বুধবার,২৩ অগাস্ট ২০১৭
হোম / রূপসৌন্দর্য / এই শীতে ত্বকচর্চা
০১/১১/২০১৭

এই শীতে ত্বকচর্চা

-

ক্যালেন্ডারের পাতার পরিবর্তন জানিয়ে দিচ্ছে শীতের আগমনীবার্তা। আমরা কমবেশি সবাই শীত মৌসুম উপভোগ করি। আমাদের জন্য উপভোগ্য হলেও ত্বকের জন্য শীত মোটেও সুবিধার নয়। শীতে বাতাসের জলীয় বাষ্প কমে যায়, হয়ে ওঠে রুক্ষ। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের ত্বকও তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারায়। তাই ত্বকের একটু বাড়তি যতœ না নিলেই নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমরা যে সমস্যায় ভুগি, তা হলো - হাত-পা ও মুখের ত্বক খসখসে হয়ে ওঠা বা ফেটে যাওয়া। ত্বকের যতেœ একটু পরিবর্তন আনলেই শীতেও ত্বক থাকবে উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত।

-ত্বক পরিষ্কার রাখতে এক্সফোলিয়েশনের বিকল্প নেই। কিন্তু শীতে অতিরিক্ত এক্সফোলিয়েশন ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা কেড়ে নিয়ে ত্বক করে তোলে রুক্ষ ও খসখসে। ফলে বেড়ে যায় ত্বক ফেটে যাওয়ার প্রবণতা। আবার শীতে ত্বকে মৃত-কোষের পরিমাণও বেড়ে যায়, যা পরিষ্কার করতে এক্সফোলিয়েশন প্রয়োজন। নিয়ম করে অত্যন্ত হালকা কোনো স্ক্রাবার ব্যবহার করে সপ্তাহে ২ থেকে ১ বার হাত-পা ও মুখের ত্বক পরিষ্কার করে নিতে পারেন। চেষ্টা করুন ত্বকের মানানসই স্ক্রাবার বেছে নিতে, যা আপনার ত্বক পরিষ্কারের পাশাপাশি ত্বকের আর্দ্রতাও ধরে রাখবে। ত্বকে প্রতিদিন সাবান বা বডি-সোপ লাগানো থেকে বিরত থাকুন।

-শীতে ত্বকের প্রধান সঙ্গী ময়েশ্চারাইজার। আমাদের দেশে সাধারণ মৌসুমেও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হয়, আর শীতে এর প্রয়োজনীয়তা বেড়ে যায় দ্বিগুণ। পর্যাপ্ত ময়েশ্চারের অভাবে ত্বক ফেটে যায় ও বিবর্ণ দেখায়। প্রায় সব সময়ই আমাদের হাত-পা ও মুখের ত্বক বাইরের পরিবেশে উন্মুক্ত থাকে। ফলে খুব সহজেই আর্দ্রতা হারিয়ে রুক্ষ ও খসখসে হয়ে যায়। যাদের ত্বক খুব শুকনো, দিনে বেশ কবার ময়েশ্চারাইজার লাগানোর চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে ভারি কোনো ময়েশ্চারাইজার বেছে নিন, বিশেষ করে হাত ও পায়ের জন্য। অয়েলি ত্বকের জন্য হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। মুখের জন্য তুলনামুলক শুষ্ক ক্রিম বেছে নিন, যাতে ত্বক অয়েলি অথবা কালো না দেখায়।

-আমাদের অনেকেরই এটা ভুল ধারণা যে, শীতে বাইরে যাওয়ার সময় সানস্ক্রিন লোশন লাগানোর কোনো প্রয়োজন নেই। সানস্ক্রিন লোশন সবসময়ই ব্যবহার করা উচিত, কারণ সূর্যের অতি-বেগুনি রশ্মি শীতেও ত্বকের ক্ষতি করে। প্রয়োজনে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে রাখুন এবং বাইরে যাওয়ার আগ মুহূর্তে সানস্ক্রিন লাগিয়ে নিন। ঠোঁটের জন্যও ঝচঋ ১৫+ সমৃদ্ধ লিপ-বাম ব্যবহার করুন।

-শীতে গোসলে যাওয়া মানেই যেন যুদ্ধে নামা। অনেকেই শীতে বেশ ক’দিন গোসল না করেই কাটিয়ে দেন, যা ত্বকের এবং শরীরের জন্য অস্বাস্থ্যকর। আবার নিয়মিত গোসল করলেও গরম পানি ব্যবহার করে থাকেন। গোসলে অতিরিক্ত গরম পানির ব্যবহার আপনাকে শীতের হাত থেকে বাঁচালেও চুল ও ত্বক রুক্ষ করে তোলে। তার মানে অবশ্যই এই নয় যে, আপনি শীতেও ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল সারবেন। অতিরিক্ত গরম পানি আপনার ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতার লেয়ার নষ্ট করে দেয়। তাই গোসলের কিছুক্ষণ পরই ত্বক রুক্ষ হয়ে ওঠে। বাইরের তাপমাত্রার সঙ্গে মানিয়ে উষ্ণ পানি দিয়ে গোসল সারুন।

-শীতে আমরা কমবেশি সবাই ভারি উলের পোশাক পরা পছন্দ করি। কিন্তু উল আমাদের ত্বকের জন্য সবসময় আরামদায়ক নাও হতে পারে। যাদের ত্বক খুব সেনসিটিভ, তারা শীতে উলের পোশাক এড়িয়েই চলুন। শীতে আরামাদায়ক ও কার্যকরী হতে পারে সুতির পোশাক।সুতি সবরকম ত্বকের জন্য মানানসই।

শুধু বাহ্যিকভাবে ত্বকের যতœ নিলেই হবে না, অভ্যন্তরীণ যতœও নিতে হবে। শীতে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনুন। ওমেগা-৩ যুক্ত খাবার গ্রহণ করুন। ওমেগা-৩ আপনার ত্বককে উজ্জ্বল ও মসৃণ করে। খাদ্য তালিকায় বিভিন্নরকম বাদাম, চীজ, বাটার ও শীতকালীন শাকসবজি রাখুন। চিনিযুক্ত খাবার পরিমাণে কম খান। প্রচুর পানি পান করুন, কারণ পানি আপনার ত্বকের কোষ সজীব ও আর্দ্র রাখে।

- রাজিয়া সুলতানা