নারীর প্রতি সহিংসতা: দায়িত্ব নিতে হবে রাষ্ট্রকে 

নারীর প্রতি সহিংসতা: দায়িত্ব নিতে হবে রাষ্ট্রকে 
ছবি: সংগৃহীত
ধর্ষককে নয় বরং ধর্ষণের শিকার হওয়া নারীকেই মুখ লুকোতে হয় আচলে। বরং অপরাধী ভিকটিমকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে, জিম্মি করে রাখে। এমনকি আঙুল তোলা হয় ধর্ষিতার দিকেই। রাষ্ট্রীয়ভাবে নারী নিরপত্তহীনতায় ভুগে।  অধিকাংশ সময়ে নির্যাতিত নারী অভিযোগ দায়ের করতেই অনিরাপদ বোধ করেন।

প্রতি মুহূর্তে ঘরে বাইরে  সর্বত্র নারী শিকার হচ্ছেন   নির্যাতনের।  দিনের পর দিন বেড়েই চলছে নারীর প্রতি সহিংসতা।  নারী নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন কর্মক্ষেত্রে, শিক্ষাক্ষেত্রে, রাস্তা-ঘাটে, এমনকি নিজের পরিবারেও। প্রায় প্রত্যেকটি দিনই খবরের কাগজের কোন এক অংশে উঠে আসে নারীর প্রতি সহিংসতার কোন না কোন লোমহর্ষক ঘটনা। কিন্তু এর শেষ কোথায়? কিভাবে সম্ভব নারীর প্রতি দিনকে দিন বেড়ে চলা এই সহিংসতা প্রতিরোধ করা?  এ দায়িত্ব কার? 

 

অনেক  প্রশ্ন উত্তরের মধ্যে সবার প্রথমে উঠে আসবে রাষ্ট্র।   নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সর্বপ্রথম দায়িত্ব নিতে হবে রাষ্ট্রকেই।  যদিও যুগ যুগ ধরে চলে আসা নারীর প্রতি  এই সহিংসতার বেড়াজাল  ভেঙে দেয়া খুব সহজ কাজ নয়। এজন্য দরকার রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বহুমুখী উদ্যোগ। 

 

নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাগুলো দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় শুধু একটি সংখ্যা হয়ে যায়।যা পরিবারের কাছে ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত সমস্যা হয়ে যায়। দীর্ঘ দিন আইনের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেও সঠিক বিচার পায়না নির্যাতিত নারী। বরং উল্টো সমাজের ভিন্ন চোখের চাহুনি এবং অবহেলায় নিজেকে গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়।  অন্যদিকে আইনের ফাঁক ফোঁকর গলে বেড়িয়ে রাজত্ব করে নির্যাতনকারী। আর দীর্ঘদিন ধরে নারীর প্রতি সহিংসতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধির প্রধান কারণ এটি।  

 

ধর্ষককে নয় বরং ধর্ষণের শিকার হওয়া নারীকেই মুখ লুকোতে হয় আচলে। বরং অপরাধী ভিকটিমকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে, জিম্মি করে রাখে। এমনকি আঙুল তোলা হয় ধর্ষিতার দিকেই। রাষ্ট্রীয়ভাবে নারী নিরপত্তহীনতায় ভুগে।  অধিকাংশ সময়ে নির্যাতিত নারী অভিযোগ দায়ের করতেই অনিরাপদ বোধ করেন।  

 

তাই নারীর প্রতি যেকোনো ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারকে হতে হবে অঙ্গীকারাবদ্ধ। নারী  নির্যাতন প্রতিরোধের লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আন্তরিকতা, দক্ষতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে।

 

নারী ও শিশু নির্যাতন এবং সহিংসতার অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ভাবে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ  নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। নারী নির্যাতনকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি দ্রুত সময়ে কার্যকর করতে হবে। 

 

আমাদের সামাজিক মূল্যবোধ যদি পরিবর্তন না করা যায় তাহলে কেবল আইন দিয়ে বা রাষ্ট্রীয় হাজার উদ্যোগে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করা যাবে না। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নির্যাতনের শিকার নারীকে সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে আনতে পদক্ষেপ নিতে হবে সকলের । চেষ্টা করতে হবে সমন্বিত ভাবে। 

 

প্রত্যেক জায়গায় নারীদের নিজের ওপর নিজের সাহস রাখতে হবে। নারীসহ সবাইকে সচেতন করতে হবে যে নির্যাতনের শিকার হওয়া নারীর নিজের কোন দোষ নয়, বরং নির্যাতনকারীই এর জন্য দোষী। সবাইকে একত্রিত করে চিন্তা ও মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের মাধ্যমে নারীর প্রতি নির্যাতন প্রতিরোধ করতে হবে। পরিবার থেকেই সবাইকে নারীর প্রতি সম্মান-শ্রদ্ধাবোধ শেখাতে হবে। 

 

সর্বোপরি নারীর প্রতি হওয়া সহিংসতা রুখতে প্রধান দায়িত্ব বর্তায় রাষ্ট্রের উপর। কিন্তু তার পরের দায়িত্বটি অবশ্যই চলে আসে সর্ব সাধারণের ঘাড়ে। তাই নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে রাষ্ট্রের সহায়তায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে সম্মিলিতভাবে।