শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / শীতের রোগবালাই থেকে মুক্তি
০১/১৭/২০১৭

শীতের রোগবালাই থেকে মুক্তি

-

বছর ঘুরে আবার শহরের বুকে শীত নেমে এসেছে। বিভিন্ন ধরনের খাবারদাবার, উৎসব ইত্যাদির জন্য এ ঋতু যেমনি প্রিয়, তেমনি সর্দি-কাশির জন্যও এ সময় ভুগতে হয় বেশ। ঠান্ডা লাগা, নাক-চোখ দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, কাশি, গলা খুশখুশে ভাব, মাথা ভারি হয়ে থাকা ইত্যাদি বেশ কিছু বিরক্তিকর শারীরিক সমস্যার প্রকোপ এ সময় বেড়ে যায়। এই সব সমস্যা থেকে পরিত্রাণের জন্য সব সময় যে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে, তা নয়। কিছু সহজ কৌশল অবলম্বন করলে নিজে থেকেই প্রতিরোধ করা যায় এ সব সমস্যাগুলোকে।

- ঠান্ডাজনিত সর্দি-কাশি হলে প্রচুর পরিমাণে তরল পান করুন। সে হতে পারে শুধু পানি অথবা আদা-লেবুর রস মিশ্রিত পানি, মধু পানি, তুলসী পাতার রস বা চা, আদা চা বা বিভিন্ন ধরনের ফলের রস। এ সময় দিনে কমপক্ষে আট গ্লাস পানি পান করা জরুরী। পাশাপাশি এ অবস্থায় গরম মুরগির স্যুপও পথ্য হিসেবে বেশ উপকারী। বেশি পরিমাণে তরল গ্রহণ, শরীরের পানিশূন্যতার পাশাপাশি ক্ষতিকর জীবাণু দূর করতে অত্যন্ত সহায়ক।

- নাক বন্ধ হয়ে গেলে গরম বাষ্পের ভাপ নিলে উপকার পাওয়া যাবে। এছাড়া খাবার লবণ, বেকিং সোডা এবং হালকা গরম পানি একসঙ্গে মিশিয়ে নিয়ে তা দিয়ে নাকের ভেতর ঝাপটা দিলে বেশ উপকার পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে নাকের এক পাশ আঙুল দিয়ে বন্ধ রেখে অন্যপাশে ঝাপটা দিতে হবে, তারপর আবার অন্য পাশে।

- নাক বন্ধ হয়ে গেলে ইউক্যালিপটাস তেল ব্যবহার করতে পারেন। এতে রয়েছে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়া এবং অ্যান্টি ফাঙ্গাল উপাদান। যার ফলে এটি সাইনাস, সর্দি-কাশি, ব্রঙ্কাইটিস ইত্যাদির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।

- বন্ধ নাকের জন্য লবণ পানির মিশ্রণে ন্যাজাল স্প্রে ব্যবহার করুন। এছাড়া রাতে ঘুমানোর সময় মাথার নিচে একটা অতিরিক্ত বালিশ দিয়ে নেবেন, এতে নাকের শ্লেষ্মা প্রবাহিত হওয়ার সহায়ক পরিবেশ পায়।

- যদি শুষ্ক-খুশখুশে কাশিতে আক্রান্ত হন, তবে লেবুর রস, মধু এবং হালকা গরম পানি একত্রে মিশিয়ে খান, উপশম পাবেন।

- গলাব্যথার জন্য এক কাপ পানিতে এক চা চামচ লবণ দিয়ে গড়গড়া করলে ভালো কাজ হয়। মসলাযুক্ত চা ও মধু এ দিক থেকে আরো ভালো কাজ করে। অনেকেই গলাব্যথা দূর করতে মেনথলযুক্ত ট্যাবলেট খান। তবে সেগুলো শুধুমাত্র গলার অনুভূতি নাশ করে, ব্যথা উপশমে তেমন কাজ করে না। তাই গলাব্যথার জন্য লবণ-পানির গড়গড়াই উৎকৃষ্ট।

- যেহেতু সর্দি-কাশি অনেকটা ছোঁয়াচে সমস্যা, তাই আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন। যেখানে সেখানে হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন। কারণ হাতের মাধ্যমেই সর্দি-কাশির ভাইরাস বেশি ছড়ায়। তাছাড়া নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে।

- সপ্তাহে অন্ততপক্ষে তিনবার মুক্ত বাতাসে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট হালকা ব্যায়াম যেমন হাঁটা, সাইকেল চালানো কিংবা নাচা আপনার শ্বাসতন্ত্রের উপরিভাগের সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করে। তাছাড়া আপনার থাকার ঘরটিতে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখবেন। এতে ভাইরাসগুলো ঘরের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে সংক্রমণ করতে পারে না।

- ঠান্ডা লাগলে উষ্ণ থাকার চেষ্টা করবেন এবং ভালোমতো বিশ্রাম নেবেন। বিশ্রামরত অবস্থায় আপনার শরীর সংক্রমণের বিরুদ্ধে ভালোমতো প্রতিরোধ গড়ার শক্তি পায়। এক্ষেত্রে রাতে কমপক্ষে আট ঘণ্টা ঘুম শরীরের জন্য বেশ উপকারী। এছাড়া যষ্ঠিমধু, মূলা, রসুন, কাঁচা পেঁয়াজ, বিশেষ কয়েক ধরনের মাশরুম, কামরাঙ্গা, সরিষার পেস্ট ইত্যাদি ঠান্ডাজনিত সমস্যা দূর করার জন্য বেশ উপকারী। বেশি পরিমাণে ভিটামিন ই ও সি খেলেও সর্দি-কাশি থেকে উপশম পাওয়া যায়।

- শারিদ বিন শফিক