রবিবার,২০ অগাস্ট ২০১৭
হোম / ভ্রমণ / সেন্ট মার্টিন-এর বালুকাবেলায়
০১/২৬/২০১৭

সেন্ট মার্টিন-এর বালুকাবেলায়

-

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন। সৈকতে বিস্তৃত নারিকেলবীথি আর সেই সঙ্গে মন মাতানো সূর্যাস্ত, সমুদ্রের গর্জন, ঢেউ খেলানো সমীরণ সব মিলিয়ে অপূর্ব কিছু সময় কাটানোর একটি উপযোগী স্থান। টেকনাফ থেকে প্রায় ৯-১০ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের বুকে এই দ্বীপের অবস্থান। আয়তনে খুব বড় নয় এ দ্বীপ। মাত্র ৮ হাজার বর্গ কিলোমিটার। জোয়ারের সময় এর আয়তন হয়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার বর্গ কিলোমিটার। কোলাহলমুক্ত নির্জনতায় কয়েকটি দিন কাটানো ভীষণ আনন্দদায়ক মনে হবে। কাজেই সেন্ট মার্টিন’স আইল্যান্ড আপনার ভ্রমণের তালিকার বেশ উপরেই স্থান পাওয়া উচিত।

কখন যাবেন
নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি, এর মাঝামাঝি যে-কোনো সময় ঘুরে আসতে পারেন সেন্ট মার্টিন। এটিই মূলত দর্শনার্থীদের জন্য ভালো মৌসুম এবং এই সময় আবহওয়া বেশ উপভোগ্য থাকে। তবুও খোঁজখবর নিয়ে বের হওয়া ভালো। কারণ আকস্মিক সাইক্লোন আঘাত হানতে পারে।

দর্শনীয় স্পটগুলো
দ্বীপটি থেকে দেখার অন্যতম সুন্দর দৃশ্য হচ্ছে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত। খুব ভোরে উঠে দ্বীপটির পূর্ব দিকে এলেই দেখতে পাবেন সূর্যোদয় আর দিনশেষে চলে আসতে পারেন দ্বীপটির পশ্চিম দিকে সূর্যাস্ত দেখার জন্য। গ্রামের মানুষ বেশিরভাগ কাজগুলো করে সকালে ও সন্ধ্যায়। দিনের অন্য সময় তারা মাছ ও ধান শুকোতেই ব্যস্ত থাকে। রাতে আপনি দেখতে পারেন আকাশে তারার মেলা, অবশ্যই তা চাঁদবিহীন রাত হতে হবে।

দ্বীপটির দক্ষিণ দিকে পাবেন পাথর, যা হাজার বছরের পুরানো ও কোরাল দ্বারা গঠিত। পায়ে হেঁটেই আপনি জায়গাটা ঘুরে দেখতে পারেন। ভাটার সময় হেঁটেই ঘুরে আসতে পারেন ছেঁড়া দ্বীপ। পায়ে হেঁটে প্রায় ১.৫ ঘণ্টা লাগবে দ্বীপটি দেখতে। জোয়ারের সময় নৌকায় করে যাওয়া যায়। যাওয়ার সময় সঙ্গে অবশ্যই পানি ও হাল্কা খাবার সাথে রাখবেন। খুব ভোরে ভাটার সময় হেঁটেও ছেঁড়া দ্বীপে যাওয়া যায়। দুপুরের কিছু সময় আগে যখন ভাটা হবে, তখন আবার হেঁটে মূল দ্বীপে ফেরত আসা যায়। এছাড়াও সময় কাটাতে পারেন স্কুবা ডাইভিং করে। দেশের একমাত্র স্কুবা ডাইভিং সেন্টার রয়েছে এখানেই।

কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে সরাসরি সেন্ট মার্টিন যাওয়া যায় না। প্রথমে আপনাকে যেতে হবে টেকনাফ, আবার চাইলে কক্সবাজার থেকেও টেকনাফ আসতে পারেন। সকালে কক্সবাজার থেকে টেকনাফের উদ্দেশ্যে বাস, মাইক্রো, চান্দের গাড়ি ছাড়ে। অনেক প্যাকেজ অফারও থাকে। টেকনাফ থেকে সকাল সাড়ে ৯টায় কয়েকটি জাহাজ ছাড়ে সেন্ট মার্টিনসের উদ্দেশ্যে। এই জাহাজগুলো আবার বিকেল ৩টায় সেন্ট মার্টিন ছেড়ে চলে যায়। এসব জাহাজ অফ-সিজনে (এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) চলাচল করে না। ট্রলারে করে সারা বছরই সেন্ট মার্টিন যাওয়া যায়। শিপের টিকিটের মূল্য আসা-যাওয়াসহ ধরা হয়। টিকিট নেওয়ার সময় ফেরার টিকিট জাহাজগুলো দিয়ে দেয়। মূল জাহাজগুলো হচ্ছে কেয়ারি সিন্দাবাদ: ০১৮১৭ ১৪৮৭৩৫ ও কুতুবদিয়া: ০১৭১৪ ৬৩৪৭৬২।

থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা
মেইন রাস্তার সঙ্গেই আপনি থাকার জন্য পেয়ে যাবেন হোটেল সী হার্ট, বে অফ বেঙ্গল গেস্টহাউস, হোটেল সাদেক, ওশান ভিউ-এর মতো বেশ কিছু গেস্ট হাউস। কিন্তু এখানকার রুমগুলো খুব একটা ভালোমানের নয়। অন্যান্য জায়গায় এধরনের রুমের জন্য ৫০০-৭০০ টাকা লাগে, কিন্তু তারা চেয়ে বসতে পারে ১০০০-১৫০০ টাকা।

কোরাল ব্লু রিসোর্ট: দ্বীপটির একমাত্র টেন্ট রিসোর্ট যা একবারে দ্বীপটির শেষ প্রান্তে অবস্থিত। রিসোর্ট থেকে আশেপাশের মনোরম দৃশ্যের সঙ্গে ছেঁড়া দ্বীপের সৌন্দর্যও বেশ ভালো উপভোগ করা যায়। রিসোর্টটির ভেতরেই আপনি পেয়ে যাবেন ভালো রেস্টুরেন্ট। এখানে সাধারণ খাবারের পাশাপাশি পাবেন গ্রিল করা টাটকা সামুদ্রিক মাছ। আপনার খরচ পড়বে ২০০০-৫০০০ টাকা। যোগাযোগ: ০১৭১৩ ১৯০০০৭

ড্রিম নাইট রিসোর্ট: এই রিসোর্টটি দ্বীপের পশ্চিম দিকে অবস্থিত। এখানে আপনি ফ্যামিলি প্যাকেজ, মিটিং, হানিমুন প্যাকেজ, পিকনিক, সেমিনার জাতীয় যাবতীয় প্যাকেজ সুবিধা পাবেন। এখানেও নিজস্ব রেস্টুরেন্টে খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিদিনের খরচ পড়বে ২০০০-২৫০০ টাকা। যোগাযোগ: ০১৮৭৮ ৫০০২০০, ০১৭১০ ৩৯০২৫১

সীমানা পেরিয়ে রিসোর্ট: যারা একটু কম বাজেটের মধ্যে থাকতে চান, তাদের জন্য এই রিসোর্ট। এখানেও মোটামুটি মানের রেস্টুরেন্ট আছে, যাতে সব রকম খাবার পাওয়া যায়। সাধারণ রুমের জন্য ২০০০ টাকা, কাঠের রুমের জন্য ২৩০০ টাকা ও বাঁশের রুমের জন্য ২৫০০ টাকা পড়বে প্রতিদিন। যোগাযোগ: ০১৮১৯ ০১৮০২৭

বাইরে খেতে চাইলে রাস্তার পাশে পেয়ে যাবেন ছোট ছোট খাবারের দোকান। অসাধারণ ভালো একটি রেস্টুরেন্ট ‘নারিকেল জিঞ্জিরা রেস্টুরেন্ট’, যেখানে আপনি ভালো সামুদ্রিক খাবারের সঙ্গে পাবেন বাঙালি, ইন্ডিয়ান কিংবা চাইনিজ খাবার।

- সুলতানা
ছবিঃ শামসুল আরেফিন আবীর/তানহাজ আহমেদ