মঙ্গলবার,২২ অগাস্ট ২০১৭
হোম / ফ্যাশন / বাসন্তী সাজে অপরূপা
০২/১০/২০১৭

বাসন্তী সাজে অপরূপা

-

ওরে ভাই, ফাগুন লেগেছে বনে বনে– ডালে ডালে ফুলে ফুলে পাতায় পাতায় রে, আড়ালে আড়ালে কোণে কোণে।

প্রকৃতির আনাচেকানাচে যেমন ফাগুন তার রংতুলি বুলিয়ে যায়, তেমনি মানুষের মনেও লাগে সেই রংয়ের ছোঁয়া। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের মনে এর প্রভাব পড়ে কিছুটা বেশি। তাই বসন্তকে বরণ করে নিতে প্রকৃতির সঙ্গে তারাও সেজে ওঠে বাসন্তী রং-এ।

প্রকৃতির রংয়ের সঙ্গে মিশিয়ে সমসাময়িকভাবে নিজেকে সাজিয়ে তোলা নিয়ে বেশ চিন্তায় থাকেন তরুণীরা, পহেলা ফালগুনের আগে থেকেই। হাল ফ্যাশনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে তোলার জন্যই যত চেষ্টা। তাই এ বছর কি ধরনের সাজ ভালো লাগবে, তা জেনে নেওয়া চাই।

ফাল্গুন মানেই বাসন্তী শাড়ি আর চুলে গাঁদা ফুলের মালা। তবে এই ধারায় কিছুটা পাঁচফোড়ন মেশানো যেতেই পারে।

এবার বেছে নিতে পারেন একরঙা শাড়ি, তবে পাড় হতে পারে বর্ণিল। অথবা কনট্রাস্ট এক রঙের পাড়। শাড়িটা যেহেতু এক রঙের, তাই ব্লাউজটা যেন বেশ বাহারি হয়। এই যেমন, হালকা হলুদ জমিন ও কমলা পাড়ের শাড়ির সঙ্গে বেছে নিতে পারেন লালের উপর হলুদ কমলা প্রিন্টের কাপড়ের ব্লাউজ। অথবা এক রংয়ের ব্লাউজ হলে গলায়, পিঠের নিচের অংশে এবং হাতায় লাগাতে পারেন রঙিন লেইস। এছাড়া হাল ফ্যাশনে প্রিন্টের ব্লাউজ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রিন্টের পাশাপাশি বিভিন্ন রংয়ের বাটিক কাপড়ও বেছে নিতে পারেন ব্লাউজ বানানোর জন্য। তবে শাড়িতে যদি রংয়ের সম্ভার বেশি হয়, তাহলে ব্লাউজ একরঙা হওয়াই গ্রহণীয়।

কমবয়সী মেয়েরা ব্লাউজের গলাটা বড় পরতে পারেন। স্লিভলেস ব্লাউজ পরলে শাড়িটা এক প্যাঁচে না পরাই ভালো। হল্টারনেক, পেছনে কয়েক রঙের ফিতা দেওয়া স্লিভলেস ব্লাউজও পরা যেতে পারে। পয়লা ফাল্গুনে ঘটি হাতা, খাটো হাতার ব্লাউজের আবেদন তো আছেই। এক প্যাঁচে শাড়ি পরতে চাইলে ঘটি হাতা ব্লাউজই সব থেকে বেশি ভালো লাগবে। বড় গলার ব্লাউজের পিছনে ফিতার সঙ্গে বেঁধে নিতে পারেন ছোট ঝুনঝুনি, কলকা বা পমপম। স্লিভলেস ব্লাউজ পরলে তাজা ফুলের বাজুবন্ধ পরতে পারেন। গলায় বা হাতে যে-কোনো একটি গয়না পরুন। স্লিভলেস পরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করলে ফুলস্লিভ বা ছোট হাতার ব্লাউজ পরা যেতে পারে।

বসন্তের প্রকৃতিতে রংয়ের মেলার সঙ্গে থাকে স্নিগ্ধতা। তাই সাজেও থাকা চাই সেই আমেজ। শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ বা ফতুয়া যাই পরুন না কেন, সাজে যেন দেশিয়ভাব ফুটে ওঠে সেদিকটিও মাথায় রাখা চাই। হাতে কাচের চুড়ি, কপালে টিপ আর মাথায় ফুল, সব মিলিয়ে স্নিগ্ধ আপনি।

যে-কোনো পোশাক পরার স্বাধীনতা থাকলেও বসন্ত বরণে শাড়িই বেশি প্রাধান্য পায়। সুতি, জামদানি, তাঁত বা বাটিক, যে-কোনো শাড়িই বেশ মানানসই এ-উৎসবে। তবে চাইলে একরঙা কাতান, সিল্ক, অ্যান্ডি কটন বা জর্জেট শাড়িও বেছে নিতে পারেন পছন্দ অনুসারে। বসন্ত উৎসবে বাসন্তী রংয়ের পাশাপাশি সবুজ, কমলা, লাল, হালকা হলুদ ইত্যাদি রংগুলোও বেশ উপযোগী।

শাড়ি বা ফতুয়া যাই পরুন না কেন, বসন্তের সাজে কপালে একটি লাল টিপ পরতে ভুললে চলবে না। আর শাড়ি ও কামিজের সঙ্গে হাতে পরুন রেশমি চুড়ি। ফতুয়ার সঙ্গে রংবেরংয়ের ব্রেসলেইট পরে নিতে পারেন। অথবা সুতা বা কড়ির চুড়িও বেছে নিতে পারেন।

গয়নার ক্ষেত্রেও দেশিয় ধাঁচের গয়না বেছে নিতে পারেন। সুতা, কাপড় বা মাটির গয়না বেশ ভালো লাগে। এছাড়া পুঁতির গয়নাও শাড়ির সঙ্গে মানিয়ে যায়। কামিজের সঙ্গে গলায় বড় চেইনের সঙ্গে লকেট পরতে পারেন। অথবা কানে বড় দুল ঝুলিয়ে গলার গয়না তুলে রাখুন। ব্লাউজের গলা বড় হলে গলার অলঙ্কার বাদ দেওয়া চলবে না, সেক্ষেত্রে কানে পরুন ছোট দুল। ছোট গলার ব্লাউজের সঙ্গে কানে বড় দুল পরে গলায় হালকা কিছু পরতে পারেন। কানে ছোট দুল পরে চাইলে গলায় ঝোলাতে পারেন তাজা ফুলের মালা। এক হাতে চুড়ি পরে অন্য হাতে ফুলের মালা পেঁচিয়ে নিন।

রজনীগন্ধা বা গাঁদাফুলের বদলে চাইলে মাথায় জারবেরা, অর্কিড ইত্যাদি ফুলও ব্যবহার করা যায়। অনেকটা সময় তাজা থাকে। তাই দেখতেও ভালো লাগে। ছোট চুল ছেড়ে রাখতে পারেন। আর বড় চুল হলে খোঁপা করে এক পাশে দু’টি জারবেরা গুঁজে নিতে পারেন। লম্বা বেণী করে পেঁচিয়ে নিতে পারেন গাঁদাফুলের মালা।

মেকআপ কতটুকু করবেন এবং কীভাবে করবেন, তা পুরোপুরি ব্যক্তিগত পছন্দের উপর নির্ভর করে। তবে দিনের বেলা ঘুরতে বের হলে অবশ্যই বেশি এসপিএফ যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। নতুবা সারাদিনের আনন্দ মাটি হয়ে যাবে দিন শেষে। আর দিনের সাজ হওয়া চাই ন্যাচারাল। অতিরিক্ত ফাউন্ডেশন বা ভারি বেইস মেকআপ এড়িয়ে চলাই ভালো। চোখে মোটা করে কাজল বুলিয়ে নিন, টেনে আঁকুন আইলাইনার। ঠোঁটে লাল বা মেরুন লিপস্টিক বেশি ভালো লাগবে।

সন্ধ্যায় বের হলে তখন খানিকটা ভারি মেকআপ করা যেতে পারে। খেয়াল রাখতে হবে চোখে যদি বেশি গাঢ় শ্যাডো ব্যবহার করেন, তাহলে ঠোঁটে হালকা রঙের লিপস্টিক লাগালেই ভালো লাগবে। আর ঠোঁটে গাঢ় লিপস্টিক লাগাতে চাইলে তখন চোখের সাজ হতে হবে হালকা। গালে ব্লাশঅন আর অল্প করে হাইলাইটার বুলিয়ে নিন সব শেষে।

সারাদিনের জন্য বের হলে হাই হিল এড়িয়ে আরামদায়ক স্যান্ডেল পরুন। অল্প উঁচু বা ফ্ল্যাট স্যান্ডেল পরলেই হাঁটতে সুবিধা হবে। ঘর থেকে বেরোনোর আগে ছিটিয়ে নিন সুগন্ধি।

সব শেষে বেরোনোর আগে প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস সঙ্গে নিয়ে নিন। এক বোতল পানি, ছাতা, টিস্যু পেপার সঙ্গে রাখা চাই। পাশাপাশি লিপস্টিক, কমপ্যাক্ট পাউডার আর চিরুনিও গুছিয়ে নিন, যেন প্রয়োজনে ব্যবহার করা যায়। সঙ্গে রাখা চাই ছোট একটি আয়নাও। সব শেষে বেরিয়ে পরুন
বন্ধুদের সঙ্গে বসন্ত বরণে।

- বেলা দত্ত