বুধবার,২২ নভেম্বর ২০১৭
হোম / ভ্রমণ / স্বর্গের সিঁড়ি ধরে ফিলিপাইনে
০২/২৬/২০১৭

স্বর্গের সিঁড়ি ধরে ফিলিপাইনে

-

গুহায় ঘুরেছেন কখনো? আদিম মানুষেরা কিন্তু এক সময় গুহাতেই বাস করেছে। গুহার মধ্যে গেলে মাথার উপরে সূর্যটা আপনার চোখ ফাঁকি দেবেনা, তবে শরীরটাও স্পর্শ করবেনা। যেন মাটির আরেকটু কাছে যাওয়া, প্রকৃতির তাপমাত্রাটা আরেকটু প্রগাঢ়ভাবে অনুভব করা – সে এক সম্পূর্ণ ভিন্ন অনুভূতি। গুহায় অবশ্য আপনি একা থাকবেন না কখনো। বাদুর, পাখি, সরীসৃপ কিংবা পোকামাকড় সবই আপনার বন্ধু সেখানে। কিন্তু এই গুহা বাংলাদেশে পাওয়া একটু কষ্টকর। সেই ইচ্ছাপুরন করতে ফিলিপাইন ঘুরে আসতে পারেন।

এই দ্বিপ রাষ্ট্রটির মধ্যে একটি মফস্বল মতো শহর আছে - সাগাদা। করদিলেরা পর্বতের মধ্যে এই ছোট্ট শহরটার মাঝেই আছে ৬০টি গুহা!

গাইডরা মশাল জ্বালিয়ে নিয়ে যাবে গুহার ভিতরে। মশালের আলো আর গুহার চিরস্থায়ী ছায়ার মধ্যেকার কাটাকুটি লড়াইটা একেবারে গ্যালারিতে বসে দেখার মতো দৃশ্য। এই লড়াই দেখতে দেখতেই গুহার গভীর থেকে গভীরতম যায়গায় পৌঁছে যাবেন একসময়।

অদৃশ্য পানির শব্দের মাঝে দেখবেন পাথরের অবাস্তব গঠন। হাজার বছর ধরে এইসব গুহার মধ্যে প্রাকৃতিক ভাবে তৈরি হয়েছে। একদম নিচে গেলে বুক সমান গভীরতার হিমশীতল পুকুর দেখবেন। গাইড ছাড়া ভুল যায়গায় পা ফেলবেন না কিন্তু। অনেক বিপদজনক।

গুহা ছাড়াও এই সাগাদা শহরে আছে বিশ্বখ্যাত ঝুলন্ত কফিন। নামে যা বুঝেলেন সেইটার আক্ষরিক অর্থে না অবশ্য। তবে চুনপাথরের পাহাড়ের মাঝে ফাঁকফোকর দিয়ে কিছু কফিন বের হয়ে থাকতে দেখা যায়। এই এলাকার আদিবাসীরা বিশ্বাস করতো যত উপরে কবর, তত কাছে স্বর্গ। এই দৃশ্য পৃথিবীর আর অন্য কোথাও পাবেন না। সাগাদার বাসিন্দারা গুহার মধ্যেও মৃতদের কবর দিয়ে রাখতেন। গুহার প্রাচীর ঘেঁষে লাইন এর পর লাইন কফিন সাজানো আছে।

কিছু কফিন আবার খোলা অবস্থায় পরে আছে।গাইড বলবে যে চোরে নিয়ে গিয়েছে। সাহসী চোর বটে!

আরেকটি শহর আছে এই সাগাদার পাশে। নাম বানাউএ। করদিলেরা পর্বত সমূহের মাঝেই অবস্থিত। দু হাজার বছর পুরনো ‘রাইসটেরাস’ এর জন্য এই জায়গাটি জগৎখ্যাত। কৃষিতে সেচকাজের জন্য এই এলাকার আদিবাসীরা হাত দিয়ে গড়েছে এই গঠনগুল। অসম্ভব কাজ মনে হওয়ায় এই টেরাসগুলোকে পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য বা স্বর্গের সিঁড়ি বলেও সম্বোধন করে অনেকে।

ইউনেস্কো এই হাজার বছর পুরনো, সমুদ্র থেকে ১,৫০০ মিটার উচ্চতায় মানবসৃষ্ট বিস্ময়কে বিশ্ব হেরিটেজ উপাধি দিয়েছে। দূর থেকে আপনার কাছে এই পাহাড়গুলোকে একটা সবুজের তৈরি অ্যাম্পিথিয়েটার বলে মনে হবে।

এসব ছাড়াও ফিলিপাইনে ঘুরে আসবেন অত্যাধুনিক রাজধানী ম্যানিলাতে। মডার্ন মেট্রোর উজ্জ্বল উদাহরণ। তাছাড়া আকলানের বোরাক সমুদ্র সৈকত, পালাওআনের পাহাড় ঘেরা বালির দ্বীপ, মাক্তান আইল্যান্ডস – আপনাকে দ্বীপরাষ্ট্রের অনেক চমকের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবে। সমুদ্রের তাজা মাছের স্বাদ, ট্রপিক্যাল আবহাওয়া আপনার মন জয় করে নেবে সহজেই।

এই পৃথিবীতে ঈশ্বর কিছু স্বর্গের বাগান বসিয়ে দিয়েছে। ফিলিপাইনের কিছু জায়গা দেখলে ঠিক তাই মনে হবে। প্রকৃতির বিচিত্র এবং অপরূপ এই শোভা উপভোগ করতে পারা আসলেই সৌভাগ্যের ব্যাপার। লম্বা ছুটি পেলে আর পকেট কিছুটা ভারী থাকলে তাই অবশ্যই ঘুরে আসবেন ফিলিপাইনে। স্বর্গের সিঁড়ি ধরে হাটার অভিজ্ঞতা হবে।

* ফিলিপিনো মুদ্রা – এক পেসো পাবেন প্রায় ৫ টাকার বিনিময়ে। তো খরচটা কিন্তু কম নয়। ভ্রমনের আগে অবশ্যই ট্র্যাভেল এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করে যাবেন। গাইডও আগের থেকে ঠিক করে নেবেন ভ্রমনের সুবিধার জন্য।

- মা্হ্জুবাহ নেহরীন সিদ্দিকী