মঙ্গলবার,২২ অগাস্ট ২০১৭
হোম / ফ্যাশন / ম্যানেজেবল হাইহিল
০২/০২/২০১৭

ম্যানেজেবল হাইহিল

-

এই প্রজন্মের সুন্দরীদের সাজপোশাকের তালিকায় থাকে স্টিলেটো। হাই পয়েন্টেড হিল পরে জাম্প করা থেকে শুরু করে পথেঘাটেও চলছে মেয়েরা। বর্তমানে ফ্যাশনে চলছে হাইহিলের বাহাদুরি। কিন্তু সে বীরত্ব অনেকের পায়ে বেশিক্ষণ সয় না। মাসছয়েক হিল পরে দাঁপিয়ে বেড়ানোর পর তুলে রাখতে হয় শখের হিলকে। পা থেকে শিরদাঁড়া পর্যন্ত যে যন্ত্রণা গ্রাস করে সুন্দরীকে, তার থেকে নিস্তার পেতে হিল ত্যাগ করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। তাই ব্যস্ততার মুহূর্তে স্টিলেটো বাদ দিতে হয় নারীদের।

যতই পায়ে ব্যথা হোক না কেন, হাইহিল জুতো কিন্তু নারীর লুকে এক আলাদা গ্ল্যামার যোগ করে। তা সেই সাথে ওয়েস্টার্ন কিংবা বাঙালি, যে সাজই হোক না কেন।

অনেকেই হিল জুতা বেশিক্ষণ পরে থাকতে পারেন না বা হিল জুতা পরে হাঁটতে পারেন না। তবে কিছু বিশেষ নিয়ম মেনে চললে দেখবেন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দিব্যি হিলওলা জুতো ম্যানেজ করতে পারছেন। যেকোনো হাইহিল কেনার আগে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখুন। তাতে আপনাকে সুন্দর তো লাগবেই, সঙ্গে আপনার চলাফেরাও হবে স্ট্রেসফ্রি।

যেকোনো জুতো বা হাইহিল কেনার আগে দেখে নিন তা আপনার পায়ে কতটা ফিট করছে। না হলে সেখানেই আপনি ভুল করে বসবেন। অনেক সময়ই এমন জুতো পছন্দ হয়, যা একটু টাইট বা একটু ঢিলা। ব্যবহার করতে করতে টাইট জুতো আলগা হয়ে যায়, এমনধারা চিন্তাভাবনা অনেকেই করে থাকেন। কিন্তু বাস্তবিক ক্ষেত্রে তা হয় না। পায়ে যদি ফিট না হয়, তবে সেই জুতো না কেনাই ভালো। বিশেষ করে হিল।

জুতো কেনারও সঠিক সময় আছে। সকালের পরিবর্তে জুতো কিনতে যাওয়ার পরিকল্পনা করুন বিকেলবেলায়। এর পিছনে কারণটা হলো, বিকেলের দিকে পায়ের পাতায় একটু ফোলাভাব থাকে। তাই বিকেলে যদি জুতো কেনেন, তা পরলে আপনার পায়ে ভালোভাবে ফিট করবে।

সকলের পায়ের পাতার ধরন এক রকম হয় না। কারও পায়ের পাতায় খাঁজ বেশি থাকে, তো কারও পায়ের পাতা হয় সম্পূর্ণ ফ্ল্যাট। নিজের পায়ের পাতার ধরন সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকুন। ঠিক কোন ধরনের জুতো আপনার পরা উচিত, সে-বিষয়ে জেনে নিন।

বেশি ছুঁচোলো জুতো কিনলে পায়ের আঙুলে কিন্তু বেশ কষ্ট হয়। কারণ বেশি জায়গা থাকে না। তাই গোলাকার জুতো বা পিপ-টো কেনার চেষ্টা করুন সব সময়। ছুঁচোলো জুতোয় কিন্তু হোঁচট খাওয়ার আশঙ্কা অনেকটা বেড়ে যায়।

শুধু পায়ের পাতা নয়, এমন জুতো বেছে নিন, যাতে পায়ের উপরের অংশও বেশ কিছুটা ঢাকা থাকে। শীতকালে সারাদিন হাইহিল বুট পরে থাকলেও বিশেষ সমস্যা হয় না। গরমকালে অ্যাঙ্কল স্ট্র্যাপের জুতো পরতে পারেন। পা যত ঢাকা থাকবে, জুতোর সাপোর্ট তত ভালো হবে।

হিল জুতো মানেই স্টিলেটো নয় কিন্তু। তার বদলে ওয়েজেস ট্রাই করুন। অনেক বেশি আরামদায়ক। আর দিনের শেষে পায়ে ব্যথাও অনেক কম হবে।

পাঁচ ইঞ্চি হিল স্টিলেটো অফিসে পরে এলে বেশ দেখায়। কিন্তু সারাদিন এই পাঁচ ইঞ্চি সামলানো মুশকিল। তাই অফিসে আরো একজোড়া জুতা রেখে দিন। হিল ছাড়া যখন নিজের টেবিলে বসে কাজ করছেন, সেটা পরে নিন। কেউ বুঝতে পারবে না।

প্রথমদিকে হিল জুতা পরলে কোনো অসুবিধা হয় না। কিন্তু গোড়ালির ওপর চাপ পড়ায় ব্যথা শুরু হবেই। তাই এই ব্যথা অন্তত কয়েক ঘণ্টার জন্য এড়াতে ইনসোল ব্যবহার করুন।

হিল পরার জন্য বাজারে ফুট প্যাড কিনতে পাওয়া যায়। ডিম্বাকৃতি সিলিকন জেলের এই ফুট প্যাড জুতোর মধ্যে এমনভাবে রাখুন, যাতে পায়ের বলের নিচে থাকে। এই ফুড প্যাড ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

ডিনার টেবিলের তলায় বা গাড়িতে যাওয়ার সময় বা অফিসে নিজের চেয়ারে বসে জুতা খুলে রাখুন কিছুক্ষণের জন্য। এতে পায়ের বিশ্রাম হবে। আর পেশিরও আরাম হবে।

নতুন জুতো পরার পর অনেকেরই পায়ে ফোস্কা পড়ে। তাই সব সময় সঙ্গে ব্যান্ড এইড আর ইনভিজিবল টেপ রাখুন।

স্বাভাবিকভাবে হাঁটুন। পা ফেলার সময় গোড়ালির অংশ আগে ফেলুন। এতে শরীরের ব্যালেন্স ঠিক থাকবে। কিছুতেই পা ঘষে ঘষে হাঁটবেন না।

হাইহিল পরার পর অনেকে পায়ের পাতা, হাঁটুর ব্যথার সমস্যায় ভোগেন। বাড়ি ফিরে জুতো খোলার পর পা স্ট্রেচ করুন। আঙুল মুড়ে, গোড়ালি ঘুরিয়ে পায়ের হালকা ব্যায়াম করুন।

পায়ের ব্যথা কমাতে সবচেয়ে ভালো কাজ করে সেঁক। ঠান্ডা সেঁক দিতে চাইলে আইসব্যাগ চেপে ধরুন পায়ের পাতায়। অথবা গরম জলে নুন ফেলে পা ডুবিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ।

যদি আপনার নিয়মিত হাইহিল পরার অভ্যাস থাকে, তবে নিয়মিত ফুট মাসাজও কিন্তু জরুরি। বাড়ি ফিরে ফুট মাসাজ করুন। রোজ সম্ভব না হলে মাসে দু’বার অন্তত পার্লারে গিয়ে ফুট মাসাজ করিয়ে নিন।

- নেহেরীন আফনান আহমেদ