করোনায় মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে বিশ্ব

করোনায় মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে বিশ্ব।
করোনা ভাইরাসের কারণে দিন দিন মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। পাশাপাশি বাড়ছে মানসিক দুশ্চিন্তাও। আর এর জন্য সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকাকেই দায়ি করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকানোর জন্য প্রায় পুরো বিশ্বজুড়ে চলছে লকডাউন। এতে থমকে গেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতির চাকা। ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে মানুষ। আর এতে বাড়ছে মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি। বৃহস্পতিবার একটি গবেষণায় বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছেন, করোনা ভাইরাসের কারণে গভীরভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য। পাশাপাশি বাড়ছে মানুষের দুশ্চিন্তা।

 

লেনসেট সাইকেট্রি জার্নালে প্রকাশিত ওই গবেষণায় ২৪ সদস্যের বিশেষজ্ঞ প্যানেল এমন পরিস্থিতিতে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণায় আরো বেশি অর্থায়নের জন্য আহ্বান জানান। পাশাপাশি করোনা ভাইরাসের কারণে মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়ে বিভিন্ন দেশের সরকারগুলোকে আরো বেশি কাজ করার আহ্বানও জানান তারা।

 

যুক্তরাজ্যের তিন হাজার মানুষের ওপর চালানো জরিপের মাধ্যমে এই গবেষণাটি করা হয়। যেখানে দেখা গেছে করোনা ভাইরাসের কারণে দিন দিন মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। পাশাপাশি বাড়ছে মানসিক দুশ্চিন্তাও। আর এর জন্য সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকাকেই দায়ি করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞরা জানায়, লকডাউন উঠে গেলেও করোনার কারণে মানুষের মনে তৈরি হওয়া আতঙ্কের প্রভাব ভবিষ্যতেও থাকবে।

 

এ বিষয়ে গবেষণাটির প্রধান লেখক উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি বিভাগের শিক্ষক এমিলি হোমস বলেন, আমরা একটি অভূতপূর্ব অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে চলছি এবং আমাদের জীবনধারার বড় পরিবর্তন এসেছে।

 

গবেষণায় করোনা ছাড়াও সার্স মহামারির সময়ের মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকির দিকটিও তুলে ধরা হয়েছে। গবেষণায় বলা হয়, ২০০০ সালে সার্স মহামারির সময়ে মানুষের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গিয়েছিল। আর করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্বের শত শত কোটি মানুষ ঘরবন্দি হয়ে সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকায় এসময় মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি আরো বেশি বলে দাবি করেন বিশেষজ্ঞরা।

 

ওয়ার্ল্ড ও মিটারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২০ লাখ ৮৩ হাজার ৩৩ জন। মারা গেছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬০৩ জন।