দিশার স্বপ্নগুলো পূরণের পথে

দিশা
আর তার ডেলিভারী সুবিধা নিয়ে সবসময়ই তার পাশে ছিল প্রভাতী কুরিয়ার লিমিটেড। তিনি জানান, প্রভাতী কুরিয়ারের ডেলিভারি ম্যান থেকে শুরু করে তাদের পেমেন্ট লেনদেন এর সুবিধা খুবই চমৎকার ; যা তার ব্যবসায়ের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।

ঢাকা শহরের মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা এবং প্রতিনিয়ত নিজের চেষ্টায় নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার অকল্পনীয় দৃষ্টান্ত আজকের নারী উদ্যোক্তা আফরিন দিশা এবং তার স্বপ্নের এঞ্জেল' ক্লজেটবিডি।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে তিনি চাকরী করেছেন গ্রামীনফোন কোম্পানির কলসেন্টারে। এছাড়াও চ্যানেল আই সহ আরো কিছু মিডিয়া হাউজেও কাজ করতেন তিনি। অর্থনীতিতে অনার্স মাস্টার্স করা এই মেধাবী শিক্ষার্থী মাস্টার্স করার পরপরই প্রবেশ করেন একটি স্বনামধন্য মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির ব্রাঞ্চ ম্যানেজার পদে। একসময় বৈশাখী মেলায় নিয়ে আসেন তার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী শাড়ি,ত্রি-পিস। আর তখন থেকেই ব্যবসার স্বপ্ন দেখা শুরু।

 

ব্যবসায়ের শুরুটা মাত্র হাজার টাকায় হলেও এখন ঢাকার মিরপুরে পাশাপাশি ২টি আউটলেট নিয়ে চলছে এঞ্জেল' ক্লজেটবিডি এর পুরো কার্যক্রম। ইন্ডিয়ান-পাকিস্তানী বাহারী পোশাক নিয়ে কাজ করছেন তিনি। পাশাপাশি স্টুডেন্ট বাজেটেও পাওয়া যাবে কুর্তি,দোপাট্টা,প্যান্টসহ নানা পোষাক; স্টুডেন্টদের কথা চিন্তা করেই তাদের জন্য এই আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

 বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে এর জন্য শুরুর দিকে পরিবার থেকে সহযোগিতা না পেলেও এখন নিজের যোগ্যতাকে প্রমাণ করে সেই সহযোগিতাটুকু পাচ্ছেন। শুরুর দিকে ঢাকা শহরের অলিতে গলিতে নিজে গিয়েই ডেলিভারী দিতেন।অনুপ্রেরণার কথা জিজ্ঞেস করতেই তিনি বলেন," আমার প্রয়োজনই অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে সবসময়"। অনলাইন ব্যবসায় তিনি সবসময় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এবং তার ব্যবসায়ের প্রসারে অনলাইন প্লাটফর্ম অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাইতো এই মহামারীর সময়ে খুব একটা ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়নি এই তরুণ উদ্যোক্তা আফরিন দিশার।

 

আর তার ডেলিভারী সুবিধা নিয়ে সবসময়ই তার পাশে ছিল প্রভাতী কুরিয়ার লিমিটেড। তিনি জানান, প্রভাতী কুরিয়ারের ডেলিভারি ম্যান থেকে শুরু করে তাদের পেমেন্ট লেনদেন এর সুবিধা খুবই চমৎকার ; যা তার ব্যবসায়ের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।

 

 বর্তমানে বাংলাদেশের বাইরে ডেলিভারি করলেও তার স্বপ্ন আগামী বছর পর এঞ্জেল' ক্লজেটবিডি' আউটলেট থাকবে লন্ডন,অস্ট্রেলিয়ার মতো বড় শহরে। পাশাপাশি তিনি চেষ্টা করেন সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে। গত লকডাউনে চেষ্টা করেছেন ৩০০ মানুষকে খাবার এবং ১০০ শিশুর জন্য শিশু খাদ্য নিশ্চিত করে সাহায্যের হাতটুকু বাড়িয়ে দেয়ার। এভাবেই সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য তরুণ সমাজ এগিয়ে আসবে এই প্রত্যাশা করেন তিনি। ছোটবেলায় পাইলট কিংবা ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা থাকলেও এখন খুব খুশি নিজের ব্যবসা নিয়ে।নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তরুণ উদ্যোক্তা আফরিন দিশা।