বুধবার,১৬ অগাস্ট ২০১৭
হোম / জীবনযাপন / সম্পর্কে মানসিক নির্যাতন
০২/২৬/২০১৭

সম্পর্কে মানসিক নির্যাতন

-

নারীনির্যাতনের কথা চিন্তা করলে চোখের সামনে ভেসে উঠে ধর্ষণ, এসিড নিক্ষেপ, ভয়াবহ শারীরিক নির্যাতন, খুন, মানবপাচারের মতো অতি ঘৃণ্য কিছু অপরাধ। চিন্তা করে ভয়ে শিউরে উঠে আমরা পরক্ষণেই নিজেকে সান্তনা দেই যে, আমাদের সাথে বা আমাদের পরিচিত কারো সাথে এটি ঘটবে না তাই না? আপনার ধারনা ভুল। কঠিন সত্যি এই যে, এই মুহূর্তে আমার, আপনার পরিচিত অনেকেই মুখ বুজে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এই পৃথিবীতে প্রতিটি মুহূর্তে শত শত নারী নানাভাবে শারীরিক, যৌন, মানসিক, অর্থনৈতিক বা মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।

শারীরিক বা যৌননির্যাতন সহজে চোখে পড়লেও বাকি অত্যাচারগুলো খুব সহজেই দৃষ্টির আড়াল হয়ে যায়। কিন্তু শারীরিক অত্যাচারের মতোই মানসিক অত্যাচার ও মানুষের উপর তীব্রভাবে প্রভাব ফেলতে পারে এবং অনেক সময় নারীরা বছরের পর বছর নির্লিপ্তভাবে এই নির্যাতন সহ্য করে যায়। কখন ভালোবাসা কখনো বা সমাজ কি বলবে এই চাপে তারা মানসিক নির্যাতনকে উপেক্ষা করে হাসিমুখে সংসার করতে থাকে।

মানসিক নির্যাতন নিয়ে কিছু বিশেষজ্ঞ মতামত এখানে দেয়া হলো। নিচের প্রশ্নগুলো পড়ুন আর সঙ্গীর সাথে নিজের সম্পর্ক নিয়ে ভেবে এগুলোর উত্তর খুঁজুন।

সে কি বেশির ভাগ সময় আপনাকে নিয়ে কটাক্ষ করে আপনার কাজ নিয়ে সমালোচনা করে? চিন্তা করে দেখুন তো আপনার চেহারা, চাল-চলন, অভ্যাস বা আপনার কাজকে নিয়ে কি সে প্রশংসা করার থেকে আপনার সমালোচনা বেশি করে?

আপনার কি মনে হচ্ছে, আপনাদের সম্পর্কে আপনার স্বামী বা বয়ফ্রেন্ডের চাহিদাই প্রাধান্য পাচ্ছে আর আপনার চাহিদা বা চাওয়া-পাওয়া ক্রমাগতভাবে পেছনে পরে যাচ্ছে?

আপনার সঙ্গী কি আপনার অনুভূতির ব্যাপারে যত্নশীল নয় বা কোনো ঘটনা ঘটলে আপনার পক্ষের যুক্তি শুনতে চান না?

আপনি আপনার সঙ্গীর সামনে নিজের মতো হয়ে থাকতে ভয় পান? আপনার সঙ্গীর কাছে নিজেকে গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য কি আপনি নিজেকে দমিয়ে রাখছেন?

সঙ্গী যেন মনঃক্ষুণ্ণ না হয় সেজন্য কি বলবেন, কি করবেন, কি পোশাক পরবেন, কোথায় যাবেন- এ-বিষয়গুলো নিয়ে আপনার দুশ্চিন্তা করতে হয়?

আপনার কি নিজেকে মাঝে মধ্যে বন্দি মনে হয়? আপনার কি মনে হয় আপনার জীবনে কখনো কিছু বদলানোর বা উন্নতির জায়গা নেই? আপনি নতুন কিছু করার চেষ্টা করলে আপনার সঙ্গী কি আপনাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে? ছোট কোনো পরিবর্তন আনলেও আপনার সঙ্গী আপনাকে দোষারোপ করে যে, আপনি বদলে বদলে যাচ্ছেন অভিযোগ এনে?

উপরের প্রশ্নগুলোর জবাব যদি হ্যাঁ হয় তাহলে সময় এসেছে কিছু তিক্ত সত্যকে মেনে নিয়ে আপনার জীবন নিয়ে কঠিন কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার। এই ক্ষেত্রে আপনার নিজেকে অনেক সময় অসহায় বা নিরুপায় মনে হতে পারে। দেখা যেতে পারে, আপনার অজান্তেই আপনি আপনার সঙ্গীর দুঃসহ ব্যবহারের জন্য অজুহাত খুঁজছেন। বিশেষ করে যদি আপনার সম্পর্ক অনেকদিনের হয়ে থাকে তখন দেখা যায় ভালো সময়ের স্মৃতি দিয়ে আপনি মন্দ ঘটনাগুলোর স্মৃতিকে ধামাচাপা দিচ্ছেন।

অধিকাংশ মানসিক নির্যাতনকারী প্রথমে আপনার আত্মসম্মানকে নষ্ট করে আপনার পরিত্যক্ত হবার বা একাকিত্বের ভয়কে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে আপনাকে জিম্মি করে রাখে। আপনি যদি নির্যাতিত হন তাহলে সেটিকে সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করুন। নিজেকে দোষী না ভেবে আসল দোষীকে চিনুন। আপনজনদের কাছ থেকে সাহায্য চান। মানসিক নির্যাতনের বেড়াজাল থেকে বেড়িয়ে জীবনে পরিবর্তন আনার প্রথম পদক্ষেপটি আপনাকেই নিতে হবে।

- শায়নাম জাহির