সোমবার,১৮ Jun ২০১৮
হোম / জীবনযাপন / বায়োডেটা তৈরিতে খেয়াল রাখুন
০২/১৫/২০১৭

বায়োডেটা তৈরিতে খেয়াল রাখুন

-

গ্রেজুয়েশন শেষ হলেই শুরু হয় চাকরি খোঁজাখুঁজি। চাকরি পাওয়ার জন্য চাই পূর্ব প্রস্তুতি, আর এই প্রস্তুতির প্রথম ধাপটাই হচ্ছে সঠিকভাবে বায়োডাটা বা সিভি তৈরি করা। কারিকুলাম ভিটা বা সিভি দেখে একজন ব্যক্তির যোগ্যতা সম্পর্কে নিয়োগদাতা প্রাথমিক ধারনা পান আর তার উপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তাকে ইন্টারভিউতে ডাকা হবে কি না। তাই সঠিকভাবে সিভি তৈরি করা ক্যারিয়ারের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ন।

- সিভি শুধু যে আপনার সম্পর্কে তথ্য উপস্থাপন করে, তা কিন্তু নয়। সিভি আপনাকেই উপস্থাপন করে। অনেক সময় অসম্পূর্ণ, অথবা অপ্রাসঙ্গিক তথ্য থাকার কারণে চাকরিপ্রার্থীকে ডাকাই হয় না। কাজেই আপনার সিভি হতে হবে টু-দি-পয়েন্ট যা আপনার সম্পর্কে সঠিক ও দরকারি তথ্যগুলো উপস্থাপন করবে।

- আপনার সিভির সঙ্গে অবশ্যই একটি কাভার লেটার পাঠাবেন। যেখানে আপনি বলতে পারেন সেই পোস্টটা সম্পর্কে, যে পোস্টে আপনি আবেদন করছেন এবং কীভাবে আপনি এই চাকরির বিজ্ঞপ্তি খুঁজে পেলেন। কাভার লেটার খুব বেশি বড় করবেন না, আবার খুব বেশি ছোটোও না।

- ১০-১২ পয়েন্টের ফন্ট ব্যবহার করবেন এবং ফন্ট যেন খুব পেঁচানো ডিজাইনের না হয়। সরল ফন্ট ব্যবহার করুন, যেমন - টাইমস নিউ রোমান, এরিয়াল ফন্ট ইত্যাদি।

- ভদ্র ও সহজ ভাষার ইংরেজি ব্যবহার করবেন। মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাইলে বা গুরুত্বপূর্ণ ইনফরমেশন দিতে সাব-হেডিং বা বুলেট লিস্ট ব্যবহার করুন। হেডিং বা মার্জিনের মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণ খালি জায়গা রাখুন।

- ছোটো ছোটো বাক্য লিখুন এবং পয়েন্ট করে তথ্য উপস্থাপন করুন। লেখার মাঝে বড় ধরনের জায়গা ফাঁকা পড়ে গেলে সেখানে গ্রাফিক ডিজাইন করে দিতে পারেন। এতে আপনার সিভিটি হয়ে উঠবে ব্যতিক্রমী এবং আকর্ষণীয়।

- একটা ভালো মানের সিভি লিখতে গেলে আপনাকে সব দিকে নজর দিতে হবে। সিভির বানান যেন একটাও ভুল না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। ব্যাকরণগত ভুল যেন না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

- অনেকে আছে অপ্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সিভি বড় করেন, এটা কখনোই উচিত নয়। রেফারেন্সসহ জীবনবৃত্তান্ত সর্বোচ্চ তিন পৃষ্ঠা হতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসংবলিত সিভি তৈরি করুন।

- আপনার সিভিটিতে হয়তো ভিন্ন কোনো সেকশন থাকতে পারে। এগুলোকে সঠিক উপায়ে বিন্যস্ত করুন। এই যেমন -
১। নাম ও যোগাযোগ সম্পর্কিত তথ্য;
২। টাইটেল/ভূমিকা;
৩। কাজের অভিজ্ঞতা;
৪। শিক্ষাগত যোগ্যতা;
৫। দক্ষতাসমূহ;
৬। ভাষাসমূহ;
৭। পুরস্কারসমূহ/আগ্রহের বিষয়বস্তুসমূহ;
৮। রেফারেন্স (যদি প্রয়োজন হয়)।

- অনেকেই সিভিতে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করেন। আপনি হয়তো নেতৃত্ব দিতে তেমন পারদর্শি না অথবা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে তেমন সিদ্ধহস্ত নন; কিন্তু সিভিতে ঠিক এর উল্টো লিখে রেখেছেন। ইন্টারভিউ বোর্ডে আপনাকে পর্যবেক্ষণের সময় কর্তৃপক্ষ যখন এই ব্যাপারটা বুঝতে পারবেন, তা আপনার জন্য মোটেও সুবিধের হবে না।

- সিভি যদি মেইল করে পাঠান, তবে ভালো করে মেইল পাঠানোর ঠিকানাটা চেক করে নেবেন। সাবজেক্ট-এর ঘরে কোন পোস্টের জন্য আবেদন করছেন তার উলে­খ থাকতে হবে। আর মেইলের বডিতে ভদ্রভাবে সম্বোধন করে আপনার মেইল এটাচমেন্টটা চেক করবেন এবং সবার শেষে ধন্যবাদান্তে আপনার নাম উলে­খ করবেন।

- রঙিন বা এয়ারমেইল জাতীয় খামে সিভি পাঠানো উচিত নয়। সতর্কতার সঙ্গে সমান ভাঁজ করে নিতে হবে আপনার সিভিটি, যেন খামের ভেতর উল্টোপাল্টাভাবে ভাঁজ হয়ে না থাকে।

- ফাবিহা ফারজিন