বুধবার,২২ নভেম্বর ২০১৭
হোম / ভ্রমণ / দেশে-বিদেশে মধুচন্দ্রিমায় কোথায় যাবেন?
০১/১৭/২০১৭

দেশে-বিদেশে মধুচন্দ্রিমায় কোথায় যাবেন?

-

শীতের মৌসুমে বিয়ের অনুষ্ঠানের শেষ নেই। বাচ্চাদের স্কুলের ছুটি, অফিসের বছর শেষে ফুরফুরে আমেজ, সব মিলিয়ে বিয়ের সানাই বাজানোর উত্তম সময় এটা। তবে সব ধকল শেষে নতুন দম্পতির মধুচন্দ্রিমার কথা ভুলে গেলে হবে না। তার জন্য কিছু দেশি-বিদেশি হটস্পটের কথা আপনাদের জানিয়ে দেই।

সাজেক ভ্যালি
নবদম্পতিরা একসঙ্গে ভূমি থেকে ১৮,০০০ ফিট উপরে মেঘ ছুঁয়ে দেখলে ভালোই হয়, তাই না? এই মুহূর্তটি অনুভবের স্থান হচ্ছে রাঙামাটি জেলার সাজেক ভ্যালি। ‘পর্বত রানি’ নামে পরিচিত সাজেক ভ্যালি একটি আকর্ষণীয় ট্যুরিস্ট স্পট। পাহাড়-নদী-জল-জঙ্গল এবং সীমাহীন আকাশের চিত্র সাজেক ভ্যালিকে করেছে অনন্য। রাতের বেলা পর্বতের শীর্ষে বাঁশের কটেজে পা ঝুলিয়ে চাঁদের আলোর স্পর্শে এক অপার্থিব অনুভূতির জন্য সাজেকে যেতে হবে অবশ্যই।
থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা বেশ ভালো এবং নববিবাহিত দম্পতিরা বেশ সহজেই মধুচন্দ্রিমা সম্পন্ন করে ফেলতে পারবেন এখানে। ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি গিয়ে স্থানীয় ‘চান্দের গাড়ি’ করে যেতে হবে সাজেক। হোটেল-মোটেল কিংবা কটেজ সাধারণত অন-স্পট পাওয়া যায়। তবে এ-সময়টায় ভিড় বেশি থাকে বলে আগে থেকে ফোনে কথা বলে নেয়া ভালো। আর অবশ্যই মশা এবং ম্যালেরিয়া থেকে বাঁচার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে যাবেন। ইন্টারনেটে সাজেক সম্পর্কে অনেক তথ্য পাবেন।

সুন্দরবন
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের সুন্দরবনেও নবদম্পতির মধুচন্দ্রিমার সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের রাজ্যে অনেক ক্রুজ সার্ভিস রয়েছে যেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিলাসী এসি রুম, ক্যাবিন, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি। সাধারণত তিন দিনের প্যাকেজ ট্যুরে সুন্দরবনে যান অনেকেই। ক্রুজ লঞ্চগুলো ছেড়ে যায় খুলনার ডক থেকে। পরবর্তী তিন দিন তা সুন্দরবনের নদীপথে বিভিন্ন স্থান ঘুরে আসে। বনের সুন্দরী গাছের অপূর্ব সারির মধ্যে বানর, হরিণ, নানারকম সরীসৃপ, পাখি এবং ভাগ্য ভালো থাকলে বাঘও দেখতে পারেন। দশ হাজার টাকা থেকে শুরু করে পঁচিশ হাজারের প্যাকেজ সার্ভিস আছে সুন্দরবনে। নিজেদের সুবিধামতো একটা বেছে নিলেই হলো। বিভিন্ন এজেন্সির ওয়েবসাইটে এ-সম্পর্কিত তথ্য পাবেন।

সেন্ট মার্টিন
কক্সবাজারের সর্বদক্ষিণ উপজেলা টেকনাফ থেকে বঙ্গোপসাগরের ৮ কিলোমিটার ভেতরে অবস্থিত সেন্ট মার্টিন দ্বীপ। বর্তমানে এটি একটি পরিপূর্ণ ট্যুরিস্ট স্পট। হোটেল, মোটেল, খাওয়া-দাওয়া সব কিছুর ব্যবস্থা আছে এখানে। অপূর্ব সূর্যাস্তের দৃশ্য, জেলেদের ভোরের মাছ ধরার অবাক করা উপায় এবং সমুদ্রের মাঝখানে প্রকৃতিতে হারিয়ে যাওয়ার সুযোগ; সবমিলিয়ে এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা হবে নবদম্পতিদের জন্য। কক্সবাজার গিয়ে বা ঢাকা থেকে এজেন্সির সঙ্গে কথা বলে এ-সম্পর্কিত তথ্য জানা যাবে।

নেপাল
দেশের বাইরেও আজকাল অনেকে মধুচন্দ্রিমায় যায়। এর মধ্যে নেপাল বাংলাদেশিদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। পর্বতপ্রেমিকদের স্বর্গ বলা হয় নেপালকে। পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্ট বাদেও নেপালে আছে আরও অনেক পর্বত। হিমালয়ের জল গড়িয়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য জলাশয়, যা আঁকাবাঁকা পথে বয়ে চলেছে পর্বতের পাদদেশে। অপার্থিব কিছু দৃশ্য দেখা যায় নেপালে, যা পৃথিবীর অন্য কোথাও নেই। ইচ্ছা করলে দম্পতিরা হিমালয়ের উপরটা ঘুরে দেখতে পারবেন হেলিকপ্টারে! নেপালের অর্থনীতির মূল হাতিয়ার হলো ট্যুরিজম। তাই সব ট্যুরিস্ট স্পটের খবরাখবর পাওয়া যাবে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে।

থাইল্যান্ড
থাইল্যান্ড এশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় ট্যুরিস্ট ডেস্টিনেশান। থাইল্যান্ডজুড়ে রয়েছে নানা ভ্রমণের স্থান। ব্যাংকক, ফুকেট, কো সুমাই, পাতায়া, কো তাও, পাতাং ইত্যাদি অঞ্চলে রয়েছে সমুদ্রের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক। এসব এলাকায় নাইট লাইফ অপূর্ব এবং মধুচন্দ্রিমার জন্য রয়েছে সেরা সব আয়োজন। অন্যান্য জায়গার তুলনায় থাইল্যান্ডে হোটেল মোটেল পাওয়া যায় সস্তায় এবং স্থানীয়রা সহায়ক ও বন্ধুভাবাপন্ন। নবদম্পতিরা স্কুবা ডাইভিং, প্যারা সেইলিং কিংবা হাঙরের সঙ্গে সাঁতারের মতো রোমাঞ্চকর কিছু করতে চাইলে অবশ্যই থাইল্যান্ডকে মধুচন্দ্রিমার জন্য বেছে নিতে পারেন।

গোয়া
ভারতের পশ্চিমে অবস্থিত গোয়া বিশ্বের অন্যতম পরিচিত একটি ট্যুরিস্ট স্পট। পর্তুগিজ নাবিকরা প্রথম গোয়ার প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলীতে মুগ্ধ হয় এবং কালক্রমে ইউরোপিয়ানদের কাছে গোয়া হয়ে ওঠে ট্রপিক্যাল টুরিজমের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান। অসাধারণ সি ফুড, মনোমুগ্ধকর দৃশ্য এবং সীমাহীন সমুদ্রের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে নতুন দম্পতিরা ভারতের গোয়া ঘুরে আসতে পারেন। বাংলাদেশের হিসেবে খরচ বেশি নয় এবং ঘুরে দেখার মতো স্থান আছে অনেক। কালাঙ্গুতে, বাগা, আরজুনা, ভারকার মতো অনেক সি বিচ আছে গোয়াতে। তাছাড়া, শপিং-এর জন্যও গোয়া অনেক বিখ্যাত।

মধুচন্দ্রিমা যে-কোনো দম্পতির অন্যতম খুশির সময়। তাই দেখে-শুনে একটি স্পট ফিক্সড্ করে ফেলুন আজই!

- কাজী মাহদী