রবিবার,২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭
হোম / সম্পাদকীয় / নারী অধিকার: ন্যায্য ও প্রাপ্য
০৩/০২/২০১৭

নারী অধিকার: ন্যায্য ও প্রাপ্য

দয়া বা করুণার ব্যাপার নয়

-

একবিংশ শতাব্দীতে পৌঁছেও আমরা দেখতে পাচ্ছি, নারীর উপর সহিংসতা কমেনি। বিশ্বজুড়ে লিঙ্গবৈষম্য, নারীকে অধিকারবঞ্চিত রাখা ও নারীনিগ্রহের এই চিত্র আমাদের শঙ্কিত করে তোলে। এমন প্রেক্ষাপটে উপস্থিত হচ্ছে নারী অধিকারের প্রশ্নে সোচ্চার হওয়ার দিন। আগামী আট মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বিশ্বের অন্য সব দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে পালিত হবে। নারী ঘরে বাইরে তার প্রাপ্য সম্মান ও মর্যাদা পাক, সর্বত্র নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক, নারী দিবসের প্রাক্কালে আমাদের সেটাই প্রত্যাশা। এই দিবস নারীকে মানুষ হিসেবে বাঁচতে শেখার প্রত্যয়, শক্তি, সাহস এবং প্রেরণার উৎস হয়ে উঠুক।

ঘরে বাইরে নারী যতদিন পর্যন্ত অবমূল্যায়িত হতে থাকবে, প্রকৃত ও পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন ততই বিলম্বিত হবে। সমাজশক্তি ঈপ্সিত মাত্রায় বিকশিত হতে পারবে না। নারীর মেধা, শ্রম, প্রতিভা, নিষ্ঠা, একাগ্রতা কোনো অংশেই পুরুষের চেয়ে কম নয়। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেশি। এটা প্রমাণিত হয়েছে বারবার। তা সত্ত্বেও নারী অধিকার থেকে যাচ্ছে উপেক্ষিত। ইতিহাসের পাতায় চোখ বুলালে আমরা দেখতে পাই, সঙ্গত কারণেই বিশ্বনারী দিবসটি প্রবর্তিত হয়েছিল। ১৯০৮ সালের ৮ মার্চ নিউইয়র্কের দর্জি নারীশ্রমিকরা ধর্মঘট করতে বাধ্য হয়েছিলেন ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে। লিঙ্গবৈষম্যের বিরুদ্ধে নারীশ্রমিকদের সমমজুরি, স্থায়ীকরণ, নির্ধারিত কাজের ঘণ্টা নিশ্চিত করার জন্য ছিল সেই আন্দোলন। বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নে ইতিবাচক অগ্রগতি যে একেবারেই হচ্ছে না, তা নয়। আমাদের প্রত্যাশা, এই ক্ষেত্র ক্রমেই আরো বিস্তৃত হবে। সমাজ, দেশ নারীর ভূমিকা ও অবদানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, সহানুভূতিসম্পন্ন হবে। এটি কোনো করুণা বা দয়ার ব্যাপার নয়। প্রাপ্য ন্যায্যতা ও সমান অধিকার নিশ্চিত করা মাত্র।

জনশক্তি রফতানি খাতে আশার সঞ্চার ঘটেছে বলে সাম্প্রতিক এক সংবাদে জানা গেল। সম্প্রতি ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। ‘নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণে আমাদের করণীয়’ ছিল সেই কর্মশালার বিষয়। মূল প্রবন্ধে জানানো হয়: ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে বিদেশগামী নারীকর্মীর সংখ্যা বেড়েছে ১৪ হাজার ৩৭০। নারী অভিবাসন বৃদ্ধির কী কারণ? মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে নারীশ্রমিকের চাহিদা বেড়েছে বলেই পুরুষের তুলনায় নারী অভিবাসনের হার তুলনামূলকভাবে বেড়েছে।

নিরাপদ অভিবাসনের ক্ষেত্রে ৮টি প্রধান চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে কর্মশালার মূল প্রবন্ধে উল্লিখিত হয়। এগুলো হচ্ছে: চাকরির ক্ষেত্রে কর্মীদের দক্ষতার অভাব, অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ ও বৈধ কাগজপত্র না থাকা, প্রণীত আইন সম্পর্কে অভিবাসীদের ধারণা না থাকা, সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা না-জানা, বিদেশে বাংলাদেশি মিশনের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে অজ্ঞতা, মানসিক প্রস্তুতির অভাব, নিয়োগকৃত দেশের মূল্যবোধ ও সংস্কৃতি সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকা।

বিদেশগামী নারীকর্মীর সংখ্যা যে বাড়ছে, এ সংবাদে আমরা আনন্দিত ঠিকই, তবে শঙ্কার প্রশ্নও আছে। তা হলো, সম্মান ও সম্ভ্রমের প্রসঙ্গ। এছাড়া শ্রমের উপযুক্ত মূল্য পাওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। অতীতের অভিজ্ঞতা সব ক্ষেত্রে মোটেই সুখকর নয়। একশ্রেণির দায়িত্বজ্ঞানহীন মুনাফালোভী দালালের প্রতারণার শিকার হয়েছেন দারিদ্র্যপীড়িত অসহায় নারীরা। সরকারকে আরো সতর্ক, সচেতন হতে হবে এসব ক্ষেত্রে, নজরদারি আরো বাড়াতে হবে। যারা দেশের ইজ্জত ভূলুণ্ঠিত করে, তাদের দিতে হবে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।

তাসমিমা হোসেন