অলস প্রাণী কোয়ালা!

অলস প্রাণী কোয়ালা!
ছবি: সংগৃহীত
একটা কোয়ালা একবারে একটা মাত্র 'জোয়ি'কে বহন করতে পারে। চলুন জেনে আসা যাক 'জোয়ি' কি? কোয়ালার থলের মধ্যে যখন বাচ্চা থাকে সেই বাচ্চাটাকে 'জোয়ি' বলে। এ বিশেষ নামের কারণ হল, কোয়ালার বাচ্চা জন্মের পরে একদম জেলি বিনের মতো দেখতে হয়। তারা তখন চোখে দেখে না, ওদের তখন কানও থাকে না। এইভাবেই তারা মায়ের পেট থেকে বের হয়।

সারাদিন ঘুম ঘুম ভাব, তাই মনে হচ্ছে আপনিই বোধহয় পৃথিবীর সবচেয়ে অলস প্রাণী। যে কিনা বেশির ভাগ সময় ঘুমিয়ে খেয়ে কাটিয়ে দিচ্ছেন।  তাহলে চলুন আপনাকে পরিচয় করিয়ে দেই পৃথিবীর এমন এক প্রাণীর সাথে যে কিনা জীবনের ৯৯% সময় শুধু খেয়ে আর ঘুমিয়েই কাটিয়ে দেয়।  


কোয়ালা এক ধরনের মারসুপিয়াল অর্থাৎ ক্যাঙ্গারুর মতো থলি-যুক্ত স্তন্যপায়ী প্রাণী। কোয়ালার বাসস্থান অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ।সারা পৃথিবীতে  শুধুমাত্র অস্ট্রেলিয়ার পূর্বাঞ্চলেই বাস করে এই প্রাণীটি।  কোয়ালা দেখতে অনেকটা ভাল্লুকের  মতো। ভাল্লুকের মতো দেখতে হলেও এর শারীরিক গঠনে আবার অনেকটা মিল রয়েছে ক্যাঙ্গারুর সাথে। 


যদিও ক্যাঙ্গারুর মতো দেখতে নয় তবে কোয়ালাও ক্যাঙ্গারুর মতো বাচ্চাকে পেটের মধ্যে একটা আলাদা থলেতে বহন করে। এই থলেতেই মায়ের পেটে বাচ্চাটা বড় হয়। মানব শিশুরা মায়ের পেট থেকে বের হয়ে মায়ের কোলে আসে। কোয়ালার বাচ্চারা কিন্তু মায়ের পেট থেকে বের হয়ে এক অর্থে পেটেই থাকে। কোয়ালার পেটে যেই থলেটা থাকে সেই থলেতেই আরও কিছুদিন সময় তাকে কাটাতে হয়। 


একটা কোয়ালা একবারে একটা মাত্র 'জোয়ি'কে বহন করতে পারে। চলুন জেনে আসা যাক 'জোয়ি' কি? কোয়ালার থলের মধ্যে যখন বাচ্চা থাকে সেই বাচ্চাটাকে 'জোয়ি' বলে। এ বিশেষ নামের কারণ হল, কোয়ালার বাচ্চা জন্মের পরে একদম জেলি বিনের মতো দেখতে হয়। তারা তখন চোখে দেখে না, ওদের তখন কানও থাকে না। এইভাবেই তারা মায়ের পেট থেকে বের হয়।


কোয়ালার একমাত্র খাবার ইউক্যালিপটাস গাছের পাতা। কোয়ালার মতো খুব কম স্তন্যপায়ী আছে যারা ইউক্যালিপটাস পাতা হজম করতে পারে, কারণ ইউক্যালিপটাস পাতায় অনেক বিষাক্ত ফেনল ও তারপিন তেল জাতীয় পদার্থ থাকে।

 

 এবার চলুন জানা যাক কোয়ালার অলসতার দিকটি।  অলস এবং ঘুমকাতুরে প্রাণী হিসেবে বিশ্বজুড়ে বেশ ভালোই নামডাক রয়েছে কোয়ালার।  আপনি যদি বিশ্বের অন্যতম ১০ টি অলস প্রাণীর নাম জানতে চেয়ে গুগল মহাশয়ের সহযোগিতা চান তবে তার মধ্যে আপনি  কোয়ালার নামটি প্রথম দিকেই খুঁজে পাবেন। 


কোয়ালা দিনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২২ ঘণ্টাই ঘুমিয়ে কাটায়। সারাদিনের মাত্র দুই ঘণ্টা এরা জেগে থাকে। এই দুই ঘণ্টার মধ্যেই এরা খাওয়া-দাওয়া, চলাফেরা সব শেষ করে। অর্থাৎ দিনের ৯৯% সময় কোয়ালা ব্যয় করে ঘুম ও খাওয়ার জন্য।  তাইতো নির্দ্বিধায় অলসের শিরোমণি বলা যায় কোয়ালাকে।