নারী-পুরুষ বৈষম্য : বাবা-মা কতটা দায়ী?

নারী-পুরুষ বৈষম্য : বাবা-মা কতটা দায়ী?
ছবি: সংগৃহীত
গোলাপি মেয়েলি-রঙ ভেবে ছেলের জন্য কোনোদিন গোলাপি শার্ট বা টি-শার্ট কেনেন নি। যা  থেকে আপনার ছেলে সন্তান জেনে গেছে যে গোলাপি রঙ শুধু মেয়েদের জন্য।  কিন্তু রঙের ব্যবহারে কোথাও তো এমন কথা বা নিয়ম করা ছিলোনা। ছোট বাচ্চা ছেলেটার পুতুল দেখে ভালো লেগেছে বলে আপনি তাকে বলেছেন হয়তো, 'পুতুল নয় বাবা ,তুমি একটা বল নাও। ছেলে বাবুরা কি পুতুল খেলে?'

বাবু জন্মের পর বাসায় তেমন কোনো ছেলে ছিলোনা৷ মা ও বাসার অন্যান্য মেয়েদের সাথে থাকতে থাকতে ওর আগ্রহ তৈরি হয়েছিলো মেয়েদের সাজগোজের জিনিসে, পুতুলখেলায়। আর প্রতি-বেলায়ই বাবুকে বাঁধা দেওয়া হত এগুলো মেয়েদের জিনিস, পুতুল খেলা মেয়েদের খেলা। বছর পাঁচেক পর বাবুর ছোটবোন আসলো। আর বোনের আগ্রহ হত বাইরে বের হয়ে ভাইয়ের সাথে, তার বন্ধুদের সাথে খেলার। কিন্তু ভাইয়ের এককথা। মেয়েরা আবার বাইরে খেলতে যায়!


কখনো ছোটবোন বাবুর খেলার বলে হাত দিয়েছে বলে বাবু বলেই বসলো বল কি মেয়েদের খেলা? বৈষম্যতো এখানেই শুরু। তারপর তা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে সমাজের আনাচে-কানাচে ।এই বৈষম্যের জন্য কি তবে বাবা মা দায়ী? দৃঢ় গলায় এখন যদি  'হ্যাঁ'  বলা হয় তবে বাবা মায়েরা হয়তো বেশ খানিকটা অবাক হবেন এই ভেবে যে আপনি কিভাবে আপনার সন্তানের মধ্যে বৈষম্য-পূর্ণ মনোভাবের জন্য দায়ী?

 

গোলাপি মেয়েলি-রঙ ভেবে ছেলের জন্য কোনোদিন গোলাপি শার্ট বা টি-শার্ট কেনেন নি। যা  থেকে আপনার ছেলে সন্তান জেনে গেছে যে গোলাপি রঙ শুধু মেয়েদের জন্য।  কিন্তু রঙের ব্যবহারে কোথাও তো এমন কথা বা নিয়ম করা ছিলোনা। ছোট বাচ্চা ছেলেটার পুতুল দেখে ভালো লেগেছে বলে আপনি তাকে বলেছেন হয়তো, 'পুতুল নয় বাবা ,তুমি একটা বল নাও। ছেলে বাবুরা কি পুতুল খেলে?'

 

আর সেদিন আপনার ছেলে জেনে গেছে পুতুলখেলা শুধু মেয়েদের জন্য।  আর মেয়ের হাতে তুলে দিয়েছেন রঙবেরঙের পুতুল। পুতুল খেলতে খেলতে ছোট্ট মেয়েটি জেনে গেছে তার জীবন মানেই পুতুলের মতই ঘর সংসার যত্নে সামলে রাখা। কোন একদিন হয়তো ছেলেকে গল্প শুনিয়েছেন একটা লাল টুকটুকে বউ এনে দেওয়া হবে। বউ তাকে সেবা যত্ন করবে। কিংবা আপনার বাচ্চার সামনেই স্ত্রীকে প্রতিদিন শুধু ঘরের কাজের ত্রুটি আওড়ে গেছেন বা ঘর সংসার সামলে রাখই তার কাজ এমন উক্তি করে গেছেন। আর আপনার সন্তান জেনে গেছে মেয়েদের কাজ ঘর সামলানো।

 

এভাবেই একটু একটু করে আপনার সন্তানের মধ্যে ছেলে ও মেয়ের বৈষম্য তৈরি হয়ে গেছে। আপনি অসচেতন অবস্থায় যা টেরই পেলেন না। আপনি টের না পেলেও এটাই ঠিক যে এভাবেই অসচেতন ভাবেই আপনিই আপনার ছোট্ট ছেলে বা মেয়েটির মধ্যে নারী পুরুষ বৈষম্য তৈরি করে দিয়েছেন।  তবে এটা যে আপনার অপরাধ তা নয়। আজকের যারা বাবামা তারাও একদিন তাদের বাবামায়ের কাছ থেকে এভাবেই বৈষম্যকে লালন করতে করতে বেড়ে উঠেছে।

 

এখন নানান ক্ষেত্র-বিশেষে কতরকম নারী অসম্মান নিয়ে  আন্দোলন প্রতি বাদ হয়। নারীরা আবার নিজেদের সম্মান অধিকার নিয়ে সোচ্চার হলে 'নারীবাদী' বলে আরেকরকম তিরস্কার করে অসম্মান করা হয়। অথচ যদি আমাদের বেড়ে উঠাটা বৈষম্য-পূর্ণ না হত তবে এত এত আন্দোলন,  প্রতিবাদ কিংবা নারী বাদী হওয়ার দরকারই হতনা।

 

প্রথম সন্তানটি ছেলে হোক রোজগার করে সংসারের হাল ধরতে পারবে।  বড় মাছের মাথাটা ছেলেই খাক ও তো বাইরে কাজ করবে।  এমন মানসিকতার সমাজ থেকে যারা বেড়ে উঠেছে তারাও এখন নিজেদের সন্তানের বেলা কিছুটা প্রগতিশীল হলেও পুরোপুরি নির্মূল করতে  পারেনি।  আর সময়টা এখনই এ সমাজকে বৈষম্যহীন করে তোলার। সেই পদক্ষেপও নিতে আজকের বাবা মায়েদের। নিজের সন্তানের মধ্যে বৈষম্যের বিকাশ না ঘটিয়ে তার মধ্যে  বৈষম্যহীন মনোভাব গড়ে দিন। তবেই দিন বদলে যাবে, বদলে যাবে  এই ত্রুটিপূর্ণ সমাজ।