রবিবার,২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭
হোম / সম্পাদকীয় / নারী ভোটারের সংখ্যা কেন কম
০১/১৭/২০১৭

নারী ভোটারের সংখ্যা কেন কম

-

দেশে নারী ভোটারের সংখ্যা কমেছে। খসড়া হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে গত ২ জানুয়ারি ২০১৭। দেখা যাচ্ছে, এবারও পুরুষের তুলনায় কমে গেছে নারী ভোটারের সংখ্যা। নতুন ১৪ লাখ ৯৭ হাজার ৬২৭জন নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন সারা দেশে। এর মধ্যে পুরুষ হচ্ছেন ৯ লাখ দুই হাজার ৮১২জন। অপরদিকে নতুন নারী ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখ ৯৪ হাজার ৮৬০ জন। নারীর সংখ্যা কেন কম? জানতে হলে বিষয়টা আরো একটু খতিয়ে দেখতে হয়।

প্রথমবার ছবিসহ ভোটার তালিকা হয়েছিল ২০০৮ সালে। তখন নারী ভোটারের সংখ্যা বেশি ছিল পুরুষের চেয়ে। কিন্তু তারপর সবগুলো হালনাগাদ তালিকায়ই কমে গেছে নারী ভোটারের সংখ্যা। কী এর কারণ? নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টজনেরা বলছেন, নারী ভোটার হ্রাস পাওয়ার প্রধান কারণ হলো বাড়ি বাড়ি না গিয়ে নির্বাচন অফিসগুলোতে বসে তালিকা হালনাগাদ করা। এ-ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়েছিল নির্বাচন কমিশনের সচিবের কাছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, নারী ও পুরুষ ভোটারের ব্যবধান চোখে পড়ার মতো। তবে সব এলাকায় নারী ভোটার যে কম, তা নয়। সুনির্দিষ্ট কয়েকটি এলাকায় কম পাওয়া গেছে।

বেসরকারি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের পরিচালক তাদের এ-সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছেন। বলেছেন তিনি, গতবার চট্টগ্রামসহ যেসব এলাকায় নারী ভোটার কম পাওয়া গিয়েছিল, এবারও সেসব এলাকায়ই নারী ভোটার কম পাওয়া গেছে। এসব এলাকার জন্য কমিশন বিশেষ কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বাড়ি বাড়ি যাওয়া হয়নি। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সংবাদ সম্মেলন করে বলেছে, ভোটার তালিকা যেরকম গুরুত্ব দিয়ে করা প্রয়োজন, সেটি করা হচ্ছে না। জনসংখ্যায় নারী ও পুরুষের অনুপাত প্রায় সমান সমান। এক কোটিরও বেশি মানুষ থাকেন দেশের বাইরে। তাদের মধ্যে পুরষের সংখ্যাই বেশি। তাই বাস্তব কারণেই নারী ভোটারের সংখ্যা বেশি হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু সেটা দেখা যাচ্ছে না। ভোটার তালিকায় গলদ থাকলে তা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। নারী ভোটার কেন কমে যাচ্ছে, তা তৃতীয় কোনো পক্ষকে দিয়ে তদন্ত করানো প্রয়োজন।

বাড়ি বাড়ি না গিয়ে ভোটার তালিকা তৈরির ফলে এই যে মারাত্ম্ক ত্রুটি, তা কিন্তু নারী অধিকার লংঘিত হওয়ারই শামিল। অনেক নারীই কর্মজীবী। পড়াশোনাসহ নানা কারণে কর্মব্যস্ত থাকতে হয় অনেককে। সবার পক্ষে অফিসে গিয়ে গিয়ে ভোটার হওয়া সম্ভব হয় না। জনসচেতনতা সৃষ্টি, উদ্বুদ্ধকরণের ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রচার-প্রচারণার ঘাটতি আছে বলেই মনে হয়। অফিসে বসে অসম্পূর্ণ ভোটার তালিকা প্রণয়ন নারীদের প্রতি প্রচ্ছন্ন অবহেলার পরিচায়ক, এমনটা বললে ভুল বলা হয় না। এ-ধরনের পরিস্থিতি অনভিপ্রেত ও অগ্রহণযোগ্য। সংশ্লিষ্ট মহল এ-ব্যাপারে আরো দায়িত্বশীলতার প্রমাণ দেবেন বলে আমরা প্রত্যাশা করি।

তাসমিমা হোসেন