শনিবার,১৮ নভেম্বর ২০১৭
হোম / ফিচার / আলোকিত কবিতা খানম: নির্বাচন কমিশনে প্রথম নারী
০৩/০২/২০১৭

আলোকিত কবিতা খানম: নির্বাচন কমিশনে প্রথম নারী

-

যে-কোনো রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক উন্নয়নের জন্য নারীর ক্ষমতায়নের বিকল্প নেই। বাংলাদেশে সরকারপ্রধান এবং প্রধান বিরোধী দলীয় নেত্রী নারী হলেও আদতে দেশের শাসনতন্ত্রে নারীর অংশগ্রহণের পাল্লাটা এখনো বেশ হালকা। নির্বাচন কমিশনে নারী কমিশনারের সংখ্যার ঘরে শূন্য এতদিন ধরে দেশের নারী জাগরণের শেষে প্রশ্নবোধক চিহ্ন বসিয়ে এসেছিল। তবে সেই আক্ষেপ দূর করেছেন কবিতা খানম। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নারী নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন এই অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ।

কবিতা খানমের জন্ম ১৯৫৭ সালে নওগাঁ জেলায়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি সম্পন্ন করা এই নারী ১৯৮৪ সালে বিসিএস জুডিশিয়াল ক্যাডার হিসেবে রাজশাহী মুন্সেফ কোর্টে যোগ দেন। ১৯৯৪ সালে যুগ্ম জেলা জজ এবং ২০০০ সালে অতিরিক্ত জেলা জজ হিসেবে পদোন্নতি পান তিনি। ২০০৬ সালে জেলা জজ হিসেবে নিয়োগ পেয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীতে কর্মরত ছিলেন তিনি। গেল বছরের জুনে রাজশাহী জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন ত্রিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিচারিক কার্যে নিয়োজিত অভিজ্ঞ এই ব্যক্তি। ৩১টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠকের পর রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ খান পরবর্তী নির্বাচন কমিশনে যে চূড়ান্ত তালিকা নিশ্চিত করেন তাতে গত ফেব্রুয়ারির ৬ তারিখে দেশের প্রথম নারী নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান কবিতা।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে ১১জন এবং নির্বাচন কমিশনার পদে ২৩ জন নিয়োগ পেলেও এদের মধ্যে কেউ নারী ছিলেন না। বহু বছর ধরে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কিংবা সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে একজন নারী নিয়োগ পেলেও দেশের অন্যতম প্রধান সাংবিধানিক সংস্থা ছিল একেবারে নারীহীন! এর নেপথ্যের কারণ যাই হোক না কেন তা যে এতদিন দেশের নারী-পুরুষের সাম্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এসেছে এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। তবে সরকার, জনপ্রশাসন, সংসদ, বিচারালয় কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়সহ নানা ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ধারাবাহিকতায় প্রথমবারের মতো নারী নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের এই উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। কবিতা খানমের পদাঙ্ক অনুসরণ করে দেশের এমন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় আরো বেশি সংখ্যক নারী উঠে আসবেন বলে এখন আশা করা যায়। আর তা বাস্তবায়িত হলে দেশে সন্দেহাতীতভাবে নারীর ক্ষমতায়ন তথাপি সামগ্রিক উন্নয়ন ঘটবে।

- নাইব রিদোয়ান