কতটা নারীবান্ধব এবারের বাজেট?

কতটা নারীবান্ধব এবারের বাজেট?
কতটা নারীবান্ধব এবারের বাজেট?
স্যানিটারি ন্যাপকিনের ভ্যাট কমায় এর দামও কমবে। এতে অনেক দরিদ্র নারীও স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যাবহার করবে। এতে নারীর স্বাস্থ্য ঝুঁকি অনেকটাই কমবে। নারীর জীবনযাত্রার মান বাড়বে। সংসদে অর্থমন্ত্রী জানান, ‘নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে স্যানিটারি ন্যাপকিনের ওপর ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব করছি।’ 

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী। সহজ কথায় বললে বাজেট হচ্ছে রাষ্ট্রের আয় ব্যয়ের হিসাব। দেশের অর্ধেক জনসংখ্যাই নারী। তাই একটি নারীবান্ধব বাজেট কেবল নারীকেই নয়, একটি দেশকেও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। এবারের বাজেটকে নারীবান্ধব বাজেট বলা যেতে পারে।

 

নারীদের অতি প্রয়োজনীয় পণ্য স্যানিটারি ন্যাপকিনের দাম কমবে। বাজেট প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত স্যানিটারি ন্যাপকিনের ওপর প্রযোজ্য ভ্যাট অব্যাহতি থাকবে। এছাড়াও স্যানিটারি ন্যাপকিন ও ডায়াপার উৎপাদনের জন্য কতিপয় কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা দুই বছরের জন্য বাড়ানো হয়েছে। 

 

দেশে উৎপাদিত ৯০ টাকার একটি প্যাকেটে সাড়ে ১২ টাকা শুল্ককর হিসেবে সরকারের কোষাগারে যায়। এর মধ্যে ১০ টাকা ভ্যাট, বাকিটা অন্যান্য কর। ২০০ টাকা খুচরা মূল্যের এক প্যাকেট ন্যাপকিনে ২২ টাকা ভ্যাট ও ৫ টাকা কর আসে। এখন থেকে এই করের হার কমে আসবে।

 

স্যানিটারি ন্যাপকিনের ভ্যাট কমায় এর দামও কমবে। এতে অনেক দরিদ্র নারীও স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যাবহার করবে। এতে নারীর স্বাস্থ্য ঝুঁকি অনেকটাই কমবে। নারীর জীবনযাত্রার মান বাড়বে। সংসদে অর্থমন্ত্রী জানান, ‘নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে স্যানিটারি ন্যাপকিনের ওপর ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব করছি।’ 

 

বর্তমানে দেশে প্রচুর নারী উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে। কিন্তু এসব উদ্যোক্তাদের বেশিরভাগই কাজ করছে অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে। তাদের জন্যও সুখবর এনেছে এবছরের বাজেট। এবার নারী উদ্যোক্তাদের করমুক্ত আয়ের সীমা বর্তমান ৫০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। অর্থাৎ নারী উদ্যোক্তারা ১ বছরে ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করলে কোন কর দিতে হবে না। মূলত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে নারীদের উদ্যোক্তা হতে উৎসাহ দিতে এই প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। এতে করে অনেক নারীই নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়বে বলে আশা করা যায়। এতে করে নারী ক্ষমতায়ন বাড়বে দেশে।

 

একটি দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা এবং টেকসই উন্নয়নে নারীর সুস্থতা ও ক্ষমতায়নের গুরুত্ব অপরিসীম। এবছরের বাজেটে এই দুই বিষয়কে বিশেষ গুরুত্বের সাথে দেখা হয়েছে। আশা করি সামনে এরকমই নারীবান্ধব বাজেট আসবে বাংলাদেশে।