বাস্তব জীবনে এক হিমুর বিচরণ

বাস্তব জীবনে এক হিমুর বিচরণ
বাস্তব জীবনে এক হিমুর বিচরণ
মনে প্রশ্ন জাগছে কেন তিনি এত বছর ধরে শুধু হলুদ রঙের সামগ্রী ব্যবহার করেন? কারণ, এই মানুষটি মনে করেন যে রঙ আনন্দ এবং সুখের প্রতীক তা সবসময় সূর্যাস্তের মত উজ্জ্বল হয়ে মানুষের জীবনে থাকা উচিত। আর এই সূর্যাস্তের মত উজ্জ্বলতা মানুষের সামনে তুলে ধরতেই তিনি আজীবন হলুদ রঙ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন। 

হলুদ রঙে অনেকেরই অনেকরকম ভালোলাগা থাকে। এই যেমন কারো ঘরের হলুদ রঙের একটা দেয়াল জুড়ে ভালোলাগা, কারোটা আবার বইয়ের ভাঁজে  কিংবা কাঁচের বোতলে জিইয়ে রাখা কটা হলুদ গোলাপে। সবকিছু ছাপিয়ে এখনো একদল হুমায়ুন প্রিয় মানুষ আছে যাদের হলুদ বলতেই প্রিয় 'হিমু'। আশ্চর্য চরিত্রের হিমু ছন্নছাড়া উদাসীন হয়ে হলুদ পাঞ্জাবি পরে ঘুরে বেড়ায় পথেঘাটে। আর  আশ্চর্য গুণ মাঝে মাঝেই ভবিষ্যৎ বাণী করে মানুষকে চমকে দেন হিমু। হয়তো একারণেই হুমায়ুন প্রিয় বহু যুবক নিজের মধ্যে ধারণ করতে চায় হিমুকে। 

 

 

না আমাদের আজকের বিষয় হিমু নয়। কি অবাক হলেন, তবে হিমুকে নিয়ে কেন এত কথা! বলছি, কাল্পনিক হিমুর মতই বাস্তব জীবনে এক হিমুর বিচরণ চলে আসছে সিরিয়ার বুকে। 

 

আবু জাকের, সিরিয়ার আলেপ্পো শহরে যার বাস। যিনি দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে  হলুদ রঙের পোশাক পরিধান করে আসছেন। তার জুতা থেকে শুরু করে টাই, জ্যাকেট, মাথার টুপি,হাতের ঘড়ি, মোবাইল ফোন, এমনকি তিনি যে মগে করে কফি খান সেটিও হলুদ রঙের। 

 

 

সিরিয়ার এত যুদ্ধ বিধস্ততার মধ্যে এই একটি মানুষ যিনি এখনো সুখী মানুষ হিসেবে ঘুরে বেড়ান সিরিয়ার পথে। আলেপ্পো শহরের সবাই তাকে চেনেন 'Yellow Man' হিসেবে এবং সকলেই তাকে পছন্দ করেন। অনেক সময় যাতায়াত কারীরা তার সাথে সেল্ফিও তোলেন। 

 

 

মনে প্রশ্ন জাগছে কেন তিনি এত বছর ধরে শুধু হলুদ রঙের সামগ্রী ব্যবহার করেন? কারণ, এই মানুষটি মনে করেন যে রঙ আনন্দ এবং সুখের প্রতীক তা সবসময় সূর্যাস্তের মত উজ্জ্বল হয়ে মানুষের জীবনে থাকা উচিত। আর এই সূর্যাস্তের মত উজ্জ্বলতা মানুষের সামনে তুলে ধরতেই তিনি আজীবন হলুদ রঙ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন। 

 

 

আবু জাকেরকে ভালোবেসে মানুষ তার ভাস্কর্যও তৈরি করেছে। মজার ব্যাপার হল সিরিয়ায় তাকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে তুলনা করা হয়। কেননা ডোনাল্ড ট্রাম্পও দেখতে অনেকটা হলুদ বর্ণের।  কিন্তু সুখ ও আনন্দের প্রতীকী রঙ ছড়িয়ে দিতে হলুদ রঙে আবু জাকের  তার থেকেও বেশি শক্তিশালী। 

 

 

তবে দুঃখের বিষয় হল এই, যে প্রতিটি বিষয়েরই দুটো দিক থাকে। একদিকে যেমন ভালোবাসা থাকবে তেমনি অন্য দিকে অপছন্দকারীও থাকবে। সেই সূত্রে ২০১২ সালে কিছু মানুষ যারা আবু জাকেরের এমন লক্ষ্যমাত্রার উপর বিরক্ত হয়ে তার উপর আক্রমণ করে। তাকে কঠোর ভাবে হুমকি দেওয়া হয়  হলুদ পোশাক পরিধান করা বন্ধ করতে। কিন্তু এতে আবু জাকেরকে দমানো যায়নি। তিনি তার লক্ষ্যে অটুট ছিলেন। হলুদ রঙের মধ্য দিয়ে মানুষের জীবনে এক আলোকিত চরিত্র হয়ে বেঁচে থাকছেন রোজ।