শিশুশ্রম রোধে অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনৈতিক খাতে নজরদারির গুরুত্ব

শিশুশ্রম রোধে অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনৈতিক খাতে নজরদারির গুরুত্ব
ছবি: সংগৃহীত
শিশু শ্রম প্রতিরোধে বাংলাদেশের আইন ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যক্তির জন্য শ্রমঘণ্টাও নির্ধারণ করে দিয়েছে। ১৯৮৬ সালে শিশু শ্রম (রোধ ও নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী , ১৪ বছর পূর্ণ হয়নি এমন ব্যক্তিদের শিশু বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। কারখানা আইন (১৯৬৫) মতে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ১৪ বছরের কমবয়সী ব্যক্তিকে নিয়োগদান নিষিদ্ধ বলা আছে। 

করোনার ভয়াল থাবায় শিশু শ্রমিকদের হার রোজ বাড়ছে। স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় শিশুদের মানসিক বিকাশ হুমকিতে আছে, এক্ষেত্রে শিশু শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ সবচেয়ে বেশি সংকটে। কেননা, মহামারী পরিস্থিতিতে দারিদ্র্যতা বৃদ্ধি, স্কুল বন্ধ ও সামাজিক সেবা প্রাপ্তি কমতে থাকায় পরিবার থেকেই শিশুদের কাজে লিপ্ত করার প্রবণতা বাড়ছে, অল্প মজুরিতে কাজ করানো যায় বিধায় নিয়োগকারীরাও শিশু শ্রমিক নিযুক্ত করছেন।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে,  মহামারীতে অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনৈতিক খাতে কর্মরত মানুষদেরই স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ে সবচেয়ে বেশি।  বাস্তবতা বলে, শিশু-শ্রমিকদের একটি বড় অংশই সচরাচর জড়িত থাকে অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনৈতিক খাতে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, নজরদারি তুলনামূলক কম থাকে বলেই অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনৈতিক খাতে শিশুশ্রমের মাত্রা বেশি ঘটে।

 

শিশু শ্রম প্রতিরোধে বাংলাদেশের আইন ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যক্তির জন্য শ্রমঘণ্টাও নির্ধারণ করে দিয়েছে। ১৯৮৬ সালে শিশু শ্রম (রোধ ও নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী , ১৪ বছর পূর্ণ হয়নি এমন ব্যক্তিদের শিশু বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। কারখানা আইন (১৯৬৫) মতে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ১৪ বছরের কমবয়সী ব্যক্তিকে নিয়োগদান নিষিদ্ধ বলা আছে। 

 

বাংলাদেশের সংবিধানের ২৮ ধারায় শিশুদের সুবিধাপ্রাপ্তি-সংক্রান্ত বিশেষ বিধান রয়েছে। শ্রম আইন, ২০০৬ অনুসারে, কাজে যোগদানের ন্যূনতম বয়স হচ্ছে ১৪ বছর আর ঝুঁকিপূর্ণ কাজের ক্ষেত্রে তা ১৮ বছর। ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সের মধ্যে হালকা কাজ করলে সেটাকে ঝুঁকিমুক্ত কাজ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা তাদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত সৃষ্টি করে না। 

 

আইএলও ১৯৯২ সালে প্রথম শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালন শুরু করে। সেই অনুযায়ী ২০০২ সালের ১২ জুন থেকে আইএলও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতি বছর ‘শিশু শ্রম প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে দিনটি পালন করে আসছে। ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের শ্রম না করিয়ে তাদের শিক্ষার সুযোগ দান ও অগ্রগতির লক্ষ্যে সচেতনার প্রসারই এই দিবসের লক্ষ্য। বাংলাদেশে শিশুশ্রমকে একটি জাতীয় সমস্যা বলে অভিহিত করা হয়, শিশুশ্রমের হার কমানোতে নেয়া হয় নানা সচেতনতামূলক কার্যক্রম।

 

২০১৯ সালে জাতিসংঘ ২০২১ সালকে ‘আন্তর্জাতিক শিশু শ্রম নিরসন বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করে। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে বাংলাদেশে এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘মুজিববর্ষের আহ্বান, শিশু শ্রমের অবসান’। বাংলাদেশ  সরকার এসডিজি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসন এবং ২০২৫ সালের মধ্যে দেশকে সকল ধরনের শিশুশ্রম হতে মুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সরকার শিশুশ্রম নিরসনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অঙ্গীকারবদ্ধ।

 

শিশুশ্রম নিষিদ্ধ করতে কেবল আইনের উপস্থিতি যথেষ্ট নয়। শিশুশ্রমের হার হ্রাসে সকল প্রকার অর্থনৈতিক খাতে, শিশু শ্রম বিরোধী সুস্পষ্ট, বর্ণনামূলক আইনের সুশাসন একান্ত আবশ্যক।