ইচ্ছেমতো যেকোন নারীকে বিয়ে করা যায় যে গ্রামে!

ইচ্ছেমতো যেকোন নারীকে বিয়ে করা যায় যে গ্রামে!
ইচ্ছেমতো যেকোন নারীকে বিয়ে করা যায় যে গ্রামে!
আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি, এখানে এক গ্রামের কালাশ বধূকে ছিনতাই করে নিয়ে যায় অন্য গ্রামের কালাশ পুরুষ। কারণ রীতি অনুযায়ী এই গোত্রে স্ত্রী ছিনতাই করা কোন অপরাধ নয়।  এক্ষেত্রে শুধু বধূর সম্মতি থাকতে হয়। স্থানীয় ভাষায় এই প্রথাকে বলা হয় ঘোনাদস্তুর প্রথা৷ 

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া রাজ্যের চিত্রল জেলার দুর্গম অঞ্চলে বসবাস কালাশ জনগোষ্ঠীর। চোখ ধাঁধানো সুন্দরী নারী, ভিন্নধর্মী সংস্কৃতি আর অসম্ভব সুন্দর প্রকৃতির কারণে এলাকাটি মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রস্থল। 

 


কালাশরা মূলত আলেকজান্ডার দ্যা গ্রেট এর সৈন্যসামন্তের বংশধর। আজ থেকে প্রায় ২০০০ বছর আগে আলেকজান্ডার দ্যা গ্রেট ভারতীয় উপমহাদেশে অভিযানে এসে এই এলাকা জয় করেছিলেন৷ সেলুকাস নামে আলেকজান্ডার এর এক সেনাপতি কিছু সৈন্যসামন্ত নিয়ে পাহাড়ি উপত্যকায় বসবাস শুরু করেন। এবং স্থানীয় মহিলাদের বিয়ে করেন তারা৷ কালাশরা তাদেরই বংশধর। 

 


পরে আলেকজান্ডার সৈন্যসহ গ্রীসে ফেরত চলে গেলেও এরা এখানেই রয়ে যায়। কালাশ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। যদিও এ সংখ্যাটি ধীরে ধীরে অনেকটাই কমে গিয়েছে৷ ভয়ংকর পাহাড়ি ঢালে এদের অতি সাধারণ বসবাস । তবে তাদের রীতিনীতি খুবই অদ্ভুত। এর মধ্যে খুবই প্রচলিত একটি রীতি হচ্ছে ইচ্ছেমতো যেকোন নারীকে বিয়ে করা যায় এ গ্রামে।  

 


এই গোত্রে নারীদের সামাজিক অবস্থান পুরুষদের সমান। তারা ইচ্ছে মতো যেকোনো পুরুষকে বিয়ে করতে পারে। এমনকি তা সম্ভব  বিয়ের পরেও ৷ তবে এক্ষেত্রে একটি মজার আইন রয়েছে। কেউ যদি বিবাহিত নারীকে বিয়ে করতে চায় তবে সেই নারীর বর্তমান সময়ে দেয়া সকল অর্থের দ্বিগুণ পরিশোধ করতে হয় বিয়ে করতে ইচ্ছুক নতুন স্বামীকে।  তবে মুসলিমরা বিয়ে করলে অর্থ পরিশোধের আইন প্রযোজ্য হয়না।  

 


আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি, এখানে এক গ্রামের কালাশ বধূকে ছিনতাই করে নিয়ে যায় অন্য গ্রামের কালাশ পুরুষ। কারণ রীতি অনুযায়ী এই গোত্রে স্ত্রী ছিনতাই করা কোন অপরাধ নয়।  এক্ষেত্রে শুধু বধূর সম্মতি থাকতে হয়। স্থানীয় ভাষায় এই প্রথাকে বলা হয় ঘোনাদস্তুর প্রথা৷ 

 


আফগান ও পাকিস্তানি পুরুষরা এই নারীদের বিয়ে করার জন্য যেন এক পায়ে দাড়িয়ে থাকে৷ কালাশ নারীদের জোরপূর্বক বিয়ে ও ধর্মান্তরিত করে থাকে এমন অভিযোগ রয়েছে পাকিস্তানি ও আফগান পুরুষদের উপর। যদিও কালাশরা নির্ভীক যোদ্ধা জাতি কিন্তু সংখ্যায় কম হওয়ায় তারা তেমন কিছু করতে পারে না।

 


এ সংক্রান্ত গ্রামটির আরো একটি অদ্ভুত রীতি হল, যখন কোন ছেলে কিশোর বয়স থেকে যৌবনে পা রাখে, ছেলেটিকে তখন পুরো গ্রীষ্মকালের জন্য কিছু ভেড়া নিয়ে উঁচু পাহাড়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়৷ গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপ দাহ আর কষ্ট থেকে বেঁচে ফিরতে পারলে বাদুলোক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এই উৎসবে ছেলেটিকে নিজের ইচ্ছেমতো গ্রামের যেকোনো বিবাহিত, অবিবাহিত যেকোনো নারীকে পছন্দ করার সুযোগ দেয়া হয়। পছন্দ করা নারীকে নিয়ে কিশোরকে চলে যেতে হয় গ্রাম থেকে দূরবর্তী কোন নির্জন স্থানে। 

 


কালাশ নারীরা এতোটাই সুন্দরী যে তা বলাই বাহুল্য। প্রকৃতির মতোই যেন সুন্দর তাদের মুখগুলো। তাদের রঙিন পোশাকগুলোও তাদের দ্বিগুণ আকর্ষণীয় করে তোলে। তবে এখানে শুধু ভিন্ন ধরনের সংস্কৃতি আর নারীরাই পরমা সুন্দরী নয়। এই স্থানটির নৈসর্গিক সৌন্দর্যও এককথায় অপূর্ব। বাহারি ফুল আর নামীদামী গাছগাছালিতে ভরা কালাশ ভ্যালী৷  ঠিক যেন ধনসম্পদে ভরপুর এক কল্পনার রাজ্য।

 


এমন গোছানো প্রকৃতি আর সুন্দরী নারী এক দেখাতেই মনে পড়ে যাবে ভূস্বর্গ কাশ্মীরের কথা। বহির্বিশ্ব থেকে এলাকাটি বেশ বিচ্ছিন্ন। এলাকাটি এতই দুর্গম যে বহির্বিশ্বের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব একটা ভালো নয় বললেই চলে। উঁচু উঁচু পাহাড়ের নিচে মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয় সেখানে। পাকিস্তানের অন্য জনগোষ্ঠীর সাথে এদের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি, সভ্যতা  বা সমাজব্যবস্থার সাথে সাদৃশ্য খুব একটা খুঁজে পাওয়া যায় না। 

 


জনগোষ্ঠীটির এমন স্বকীয় কিছু গুণাবলির কারণে কালাশ অধ্যুষিত এ এলাকাটিকে কালাশদেশ ও বলা হয়ে থাকে। ২০০৪ সালে প্রকাশিত মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ রিপোর্ট অনুযায়ী, এশিয়ার সঙ্গে কালাশ উপজাতির জিনগত কোন সম্পর্ক নেই।  মিল আছে শুধু পাশ্চাত্যের ইউরেশিয়ানদের সাথে।