রবিবার,২০ অগাস্ট ২০১৭
হোম / বিনোদন / ঢালিউড: ২০১৬-এর সেরা
০১/০৫/২০১৭

ঢালিউড: ২০১৬-এর সেরা

-

শঙ্খচিল
পরিচালক: গৌতম ঘোষ
১৯৪৭ সালের দেশভাগের প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠা এই সিনেমাটির কাহিনি একজন ভূগোল শিক্ষক, তার স্ত্রী ও ছোট মেয়েকে কেন্দ্র করে। ভারতের জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত এই দক্ষ পরিচালক দেশ ভাগাভাগির মতো ঝুঁকিপূর্ণ ও জটিল কাহিনিটি বলেছেন খুবই সাবলীল ভঙ্গিতে। দেশভাগের স্মৃতি ও অনুভূতির গল্প শঙ্খচিল মুক্তির আগেই ‘সেরা ছবি’ হিসেবে ভারতের ৬৩তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।

শিকারি
পরিচালক: জয়দীপ মুখার্জি
বক্স অফিসে এই সিনেমাটি শাকিব খানের নতুন লুক দিয়ে মুক্তির আগেই মানুষের আগ্রহ অর্জন করে নেয়। সিনেমাটি শুরুটি এমন - শিশুদের গুম করে তাদের কঙ্কাল উদ্ধারের পর জাজ রুদ্র চৌধুরীর (সব্যসাচী) হাতে বিচারের কাজ এলে তাকে চ্যালেঞ্জ নিতে হয়। জাজ তখন শত্রু পক্ষের টার্গেট হয়ে পড়ে এবং তখন তাকে মারার জন্য কিলার হিসেবে সুলতানকে (শাকিব) নিয়োগ করা হয়। শাকিব তার শিকারে গিয়ে সব্যসাচীকে মারতে গিয়ে আবিষ্কার করে এক নতুন সত্য। বাংলা সিনেমার একইরকম পরিসামাপ্তি নতুন রূপে ধরা দেয় এই ছবিতে।

বাদশাহ-দ্য ডন
পরিচালক: বাবা যাদব ও আব্দুল আজিজ
তেলেগু সিনেমা ‘ডন সিনু’-এর ছায়া অবলম্বনে তৈরি ছবিটিতে নুসরাত ফারিয়ার বিপরীতে এক কোটি টাকা খরচ করে জিতকে প্রধান নায়ক হিসেবে বেছে নেয় পরিচালকরা। দারুণ ব্যবসাসফল এই সিনেমাটি বানানো হয়েছে এমন একটি ছেলের গল্পকে ঘিরে, যার ছোটকালের স্বপ্ন ছিল একজন ডন হওয়া। এই স্বপ্ন পূরণের পথে লন্ডনে তার দেখা হয় একটি মেয়ের সঙ্গে এবং শুরু হয় জিত-ফারিয়ার প্রেমকাহিনি।

অজ্ঞাতনামা
পরিচালক: তৌকির আহমেদ
মানবপাচারের কাহিনি নিয়ে নির্মিত এই ছায়াছবিটি ২০১৬ সালের মে মাসে ৬৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয় এবং জুরি স্পেশাল মেনশন পুরস্কার অর্জন করে। চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি চলচ্চিত্রকার হিসেবে তৌকির আহমেদের এই ছবিটি কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়। অজ্ঞাতনামা-কে বলা যেতে পারে সিরিয়াস ঘরানার অফট্র্যাক ক্যাটাগরিতে বাস্তবসম্মত কেস স্টাডি। বাংলাদেশের এক বিশাল জনগোষ্ঠী মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করে এবং তাদের অসহায় ও কঠোর জীবনের একটি অধ্যায় তুলে ধরা হয়েছে এই ছবিতে। মুসলমান একজন গরিব মানুষের মধ্যে নাম-পরিচয়হীন বিধর্মী একটি লাশের প্রতি যে মায়া তৈরি হয়, যে শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত হয় সেটিই চলচ্চিত্রটিকে আলাদা মাত্রা দেয়।

হিরো ৪২০
পরিচালক: সুজিত মন্ডল ও সৈকত নাসির
২০০৯ সাল মুক্তি পাওয়া তেলেগু সিনেমা ‘মাসকা’র আনুষ্ঠানিক রিমেক এই সিনেমাটি অ্যাকশন ও রোমান্টিকধর্মী ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনি। সিনেমার নায়ক কৃশের একমাত্র উদ্দেশ্য রিয়াকে বিয়ে করে বড়লোক হওয়া। রিয়ার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ানোর জন্য কৃশ রাই নামের একটি মেয়ের সঙ্গে ভালোবাসার কাহিনি বানায়। কিন্তু সিনেমাটি ক্লাইম্যাক্সে পৌঁছায় যখন রাই গল্পে প্রবেশ করে আর কৃশ আসলেই তার প্রেমে পড়ে যায়।

আয়নাবাজি
পরিচালক: অমিতাভ রেজা চৌধুরী
মনস্তাত্বিক থ্রিলার এই চলচ্চিত্রটি শুধু ২০১৬ সালের নয়, বিগত কয়েক বছরের মধ্যে ঢালিউডের সবচেয়ে প্রশংসিত ও ব্যবসাসফল সিনেমা। আয়নাবাজি সিনেমাটি বহুদিন পরে প্রেক্ষাগৃহবিমুখ শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির দর্শকদের হলে ফিরিয়ে এনেছে। সিনেমাটির কাহিনি গড়ে উঠেছে সাধারণ একজন শিক্ষক আর পার্টটাইম জাহাজের কুকের ছদ্মবেশে লুকিয়ে থাকা এক 'অপরাধী' শরাফত করিম আয়নাকে ঘিরে। অপরাধের জগতে তার বিচরণ হলো অন্য দাগি অপরাধীদের 'লুক-অ্যালাইক' সেজে তাদের হয়ে জেল খাটা। চঞ্চল চৌধুরী এই চলচ্চিত্রে মোট ছয়টি ভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সাধারণ মানুষের চোখ বছরের পর বছর ধরে ফাঁকি দিতে পারলেও এক ক্রাইম রিপোর্টারের চোখে আয়নার বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে, তিনি তার পিছু নেয়া শুরু করেন। এগিয়ে যেতে থাকে ছবির কাহিনী যা ছবির শেষ পর্যন্ত দর্শককে কৌতুহলের সাথে পর্দায় আটকে রাখে।

আমি তোমার হতে চাই
পরিচালক: অনন্য মামুন
ঢাকা শহরের কুখ্যাত মাস্তান আবীরের ঘটনাক্রমে পরিচয় হয় শ্রেয়া নামের মিষ্টি একটি মেয়ের সঙ্গে এবং সঙ্গে সঙ্গেই আবির তার প্রেমে পড়ে যায়। শ্রেয়া আবীরকে তার গ্যাংস্টার জীবন থেকে বের করে আনে এবং তার মাঝে গান গাওয়ার প্রতিভাটি বের হয়ে আসে। পরবর্তীসময় আবীর জানতে পারে শ্রেয়া ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত, যা আবীরকে পরে জীবনের জটিলতম পরীক্ষার সম্মুখীন করে।

- নুসরাত ইসলাম