Skip to content

২৮শে জুন, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার | ১৪ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ইউরোপের সবচেয়ে লম্বা গ্রাম বিটেনবার্গের গল্প

সুইজারল্যান্ডের প্রতি ভ্রমণপিপাসুদের আগ্রহের অভাব নেই। ভ্রমণের তালিকায় সুইজারল্যান্ড দেশটিই সম্ভবত আমাদের তালিকায় সবচেয়ে ওপরে থাকে। কিন্তু সেখানে আদৌ কোথায় গেলে আপনার ভ্রমণ পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে সে বিষয়ে মাথা ঘামায় না কেউ।

সুইজারল্যান্ডে গেলে অন্তত আশপাশের গ্রামাঞ্চলগুলো একবার হলেও দেখে আসা উচিত। না, সব গ্রাম তো আর দেখা সম্ভব হয় না। কিন্তু বিটেনবার্গে অন্তত একবার হলেও আপনাকে যেতে হবে। সমগ্র ইউরোপের সবচেয়ে লম্বা গ্রাম বিটেনবার্গ। তবে শুধু লম্বা বলেই গ্রামটি এত বিখ্যাত নয়। ঝা-চকচকে চারিধারের এই গ্রাম আপনাকে মুগ্ধ করার পশরা সাজিয়ে বসেছে যেন।

ব্যস্ততা কিংবা ভ্রমণের ক্লান্তি যেন বিটেনবার্গে এলেই নিমেষে মিলিয়ে যাবে। এখানে চাইলে আপনি হোটেলেই থাকতে পারেন। তবে পরিবার নিয়ে ঘুরতে এলে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া করার সুযোগ আছে। তাতে অন্তত নিজের মতো করেই থাকার সুবিধা মিলবে।

অবশ্য বাংলাদেশের মতো বাসার সবকিছু নিয়ে আপনাকে অ্যাপার্টমেন্টে উঠতে হবে না। এখানকার অ্যাপার্টমেন্টগুলো যেন আপনাকে সিনেমার পর্দার মুখোমুখি করবে। আসবাবপত্র থেকে শুরু করে দেয়াল, সবকিছুতেই সূক্ষ্ম কারুকার্য করা।

একবার বিটেনবার্গে এলে নির্ভর করতে হবে বাসস্টপের ওপর। বাসস্টপ মানেই কারুকার্যখচিত রট আয়রনের লম্বা চেয়ার। পুরো গ্রাম-জুড়েই সরু আঁকা-বাঁকা পাহাড়ি রাস্তা। আর সেই রাস্তার উল্টোদিকে ঢেউখেলানো সবুজের ওপর যেন নিখুঁত জায়গায় বসানো কাঠের কুঁড়েঘর।

আল্পস পর্বতের ওপরে এই গ্রামটি যেন শান্তির নীড়। এমনিতে সবুজের মাঝে মাথা উঁচিয়ে রাখা লগ হাটসগুলো দেখে থাকার ইচ্ছেটা যখন চাগিয়ে উঠছে তখন আপনার মনোযোগ কেড়ে নেবে গায়ে খয়েরি ও কালো ছোপ কাটা গরু আর সাদা পশমের কোট কাটা ভেড়ার পাল। কি নির্লিপ্ত ঢঙে তাদের চলন।

প্রথমেই আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আস্তে আস্তে এগিয়ে যেতে দেখবেন। আকাশ কতদূর গিয়ে মিলিয়েছে তা মাপতে গিয়েই আবিষ্কার করবেন বনফুল। আপনি হয়তো তাদের নামটি ঠিক জানেন না, তবুও ধরে নেবেন বনফুল। সবুজ পাহাড়ের গায়ে যেন এই বিক্ষিপ্ত ফুলগুলো নকশা বুনেছে। ইউরোপ সত্যিই জ্যামিতিকভাবে নিখুঁত, সেটা হোক প্রকৃতিতেও।

হয়তো আগ্রহী হয়ে এবার গরু আর ভেড়ার পাল দেখতেই এগিয়ে যাবেন। তখন আবার অবাক হবেন। তাদের গলায় সুদৃশ্য নকশাকাটা ঘণ্টা। দেখতে এত সুন্দর যে নিজের কাছে রাখারও ইচ্ছে হয়। সমস্যা নেই। এরকম ঘণ্টা স্থানীয় দোকানে মেমেন্টো হিসেবে বিক্রি করা হয়। তবে আকারটা একটু ছোট।

এখানে দেখার আছেই পাহাড়ি পথ, আর সবুজ পাহাড়। সবুজ সমতলে পৌঁছেই মনে হবে একবার শরীরটা এলিয়ে দেই। তবে এখানকার সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা অবশ্যই এর মেঘের শহর। এখানে একটি প্রসিদ্ধ স্কি রিসোর্ট আছে। তবে এই স্কি করার জন্যেও তো কিছুটা প্রস্তুতি দরকার। সেই প্রশিক্ষণটা শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত হয়তো স্কি আপনায় টানবে না।

ভাগ্য ভালো হলে পাহাড়ের ফাঁক দিয়েই নজর কাড়বে ল্যাম্পপোস্টের মতো ভার্টিক্যাল রঙধনু। কয়েক মাইল হেটে গেলেই পাহাড়ের গুহাতেই এক বিশাল জলপ্রপাত। পাথুরে শরীরে পানির আঘাতে প্রতিধ্বনি ছড়াচ্ছে। চলাফেরার জন্যে এখানে কিছু কৃত্রিম ব্যবস্থা আছে। এই গুহাটির গুরুত্ব একটু বিশেষই। সেন্ট বিয়াটাস নামে এক প্রসিদ্ধ সন্ন্যাসী এখানেই ধ্যান করতেন নাকি। গুহাটি তার নামেই করা।

এখানে এলে যদি টুরিস্ট স্পট খোঁজেন তাহলে জুম ফ্রাও, মাউন্ট টিটলিস, আর হ্যারি পটারের সেই বিখ্যাত হলবার্গে ঘুরে আসতে পারেন। আবহাওয়া যদি খারাপ না থাকে তাহলে ঘুরে আসা কঠিন কিছু হবে না।

একমাত্র এখানেই সবুজ আর তুষারশুভ্রতা হাত ধরাধরি করে বেঁচে আছে। সুইজারল্যান্ডে স্নিগ্ধ এক সপ্তাহ কাটাতে চাইলে বিটেনবার্গে আসতেই হবে আপনাকে।

অনন্যা/এআই