করোনায় নারী পোশাক শ্রমিকদের অবস্থা দূরহ

করোনায় নারী পোশাক শ্রমিকদের অবস্থা দূরহ
করোনায় নারী পোশাক শ্রমিকদের অবস্থা দূরহ
লকডাউনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কারখানা থেকে কর্মী ছাটাই যেন একটি সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তৈরি পোশাক খাতে বেশির ভাগই নারী শ্রমিক হওয়ায় কাজ হারানোর তালিকায় তারাই বেশি। ফলে দিনে দিনে তারা যে আর্থিক স্বাধীনতা অর্জন করছিল, তা এখন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ঘরে বাইরে তাদের ফের নির্ভরতায় পড়তে হচ্ছে। এর ফলে তাদের হয়রানি এমনকি সহিংসতার শিকার হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। 

দেশে করোনা ভাইরাস শনাক্তের ১৪ মাস পূর্ণ হয়েছে। করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকটগুলোর মধ্যে অন্যতম হল অর্থনৈতিক মন্দা। দীর্ঘ এক বছরে অর্থনৈতিক মন্দার সম্মুখীন হতে হয়েছে অনেককেই। আবার অনেকেই হারিয়েছেন চাকরি। এর সবচেয়ে বেশি শিকার হয়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। তাদের মধ্যে নারী পোশাক শ্রমিক অন্যতম। গার্মেন্টস খাতের নারী শ্রমিকদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব রেখেছে করোনা ভাইরাস। 

 

 

লকডাউনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কারখানা থেকে কর্মী ছাটাই যেন একটি সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তৈরি পোশাক খাতে বেশির ভাগই নারী শ্রমিক হওয়ায় কাজ হারানোর তালিকায় তারাই বেশি। ফলে দিনে দিনে তারা যে আর্থিক স্বাধীনতা অর্জন করছিল, তা এখন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ঘরে বাইরে তাদের ফের নির্ভরতায় পড়তে হচ্ছে। এর ফলে তাদের হয়রানি এমনকি সহিংসতার শিকার হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। 

 

 

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এর ২০২০ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, করোনা ভাইরাসের কারণে নারী শ্রমিকদের প্রতি হয়রানি এবং বৈষম্য পরিস্থিতি আগের তুলনায় আরো খারাপ হয়েছে। মজুরি কমে গেছে, তাদের কণ্ঠস্বরও ছোট হয়ে এসেছে। এশিয়ান সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট (এসিডি) নামের একটি প্রতিষ্ঠানের জরিপে বলা হয়েছে, দেশের পোশাকশিল্প খাতে নারীর অংশগ্রহণ কমছে। সার্বিকভাবে পোশাক খাতে যে হারে কর্মসংস্থান হওয়ার কথা, তা হচ্ছে না। করোনার কারণে বেকার হয়ে বাসায় পড়ে আছে অনেক নারী শ্রমিক।

 

 

আবার তৈরি পোশাক কারখানায় অনেক নারী যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে। ‘এস্টেট অব রাইটস ইমপ্লিমেন্টেশন অব ওম্যান রেডিমেড গার্মেন্টস ওয়াকার্স’ শিরোনামের এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বাংলাদেশের পোশাক কারখানায় কর্মরত নারী শ্রমিকদের শতকরা প্রায় ১৩ ভাগ যৌন হয়রানীর শিকার৷ শারীরিক নির্যাতনের শিকার ২০ ভাগ৷ মানসিক নির্যাতনের শিকার ৭১ ভাগেরও বেশি৷ আর এই নির্যাতনকারীর ভূমিকায় শীর্ষে রয়েছেন সুপারভাইজারার৷ নারী শ্রমিকদের ৮৪ দশমিক ৭ ভাগ মৌখিক হয়রানির শিকার হন৷ ৭১ দশমিক ৩ ভাগ শিকার হন মানসিক নির্যাতনের৷২০ ভাগ শারীরিক নির্যাতনের কথা বলেছেন৷ আর যৌন নির্যাতন বা হয়রানির শিকার হন ১২ দশমিক ৭ ভাগ৷ আর এই নির্যাতনের  শতকরা ৫২ ভাগের জন্য তাঁরা দায়ী করেছেন পোশাক কারখানার সুপারভাইজারদের৷ নির্যাতনের শিকার ৩২ ভাগই জানেন না এর বিরুদ্ধে কোথায় অভিযোগ করতে হবে৷

 

 

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মরতদের ৬০ শতাংশই নারী। নারীকে পোশাক কারখানায় নারী হিসেবে নয়, সস্তা শ্রমিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়৷ আর সেই বিবেচনার কারণে নারী নানা ধরনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়৷ নারীদের কর্মসংস্থান হ্রাস পেলে তা কেবল তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নে বাধা সৃষ্টি করবে না, সেই সঙ্গে অভিজ্ঞ, অনুগত ও দক্ষ কর্মীদের ঘাটতিও বাড়িয়ে তুলবে। তাই পোশাক কারখানায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করতে হবে। তাদের প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা যেমন, বেবি ডে কেয়ার সেন্টার এর ব্যবস্থা করতে হবে। উপর মহল দ্বারা নারী হয়রানি বন্ধ করতে হবে। এ বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে নারীকে নিজেকেও। তবেই তৈরি পোশাক কারখানায় নারীর সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ নিশ্চিত সম্ভব হবে।