শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / অতি নির্ভরশীলতা যখন একটি ব্যাধি
০২/০২/২০১৭

অতি নির্ভরশীলতা যখন একটি ব্যাধি

-

সমাজবদ্ধ জীব হিসেবে স্বাভাবিকভাবে মানুষ একে অপরের উপর নির্ভরশীল। তবে জীবনে চলার পথে সবসময় একা চলা যেমন সম্ভব নয়, তেমনি সবসময়ই কেউ না কেউ পাশে থাকবে এমন ধারণা করাও ঠিক নয়। এ-ধারণা যখন ব্যক্তির মনোজগতে বদ্ধমূল হয়, তখন তাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ডিপেনডেন্ট পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার’ (ডিপিডি) বলা হয়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করা হলে এক সময় এই মানসিক রোগের জন্য ব্যক্তির পারিবারিক এবং সামাজিক জীবন ব্যাহত হয়।

ডিপেনডেন্ট পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার(ডিপিডি) কী?
দৈনন্দিন জীবনে নানা কাজে মানুষ একে অপরের প্রতি নির্ভরশীল হবে, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু সব কাজেই যখন একজন নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, তবে তাকে প্রাথমিকভাবে ডিপেনডেন্ট পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার বলা যেতে পারে। এর ফলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে সব সময় সব কাজে সাহায্য করতে হয় এবং বাড়তি যত্ন নিতে হয়। ডিপিডি-তে আক্রান্ত ব্যক্তি নির্দিষ্ট কোনো একজন কিংবা একাধিক মানুষের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন এবং বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে, সে বা তারা ছাড়া তার জীবন একেবারেই চলবে না। এক্ষেত্রে ব্যক্তি যার উপর নির্ভরশীল, তার পেছনে সারাদিন আঠার মতো লেগে থাকেন এবং তার সাহায্য ছাড়া সাধারণ কোনো কাজও সম্পাদন করতে পারেন না। শুরুতে স্বাভাবিক হলেও এ ধরনের অভ্যাস ব্যক্তিকে একটা সময় মানসিকভাবে পুরোপরি দুর্বল করে ফেলে, যা পরবর্তী সময়ে নানা সমস্যার জন্ম দেয়।

ডিপিডি’র লক্ষণসমূহ
- এই মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তি প্রাত্যহিক জীবনের সাধারণ সিদ্ধান্তগুলোও আরেকজনের সাহায্য ছাড়া নিতে পারেন না। এক্ষেত্রে পছন্দের মানুষের কাছ থেকে পরামর্শ ও ভরসা না পাওয়া ছাড়া ব্যক্তি কোনো কাজ শেষ করতে পারেন না।
- এ সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তি প্রচন্ডভাবে আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভোগেন। সবসময় নিজেকে নিয়ে সমালোচনা করা, নিজেকে একেবারে ব্যর্থ মনে করা এবং অবসাদে ভোগা এই ডিসঅর্ডারের অন্যতম লক্ষণ।
- ডিপিডিতে ভোগা মানুষটি অন্যের কাছে নিজের মনের ভাব প্রকাশ করতে সব সময় সংকোচবোধ করেন। অনেক সময় গুরত্বপূর্ণ আলোচনায় কোনো বিষয়ে ভিন্নমত থাকলেও তা প্রকাশ করতে পারেন না।
- আক্রান্ত ব্যক্তি অফিস বা পরিবারে কোনো নির্দিষ্ট কাজের দায়িত্ব থেকে সবসময় দূরে থাকেন। তার উপর অর্পিত কাজগুলো শেষ করতে অন্য কারো দ্বারস্থ হন।
- প্রিয়জনের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দ্রুত আরেকজনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়াতে চান এবং নতুন সম্পর্কেও আগের মতো নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।

ডিপিডির কারণ
এই রোগের কারণ স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব না হলেও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা বেশ কয়েকটি প্রভাবকের কথা বলে থাকেন। মূলত জৈবিক কারণ, শৈশবকাল থেকে বেড়ে ওঠার সময়ে নানা সমস্যা এবং জটিল মনস্ত্বাত্তিক কারণে এই মানসিক রোগ হতে পারে। এক্ষেত্রে সন্তান লালন-পালনে অদক্ষতা এবং জিনগত কারণেও এই রোগ হতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।


সমাধান
মানসিক রোগ বলে শুধুমাত্র ঔষধ সেবনে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তবে ডাক্তারের পরামর্শ মতো ঔষধ সেবনে রোগের তীব্রতা কমানো যেতে পারে। এক্ষেত্রে লম্বা সময় ধরে সাইকোথেরাপি একান্ত জরুরি। তবে প্রাথমিকভাবে রোগটি ধরা পড়লে মনোবিদের সাহায্যে তুলনামূলক কম সময়েই চিকিৎসা শেষ করা সম্ভব। এজন্য এ বিষয়ে বেশ অভিজ্ঞ এমন মনোবিদের দ্বারস্থ হতে হবে।

শারীরিক রোগের তুলনায় মানসিক সমস্যার তীব্রতা কোনো অংশে কম নয়। তাই এ ধরনের সমস্যায় পড়লে দ্রুত মনোবিদের সাহায্য নেয়া দরকার। এক্ষেত্রে বন্ধু, পরিবার এবং আত্মীয়-স্বজনের সহায়তাও সমানভাবে প্রয়োজন।

- নাইব