করোনা মোকাবিলায় ট্যালেন্ট ট্রানজিশন-২০২০

করোনা মোকাবিলায় ট্যালেন্ট ট্রানজিশন-২০২০।
দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে তরুণ-সমাজ পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যক্রমগুলোতে পিছিয়ে পড়েছে। তাদের ইতিবাচক প্রতিভা চর্চার জন্য উৎসাহ দিতেই কো-হোস্ট কানাডিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় ইভোল্যুশন-৩৬০ নিয়ে এসেছে 'ট্যালেন্ট ট্রানজিশন-২০২০' শীর্ষক অনলাইন প্রতিযোগিতা প্ল্যাটফর্ম।

বর্তমানে প্রচলিত জীবনধারা থেকে একেবারে ভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে রয়েছে পুরো বিশ্ব, যেখানে করোনা ভাইরাসমুক্ত পৃথিবীর অপেক্ষায় আছে সবাই। যখন প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গা থেকে কোভিড-১৯ মহামারীটি মোকাবিলার চেষ্টায় ব্যস্ত, এমন সময় ইভোল্যুশন ৩৬০ আয়োজন করছে অনলাইন প্রতিযোগিতা 'ট্যালেন্ট ট্রানজিশন-২০২০'। এর উদ্দেশ্য লকডাউনে ঘরে বসে থাকা যুব-সমাজকে সৃজনশীলতা ও মননশীলতা চর্চার দুর্দান্ত সুযোগ করে দেয়ার পাশাপাশি, কোভিড-১৯ এর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তার জন্য তহবিল সংগ্রহ।

 

দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে তরুণ-সমাজ পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যক্রমগুলোতে পিছিয়ে পড়েছে। তাদের ইতিবাচক প্রতিভা চর্চার জন্য উৎসাহ দিতেই কো-হোস্ট কানাডিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় ইভোল্যুশন-৩৬০ নিয়ে এসেছে 'ট্যালেন্ট ট্রানজিশন-২০২০' শীর্ষক অনলাইন প্রতিযোগিতা প্ল্যাটফর্ম।

 

পাঁচটি বিভাগ নিয়ে আয়োজিত এই অনলাইন প্রতিযোগিতায় থাকছে ফটোগ্রাফি, আর্টওয়ার্ক, স্টোরি রাইটিং, মিম মেকিং, আর্টিকেল রাইটিং এর মত বিষয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ। যেখানে বিজয়ীদের জন্য সর্বমোট ৮ হাজার টাকার পুরস্কারের অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিসহ প্রত্যেককে অংশগ্রহণের সার্টিফিকেট, এবং নেটওয়ার্কিংয়ের বিশাল সুযোগও প্রদান করা হবে। প্রতিযোগিতাটির বিচারক হিসেবে ভূমিকা পালন করছেন প্রীত রেজা, সাকিব বিন রশিদ, বেনজির আবরার, এলিটা করিমসহ দেশের বিখ্যাত বেশকিছু জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। স্কুল, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় এর যেকোনো শিক্ষার্থী এখানে অংশগ্রহণ করতে পারবে।

 

২০১৬ সালে যাত্রা শুরু করা একটি তরুণ নেতৃত্ব প্রদানকারী সামাজিক সংগঠন ‘ইভোল্যুশন-৩৬০’। এটি ইউনাইটেড নেশনস মেজর গ্রুপ ফর ইয়ুথ অ্যান্ড চিল্ড্রেনের একটি অফিসিয়াল ওয়ার্কিং গ্রপ, যা স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সংগঠনটি মূলত #HeForShe (হ্যাসট্যাগ হি ফর সি) ক্যাম্পেইন সম্প্রসারণ, নারীর ক্ষমতায়ন, বাক স্বাধীনতা, তরুণদের জন্য জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নেতৃত্বদান, স্বেচ্ছাসেবা এবং দক্ষতা বিকাশের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণে এসডিজি-৫ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি লিঙ্গ বৈষম্যহীন বিশ্ব তৈরি করা। ২০১৮ সালে নেতৃত্ব ও উৎকর্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ ‘ইন্টারন্যাশনাল আর্ক অব ইউরোপ-২০১৮’ এর গোল্ড ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত হয় এই তরুণ নেতৃত্ব প্রদানকারী সামাজিক সংগঠন ‘ইভোল্যুশন-৩৬০’।

 

প্রতিযোগিতাটির সম্পর্কে ইভোল্যুশন-৩৬০'র প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি উপমা আহমেদ জানান, রেজিস্ট্রেশন ফি থেকে সংগৃহীত মোট তহবিলের অর্থ কোভিড-১৯ এ ক্ষতিগ্রস্ত অসহায়দের অনুদান দেওয়া হবে।

 

তিনি আরও বলেন, যেকোন পরিস্থিতিতে তারুণ্যের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই সুন্দর সমাজ, দেশ ও বিশ্ব গঠন করা সম্ভব এবং ইভোল্যুশন ৩৬০ এ লক্ষ্য বাস্তবায়নেই সচেষ্ট। অনলাইনের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতাটি প্রায় পুরো জুন মাস জুড়ে চলছে।

 

প্রতিযোগিতাটিতে অংশগ্রহণের সময়সীমা ২৬ জুন, ২০২০ পর্যন্ত এবং ফলাফল জুলাই এর প্রথম সপ্তাহে ঘোষণা করা হবে। অনলাইন এই উৎসবটিতে দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৪২টি ক্লাব এবং ৩০টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংগঠন, ক্লাব ও স্ট্রেটেজিক পার্টনার হিসেবে কাজ করছে।