বুধবার,১৬ অগাস্ট ২০১৭
হোম / জীবনযাপন / ক্যাম্পাস জীবনে নতুন বন্ধু
০১/১২/২০১৭

ক্যাম্পাস জীবনে নতুন বন্ধু

-

আমরা সবাই প্রথম পর্যায়ে নতুন জায়গায় গিয়ে বন্ধুহীন অবস্থার মধ্যে পড়ি। হতে পারে সেটা, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এমনকি কর্মস্থল। বন্ধুহীন কোনো স্থানে গিয়ে নতুন বন্ধু বানানো অনেকটা যুদ্ধ জেতার মতোই। কারণ যেখানে সবাই আপনার অপরিচিত, সেখানে নিজের সমস্ত অনুভূতি ও সুখ-দুঃখের কথা বলার মতো কাউকে খুঁজে নেয়া চাট্টিখানি কথা নয়।

- নতুন পরিবেশে কিংবা নতুন ক্যাম্পাসে খাপ খাইয়ে চলার খানিকটা তেতো অভিজ্ঞতা কমবেশি সবারই আছে। কিন্তু থেমে থাকলে চলবে কেন? নিজেকে ফিরে পেতে হবে নিজের মতো করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডিতে এসে অনেকেই নতুন বন্ধু কিংবা সিনিয়রদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে অনেক সময় ব্যয় করে ফেলে। কিন্তু এ-সম্পর্ক যত দ্রুত তৈরি করা যায়, ততই ভাল। নিজের মধ্যে নিজেকে গুটিয়ে না রেখে যতটা সম্ভব ক্যাম্পাসের সহপাঠী এবং বড় ভাইয়া-আপুদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করুন। সুযোগ পেলে নিজের ডিপার্টমেন্ট ছাড়াও অন্যদের সঙ্গে গড়ে তুলুন বন্ধুসুলভ সম্পর্ক।

- বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য বহন করে থাকে। বয়স যা-ই হোক না কেন, নতুন শিক্ষার্থী হিসেবে ক্যাম্পাসের বড়দের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকুন। পক্ষান্তরে ছোট যারা আছে, তাদের প্রতিও স্নেহশীল হতে হবে। অযথা কারো সঙ্গে মনোমালিন্যে জড়াবেন না। যে-কোনো সমস্যায় তাদের সাহায্য নিন। এতে সম্পর্কের বন্ধন হবে আরো জোরালো ও স্থায়ী।

- অহংবোধ কমবেশি সবারই থাকে। কিন্তু তা নিয়ে বসে থাকলে হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ধীরে ধীরে গড়ে তুলুন সমঝোতার সম্পর্ক।

- সিনিয়র শিক্ষার্থী কিংবা সহপাঠী সবার সঙ্গেই নিয়ম বজায় রেখে মজা করতে পারেন। ক্যাম্পাসে নতুন বলে নিজেকে গুটিয়ে রাখবেন না। সবার সামনে নিজেকে উপস্থাপন করতে শিখুন। আনন্দ ভাগাভাগিতে সঙ্গী করুন সবাইকে।

- ক্যাম্পাসের নতুন বন্ধু কিংবা সিনিয়রদের চাওয়া বুঝতে চেষ্টা করুন। তবে এক্ষেত্রে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে হবে। সবদিক চিন্তাভাবনা করেই মিশতে হবে।

- আপনার আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে নতুন জায়গার মানুষগুলোর সঙ্গে মিশতে শুরু করুন। তাদের সঙ্গে আলোচনায় যোগ দিন আর সেই সঙ্গে সাহায্য করার মন মানসিকতা বজায় রাখুন।

- আপনার চারপাশের মানুষগুলোর আলোচনায় যোগ দিয়ে প্রশ্নোত্তর শুরু করুন। তবে মনে রাখতে হবে, আপনি যদি সত্যিকার অর্থে বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে চান, তাহলে ভেবেচিন্তে আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন। কেননা আপনার এই কথোপকথনই সেখানকার মানুষদের মনে আপনার সম্পর্কে ধারনা তৈরি করবে।

- আপনার আশপাশের মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ বজায় রাখুন। কিন্তু কাউকে বন্ধু বানাতে উঠেপড়ে লাগবেন না। জোর করে বন্ধুত্ব হয় না। আর যদি কেউ আপনার বন্ধুত্বের আহ্বানে সাড়া না দেয়, তবে এটি ব্যক্তিগতভাবে নিয়ে হতাশ হবেন না। হতেই পারে তার নিজের অনেক বন্ধু রয়েছে এবং সেসব বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতেই তিনি হিমশিম খান।

- নিয়মিত সেই সব জায়গাগুলোতে যাওয়ার চেষ্টা করুন যেখানকার পরিবেশের সঙ্গে মানুষগুলোকে আপনি বন্ধুতে রূপান্তরিত করতে চান। নিয়মিত যাওয়া আসা চললে সেখানকার মানুষগুলো যেমন আপনার পরিচিত হয়ে উঠবে, একইভাবে আপনিও তাদের সুপরিচিত হয়ে উঠবেন। আর এভাবেই বন্ধুত্বের বীজ বপন হবে।

- অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করুন। আপনার সহপাঠীদের বিভিন্ন ইভেন্টে যাওয়া-আসা শুরু করুন। দেখবেন খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আপনার বেশ কিছু ভালো বন্ধু তৈরি হবে আর ক্যাম্পাস জীবন হয়ে উঠবে আপনার জীবনের স্মরণীয় অধ্যায়।

- জাওয়াদ