করোনায় সংকটে চিকিৎসা ব্যবস্থা

করোনায় সংকটে চিকিৎসা ব্যবস্থা
করোনায় সংকটে চিকিৎসা ব্যবস্থা
সকল রোগীকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে হাসপাতালগুলোর পক্ষে। যে হারে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে সেই হারে কোভিড চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব হয়ে উঠছেনা৷ করোনা চিকিৎসার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হল অক্সিজেনের পর্যাপ্ত সরবরাহ।

বাংলাদেশে করোনা মহামারির প্রাদুর্ভাব অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট দেশে আসায় চলছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। প্রতিদিনই করোনা আক্রান্ত হার ও মৃত্যু হার বাড়ছে। প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ হাজার মানুষ সংক্রমিত হচ্ছেন করোনাভাইরাসে। মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিদিন দুই শতাধিক। করোনা সংক্রমণের হার অতিরিক্ত বৃদ্ধি হওয়ায় দেশে দেখা দিয়েছে চিকিৎসা সংকটের। 

 

সকল রোগীকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে হাসপাতালগুলোর পক্ষে। যে হারে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে সেই হারে কোভিড চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব হয়ে উঠছেনা৷ করোনা চিকিৎসার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হল অক্সিজেনের পর্যাপ্ত সরবরাহ। আবার বেশি সিরিয়াস হলে রোগীকে নিয়ে যেতে হয় আইসিইউতে। কিন্তু বাংলাদেশে এগুলোর ঘাটতি রয়েছে।

 

দেশের শতকরা ৫২ ভাগ কোভিড হাসপাতালে আইসিইউ নেই৷ সংক্রমণ বেড়ে আর অক্সিজেন সংকটে প্রায় প্রতিদিনই করোনায় মৃত্যুর নতুন রেকর্ড তৈরি হচ্ছে৷  দেশে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য ঢাকাসহ সারাদেশে ১০০টি সরকারি হাসপাতাল নির্ধারিত আছে৷ কিন্তু এই হাসপাতালের ৪৮টি হাসপাতালে আইসিইউ আছে, ৫২টিতে নেই৷ আইসিইউ সুবিধা নাই এমন হাসপাতালের ৩৫টিই আবার ঢাকার বাইরের জেলা সদরগুলোতে৷ এদিকে ঢাকার ১৬টি সরকারি কোভিড হাসপাতালের আটটিতেই কোন আইসিইউ বেড খালি নাই৷ বাকি আটটিতে একটি থেকে সর্বোচ্চ পাঁচটি বেড আইসিইউ বেড খালি আছে৷আর এখন সংক্রমণ সারাদেশে সমানভাবেই ছড়িয়ে পড়ছে৷ ফলে ঢাকার বাইরের জেলা এবং গ্রামের করোনা চিকিৎসা বেশি সংকটের মধ্যে আছে৷ অতিরিক্ত বেড বাড়িয়েও রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে জেলা পর্যায়ের হাসপাতাল। 

 

আবার কিছু জেলায় হাসপাতালে আইসিইউ না থাকায় এবং বেডের সংখ্যা অনেক কম হওয়ায় গুরুতর রোগীরা ছুটছেন বিভাগীয় শহরের বড় হাসপাতালে। আবার সরবরাহ সংকটের কারণে এই সরঞ্জাম গুলো দেশের সর্বত্র পৌঁছাতেও পারছেনা। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ কমাতে না পারলে করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবা পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে পড়বে৷ 

 

আবার সরঞ্জাম এর পাশাপাশি রয়েছে চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ানের সংকট। বিপুল সংখ্যক করোনা রোগীর চিকিৎসার জন্য নেই পর্যাপ্তসংখ্যক চিকিৎসক। এমনকি জেলা-উপজেলা পর্যায়ে করোনাসংক্রান্ত সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পরামর্শ সেবা দেওয়ার জন্য নেই কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। সংকট রয়েছে নার্স ও টেকনোলজিস্টেরও। করোনা চিকিৎসায় চিকিৎসকের এই ঘাটতির বিপরীতে দেশের করোনা পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। দেশে করোনা চিকিৎসার জন্য একদিকে চিকিৎসকের অভাব রয়েছে, অন্যদিকে চিকিৎসকরা ব্যাপক হারে আক্রান্ত হচ্ছেন করোনায়। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ২৯৮৭ জন চিকিৎসক, মারা গেছেন ১৬৭ জন। 

 

সরকার এ বিষয়ে কাজ করছে। কিন্তু তৎপরতা বাড়াতে হবে আরো। চিকিৎসক সংকট ও সরঞ্জাম সংকট দুই ঘাটতিই কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে সরকারকে।