বুধবার,২৩ অগাস্ট ২০১৭
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / শীতের দিনে শরীরচর্চা
০১/১১/২০১৭

শীতের দিনে শরীরচর্চা

-

শরীর স্বাস্থ্যের দিকে বছরজুড়েই খেয়াল রাখা জরুরি। অনেকেই নিয়মিত ব্যায়াম করে শীতের সময় ঠান্ডা-জ্বরের ভয়ে ছেড়ে দেন। তার উপরে শীতের সকালের আরামের ঘুমে লেপের নীচ থেকে উঠতে চান না। তবে এই মৌসুমে বিয়ের দাওয়াত, আত্মীয়স্বজনের অনুষ্ঠান ইত্যাদি থাকে অনেক, তাই খাওয়াদাওয়া করা হয় বেশি। এতে আপনার শরীরে আকস্মিকভাবে মেদ বেড়ে যেতে পারে এবং আপনি নানা শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন। তাই শীতের মৌসুমে শরীরচর্চা চালিয়ে যাওয়ার কিছু টিপস দেয়া হোল।

-শীতের কুয়াশা রোগব্যাধির একটি অন্যতম কারণ। যারা সকালে পার্ক কিংবা খোলা মাঠে দৌড়ঝাঁপ করে অভ্যস্ত, তাদের শীতের সকালে অবশ্যই বাড়তি খেয়াল রাখা জরুরি। কেননা কুয়াশা শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে গেলে নানারকম দূষণকারী পদার্থ শরীরে প্রবেশ করে। এতে করে আপনার স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়। কুয়াশাজনিত সমস্যা প্রতিকারের জন্য আপনি কাপড়ের মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। তবে অতিরিক্ত কুয়াশার মধ্যে শারীরিক পরিশ্রম না করা ভালো। সকালে সূর্য ওঠার আগে কুয়াশার পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। শীতের দিনে আপনি আপনার শরীরচর্চার রুটিন কিছুটা পরিবর্তন করে নিতে পারেন, যেন সকালের ঘন কুয়াশা এড়িয়ে চলা যায়।

-ইনডোর বা ঘরের ভেতর শরীরচর্চার ব্যবস্থা করে নিন। ঘরের বারান্দায় বা বড় রুমের একপাশে ট্রেডমিল কিংবা সাইক্লিং মেশিন রাখতে পারেন, শীতের সময় ব্যায়াম অব্যাহত রাখার জন্য। এতে আপনি বাইরের প্রকট শীতের মাঝেও আরামে শরীরচর্চা চালিয়ে যেতে পারবেন। বাসার মধ্যে লম্বা করিডর থাকলে সেখানে দ্রুত হাঁটাহাঁটি করেও ব্যায়াম করতে পারেন। যেখানেই করেন না কেন, নিশ্চিত করবেন যেন সপ্তাহে সব মিলিয়ে অন্তত ২.৫ ঘণ্টা শরীরচর্চা করা হয়।

-জিম মেম্বার হয়ে যেতে পারেন শীতকালের জন্য। অনেক জিমেই দুই বা তিন মাসের জন্য ফিটনেস প্রোগ্রাম পাওয়া যায়। জিমে আপনার শীতের কুয়াশা বা দিনের আলোর জন্য মাথা ব্যথা নেই, বরং সুবিধামতো যে-কোনো সময় শরীরচর্চা করে আসা যায়। শরীরের সঙ্গে জিমের রুটিনকে মানিয়ে নিতে আপনার কিছু সময় দিতে হবে। প্রথমেই ভারি ব্যায়াম না করা ভালো। প্রশিক্ষকের উপদেশ অনুযায়ী কাজ করলে শরীর সময়মতো মানিয়ে নিতে পারবে।

-অন্যান্য সময়ের তুলনায়, শীতকালে শরীরচর্চার আগে গা গরম করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। শীতের প্রভাবে আপনার দেহের তাপ যেন না বেরিয়ে যায়, সেজন্য আপনার শরীর প্রাকৃতিকভাবে পেশি এবং শিরা সংকুচিত করে রাখে। শীতকালে গা গরম করা ছাড়া ব্যায়াম শুরু করলে পেশিতে চাপ পড়ে লিগামেন্টের ক্ষতি হতে পারে। তাই শরীরচর্চার আগে, সহজভাবে হাঁটাহাঁটি এবং নাড়াচাড়া করে পেশিকে সচল করে নেওয়া জরুরি।

-শীতে সুস্বাস্থ্যের জন্য খাদ্যাভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। ঠান্ডা আবহাওয়াতে অনেকেই ব্যায়াম করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। এতে শরীরের দিকে খেয়াল রাখা হয় না ভালোভাবে। তাই নিজের খাদ্যাভ্যাসে তেল চর্বিযুক্ত খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে আনলে উপকার পাওয়া যায়। শীতকালীন ফল এবং সবজি আপনার খাদ্যাতালিকায় নিয়মিত রাখুন।

স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য শরীরচর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে তা শীতকাল এসে গেলে বাদ দিলে হবে না। একটু কষ্ট করে হলেও নিজের শরীরের প্রতি খেয়াল রাখুন।

-কাজী মাহদী