করোনা পরবর্তী সময়ে চাই ব্যক্তিগত আর্থিক ব্যবস্থাপনা

প্রতীকী ছবি
পয়সা বাঁচানো' মানে 'পয়সা আয়' করা। আরেকটা কথা বলে শেষ করি, সামনের দুবছর ভোগের নয় দেওয়ার সময়। সম্ভব হলে অন্যদের সাহায্য করবেন।কারণ দানে কমে না, দানে আনে।

গত কয়েকদিন ইন্টারনেটে কিছু আর্টিকেল পড়লাম। বিষয় করোনা পরবর্তী সময়ের আর্থিক মন্দা। সবাই আশংকা করছেন ১৯৩০ এর পর পৃথিবী সবচে বড় আর্থিক দুরবস্থায়  পড়তে যাচ্ছে। এটা আগামী দুবছর চলতে পারে। এ সময় আমাদের মতো সাধারণ মানুষের আর্থিক পরিকল্পনা কি হওয়া উচিত, সে ব্যাপারেও অনেক আলোচনা হয়েছে। সব মিলিয়ে আমি এ ব্যাপারে সাধারণ কিছু ধারণা  তৈরি করেছি।  সেগুলো হলো,

 

১. ক্রেডিট কার্ড অবশ্যই পরিত্যাজ্য। এর সুদের হার ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। মানে যে জিনিস আপনি ক্রেডিট কার্ডে ১০০ টাকায় কিনছেন, তার আসল দাম পড়ছে ১৩০ টাকা। তা আবার চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়তে থাকে। তার মানে ৩০ ভাগ সুদ বেড়েই চলে। এজন্যই মিনিমাম পেমেন্ট করে যারা ক্রেডিট কার্ডে লোন রেখে দেন, তাঁদের পাওনা কমে না বললেই চলে।  এছাড়া আছে বার্ষিক ফি, লেইট ফি। এসময়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে যতো ফিচার পড়লাম, সবাই ক্রেডিট কার্ডকে বর্জনকে এক নম্বরে রেখেছেন। ( কেউ কেউ অবশ্য অতি সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে বলেছেন।)

 

২. যা কিনবেন,নগদ টাকায় কিনুন। বাকিতে নয়।  নগদ টাকায় কিনলে 'টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে' এ সাইকোলজিক্যাল ফিলিংটি কাজ করে। যা অযথা ব্যয় থেকে আমাদের রক্ষা করে। বাকিতে কিনলে যেহেতু টাকা তাৎক্ষণিকভাবে হাতছাড়া হয় না, তাই খরচ করতে মন খচখচ করে না। ক্রেডিট কার্ডেও এটা প্রযোজ্য।

 

৩. সুপারশপ নয় ছোট মুদি দোকান/ কাঁচা বাজার থেকে কিনুন। সুপারশপের এস্টাবলিশমেন্ট খরচের কারণে যেকোনো জিনিষের দাম বেশি থাকে। তাছাড়া করোনার দুর্যোগে সুপারশপগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। বরং তাদের বিক্রি বেড়েছে।মাঠে মারা পড়েছেন ছোট দোকানিরা। আপনি ওখান থেকে কিনলে টাকাও বাঁচবে, ওই সব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হবেন।

 

৪. বিদ্যুৎ/ মোবাইল ফোনের খরচ কমান। পারলে গাড়ির তেল খরচও কমান। রেস্টুরেন্টে খাওয়া কমিয়ে দিন। বাড়িতেও খাওয়াদাওয়ার বাহুল্য কমিয়ে দেয়াই ভালো।

 

৫. খুব দরকার না হলে নতুন জামাকাপড়/জুতো না কেনাই ভালো।

 

৬. বিলাস দ্রব্য বর্জন করুন। আগামী দুবছর দামি ব্রান্ডের দোকানে যাওয়ার সময় নয়, টিকে থাকার সময়।

 

৭. ফার্নিচারে আরো পাঁচ/দশ বছর যাবে, ওগুলো না বদলানোই ভালো।

 

৮. ছোটবেলায় মায়েরা মুষ্টিচাল বাঁচাতেন, আসুন আমরা প্রতিদিন অন্তত একশো/দুশো টাকা বাঁচাই।

 

৯. কোন রোগী দেখতে গেলে ফলমূল নয়, নগদ টাকা নিয়ে যান।

 

১০.ভুলেও না বুঝে শেয়ার মার্কেটে যাবেন না। পুরো দুনিয়ায় এ মার্কেট ঘুরে দাঁড়াতে অনেক সময় নেবে।

 

১১. বড় কোন সামাজিক অনুষ্ঠান না করাই ভালো। আগামী দুবছর এগুলো করে অপচয় করার সময় না।

 

১২. সুদ/ লাভ যুক্ত ঋণ নেবেন না। এটা বড় ধরণের দায় হয়ে দাঁড়াবে।

 

১৩. যতটা সম্ভব সঞ্চয়ে হাত দেবেন না। যা আয় সে অনুযায়ী বাজেট করুন। আমাদের বুঝতে হবে, যে  টাকা মার্কেট থেকে পালিয়েছে তা ফিরিয়ে আনতে অন্তত দুবছর সময় লাগবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।  তাই সামনের দুবছর কঠোর সংযম ও দূরদর্শিতা দেখানোর সময়।

 

মনে রাখবেন, পয়সা বাঁচানো' মানে, পয়সা আয় করা। আরেকটা কথা বলে শেষ করি, সামনের দুবছর ভোগের নয় দেওয়ার সময়। সম্ভব হলে অন্যদের সাহায্য করবেন।কারণ দানে কমে না, দানে আনে।

 

ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন।