বৃহস্পতিবার,২৩ নভেম্বর ২০১৭
হোম / রূপসৌন্দর্য / গোলাপি ঠোঁটের রহস্য
০১/১৯/২০১৭

গোলাপি ঠোঁটের রহস্য

-

দৈনন্দিন সৌন্দর্যের পেছনে আমরা কত সময়ই না ব্যয় করি। ঠোঁটের সৌন্দর্যটাও কিন্তু কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। কত রঙেই না রাঙাই ঠোঁটকে আকর্ষণীয় করে তুলতে। আমাদের শরীরের চেয়ে ঠোঁটের ত্বক তিনগুণ বেশি পাতলা। তাই প্রয়োজন ঠোঁটের বিশেষ যত্ন। কে না চায় সুন্দর, বেবি সফট্ ঠোঁট। আর ঠোঁটগুলো যদি ন্যাচারালি লাল হয়, তবে তো কথাই নেই। এখানে জানানো হোল ন্যাচারালি গোলাপি ঠোঁট পাওয়ার কিছু সহজ টিপস্ঃ

এক্সফোলিয়েট
রোজি ঠোঁটের জন্য প্রথম করণীয় হলো ঠোঁটের ডেড স্কিন পরিষ্কার করা। প্রয়োজনে বাসাতেই বানিয়ে নিতে পারেন স্ক্রাবার। ব্রাউন সুগারের সঙ্গে এক চা-চামচ মধু মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে নিন। মিশ্রণটি হাল্কাভাবে ঠোঁটে ঘষে নিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। এবার উষ্ণ গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। কারও কারও ঠোঁট খুব নমনীয় হয়ে থাকে। একটি পরিষ্কার নরম টুথব্রাশ পানিতে ভিজিয়ে তা দিয়ে ঠোঁট হালকাভাবে ঘষে নিন। সহজেই পরিষ্কার হয়ে যাবে ডেড স্কিন, আর আপনি পেয়ে যাবেন বেবি সফট্ ঠোঁট।

ময়েশ্চারাইজ
আমরা অনেক সময় ঠোঁট ঠিকমত পরিষ্কার করি ঠিকই, কিন্তু ঠোঁটের আর্দ্রতার ব্যাপারটি একদম ভুলে যাই। ঠোঁট পরিষ্কার করার পাশাপাশি এর আর্দ্রতা ধরে রাখাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। কাঁচা দুধে কিছু গোলাপের পাপড়ি দিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে পেস্ট ঠোঁটে লাগিয়ে নিন। সকালে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন। এতে ঠোঁট কোমল থাকবে সারাদিন। অবশ্যই দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ানো থেকে বিরত থাকুন। এটি ঠোঁট ফাটার প্রবণতা বাড়ায়। সিগারেট অথবা নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে থাকুন। এগুলো আপনার ঠোঁট ও স্বাস্থ্যের জন্য খুব ক্ষতিকর।

ফলের রস
স্ট্রবেরি, চেরিফল খেতে কার না ভালো লাগে। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না যে এই ফলগুলোর রং আমাদের ঠোঁটকেও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। স্ট্রবেরি অথবা চেরিফলের রস বের করে নিন। এতে কটন-বল ভিজিয়ে আলতো করে ঠোঁটে লাগিয়ে নিন। স্থায়িত্ব বাড়াতে ওপরে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে নিন। সহজেই পেয়ে যাবেন ন্যাচারাল রোজি ঠোঁট। এছাড়াও ব্যবহার করতে পারেন বিটরুট। প্রথমে বিটরুটের ভেতরের অংশ কেটে নিন। এবার এর রস হালকাভাবে চেপে ঠোঁটে লাগিয়ে নিন। বিটরুটের ন্যাচারাল লাল রং আপনার ঠোঁটকে দেবে অসাধারণ সুন্দর টেক্সচার।

অয়েল ম্যাসাজ
প্রতিদিন কিছু সময় নিয়ে ঠোঁটে অয়েল মাস্যাজ করুন। নানারকম প্রাকৃতিক অয়েল যেমন- কোকোনাট, আমন্ড অথবা অলিভ অয়েল ঠোঁটের জন্য বেশ উপকারী। আমন্ড অয়েলে বিদ্যমান ভিটামিন ‘ই’ ঠোঁটের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। অলিভ অয়েলের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ঠোঁটের কালচেভাব দূর করে ও ক্ষতিগ্রস্ত ত্বক সারিয়ে তোলে।

প্রোটেকশন
এত কিছুর পরেও আপনার গোলাপি ঠোঁট কালচে হয়ে যেতে পারে, যদি আপনি বাইরের ধুলাবালি এবং সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি থেকে এর প্রয়োজনীয় সুরক্ষার ব্যাবস্থা না নেন। বাইরে বেরোনোর আগে ঠোঁটে এসপিএফ-১৫ অথবা আরও বেশি এসপিএফ সমৃদ্ধ লিপবাম ব্যবহার করতে হবে। চেষ্টা করতে হবে বাসায় ফেরার পরপরই ঠোঁটের ধুলাবালি পরিষ্কার করে নেওয়ার। হালকা গরম পানিতে কটন বল ভিজিয়ে নিয়ে ঠোঁট মুছে নিন। প্রয়োজনে আবার নতুন করে লিপ বাম লাগিয়ে নিতে পারেন।

ডিহাইড্রেশনের কারণে আপনার ঠোঁট শুকিয়ে ফেটে যায়। প্রতিদিন প্রচুর পানি পান করুন এবং প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় সবুজ শাকসবজি রাখুন। পানি আপনার শরীরকে ডিহাইড্রেশনের হাত থেকে রক্ষা করে। ঠোঁটে যে কোনো কসমেটিকস ব্যবহার করার আগে তার গুণগত মান জেনে নিন। অবশ্যই ভালো মানের লিপস্টিক ব্যবহার করুন।

- রাজিয়া সুলতানা