাঞ্ছনার হার যে কেমন হুঁ হুঁ করে বাড়ছে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকবে না। ফোরামের সম্পাদক নাছিমার দেওয়া তথ্য মতেই , ২০১৬-২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে ২৬ হাজার ৬৯৫টি ধর্ষণ মামলা হয়েছে। ২০২০ সালের আগস্ট থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ১ হাজার ২৫৩ জন কন্যাশিশু বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে। 

 

নারীদের প্রতি এমন লাঞ্ছনার অবসানে, শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণ ঘটনাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সময়ে বিচার শেষ করা, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, কন্যাশিশু নির্যাতনকারীদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া বন্ধ করা, পৃথক অধিদপ্তর গঠন, বাল্যবিয়ে বন্ধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো ইত্যাদি  নানান কার্যক্রমও করা হয়। তবে তাতে খুব লাভজনক কোনো ফল মিলে তা বলা যায়  না। 
দেশের, সমাজের এমন নারীদের জন্য নিরাপত্তাহীন চিত্র শুধু প্রশ্ন রেখে যায়, কোথায় নারীদের এসব লাঞ্ছনা থেকে মুক্তি মিলবে? প্রশ্ন রেখে যায় কোথায় তারা নিরাপদ?  কিংবা আদৌও কোনোদিন এ সমাজ তাদের জন্য নিরাপদ হয়ে উঠবে কিনা?