বুধবার,১৬ অগাস্ট ২০১৭
হোম / ফ্যাশন / শাড়িতে কর্পোরেট লুক: ফ্যাশনেবল ও মার্জিত
০২/০৫/২০১৭

শাড়িতে কর্পোরেট লুক: ফ্যাশনেবল ও মার্জিত

-

বর্তমান সময়ে আমাদের দেশের নারীরা ওয়েস্টার্ন পোশাক পরা শুরু করলেও শাড়ির আবেদন সবসময়ই ছিল এবং থাকবে। আজও এটি এদেশের রমণীদের প্রধান পোশাক। শাড়িতে আভিজাত্য আর রকমভেদের যেন শেষ নেই। কটন, তাঁত, সিল্ক, জামদানি, টাঙ্গাইল, শিফন আরও কত কি। বিয়ে, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত কিংবা অফিসিয়াল মিটিং যেন শাড়ি ছাড়া বেমানান। অনেকের কাছে শাড়ি ঝামেলাপূর্ণ মনে হলেও হলেও বেশিরভাগ মেয়েই তা পরা পছন্দ করে। শাড়ি পরতে আমরা নিজেরাই কোনো না কোনো উপলক্ষ বের করে নিই। শাড়ি এখন শুধু ঘরোয়াই নয়, অফিসিয়াল পোশাকও হয়ে দাঁড়িয়েছে।

- অফিসের কোনো পার্টি অথবা কলিগের জন্মদিনে গিয়েছেন, শাড়ি আপনাকে করে দিতে পারে কথা শুরু করার সুযোগ। “আপনার শাড়িটা খুব সুন্দর বা আজ আপনাকে শাড়িতে খুব মানিয়েছে”; শুরু হয়ে যেতে পারে দীর্ঘ ইতিহাস, সঙ্গে অন্যান্য কথাবার্তা। অথবা খুব সাধারণ একটি প্রশ্ন, “শাড়িটা কোথা থেকে কিনেছেন,” আপনাকে করে দেবে অপরিচিত কারও সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ। প্রতিটি শাড়িরই কিন্তু একটা গল্প থাকে। এছাড়া নিয়মিত অফিসে শাড়ি পরলে আপনি নিজেই একটি র্ব্যান্ড হিসেবে আপনার কলিগদের কাছে পরিচিতি পাবেন।

- অফিসে প্রতিদিনের জন্য কটন, কটন সিল্ক কিংবা তাঁত শাড়ির তুলনা চলে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অফিস করার জন্য এগুলো খুব আরামদায়ক। অফিসের কোনো স্পেশাল মুহূর্তে একটু আলাদা দেখার জন্য হালকা কাজের কোনো শাড়ি পরতে পারেন। এটি আপনার প্রতিদিনের শাড়ি পরার একঘেয়েমি কাটিয়ে আপনার লুকে এনে দেবে নতুনত্ব। শাড়ির সঙ্গে মানিয়ে পরে নিতে পারেন চুড়ি, বালা কিম্বা ঝুমকা। শাড়ি আপনাকে মৌসুমের পরিবর্তনের সঙ্গে পোশাকে পরিবর্তন আনার অযাচিত ঝামেলা থেকেও মুক্তি দেবে।

- শাড়ি সব সময়ই ফরমাল পোশাক হিসেবে ধরা হয়। অফিসের কোনো মিটিং কিংবা দেশের বাইরে কোনো অফিসিয়াল কাজে আপনি অনায়াসেই শাড়ি পরতে পারেন। এর জন্য পছন্দসই হালকা রঙের কোনো শাড়ি পরে নিন, সবার চেয়ে আলাদা এবং র্ট্যাডিশনাল দেখাবে। আর একটি বিষয়ে সবাইকে একমত হতেই হবে, গ্রীষ্মকালের জন্য শাড়ি খুব আরামদায়ক একটি পোশাক। গ্রীষ্মকালে শিফন কিংবা কটনের শাড়ি এবং শীতে সিল্কের শাড়ি আপনাকে আরামের সঙ্গে দেবে পরিপূর্ণতা।

- ব্যক্তিগত জীবনে আমরা যেমনই হই না কেন, অফিসের পরিবেশে আমাদের সাবলীল ও আত্মবিশ্বাসী না হলে কর্মক্ষেত্রে উন্নতি আসে না। অফিসে মেয়েদের অনেক প্রতিকূল পরিবেশের মুখোমুখি হতে হয়। এই সময় শুধু অভ্যন্তরীণভাবেই নয়, বাহ্যিকভাবেও প্রস্তুত থাকতে হয়। আর বাহ্যিকভাবে আপনাকে যে কোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রাখতে পারে শাড়ি।

- যেসব মেয়ে অফিসে কাজ করেন, তাদের জন্য সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বিবাহিত মেয়েরা সংসার ও অফিস, দুটো সামাল দিতে হিমশিম খেয়ে যান। তাদের জন্য শাড়ি আশীর্বাদস্বরূপ। এটি সময় বাঁচায় এবং অতিরিক্ত ঝামেলার হাত থেকে মুক্তি দেয়। আপনি যদি খুব চিকন হন কিংবা একটু মোটা, শাড়ির সঙ্গে আপনাকে ফিটনেস নিয়ে চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। এটি আপনার আলমারিতেও বেশি জায়গা নেবে না।

শাড়ি কোনো যুগের ফ্যাশনেই সেকেলে হয়নি। তাই আপনি নির্দ্বিধায় শাড়ি কিনতে পারেন। আর পুরনো শাড়ির বহুমুখী ব্যবহার তো আছেই। পুরনো শাড়ি দিয়ে বানিয়ে ফেলতে পারেন ছোট বাচ্চার পোশাক কিংবা নিজের জন্য কামিজ, কুশন কাভার কিংবা পর্দা। তাই বাসায়-অফিসে শাড়ি পরুন, আত্মবিশ্বাসী থাকুন।

- রাজিয়া সুলতানা