বুধবার,১৬ অগাস্ট ২০১৭
হোম / ফিচার / দেশ-বিদেশে বিয়ের যত বিচিত্র রীতি
০১/০৫/২০১৭

দেশ-বিদেশে বিয়ের যত বিচিত্র রীতি

-

আমাদের দেশের বিয়ের নিয়মের সাথে আমরা কম বেশি সবাই পরিচিত। জায়গা বা গোষ্ঠীভেদে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও সময়ের সাথে তা বেশ কমে এসেছে। কিন্তু আজও বিয়ে নিয়ে এমন অদ্ভুত কিছু রীতি প্রচলিত আছে যা আমাদের যথেষ্ট অবাক করবে। বিশ্বের এমনই কিছু বিচিত্র রীতি নিয়ে এই লেখা।

কঙ্গো
বিয়ের দিন যখন চারিদিক আনন্দমুখর হয়ে থাকবে, তখন বর কিংবা কনের মোটেও হাসা চলবে না। নিজেদের আনন্দকে গোপন রেখে তাদের অবশ্যই গাম্ভীর্য ধরে রাখতে হবে। যদি পুরো অনুষ্ঠানের মধ্যে কোন সময় বর কিংবা কনে হেসে দেয় তবে ধরে নেওয়া হয় তারা বিয়ের ব্যাপারে একনিষ্ঠ নয়।

ফিজি
ফিজির একটি পুরনো রীতি, যখন কোন যুবক বিয়ের জন্য মেয়ের বাবার কাছে মেয়ের হাত চাইবে, তখন তাকে অবশ্যই তার ভবিষ্যৎ শ্বশুরকে একটি তিমির দাঁত উপহার দিতে হবে। নয়তো সে তার পছন্দের মেয়েটিকে খোয়াবে।

চীন
কনের পরিবার একজন সৌভাগ্যবতী মহিলাকে ভাড়া করবে কনেকে শ্বশুর বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য, এটি চীনে বিয়ের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য। শুধু এটুকুই নয়, কনে যাবে সুসজ্জিত পালকিতে চড়ে এবং তার পরিচারিকারা এক প্রকার হালকা ছাতার সাহায্যে তাকে ঢেকে রাখবে এবং কিছু পরিচারিকা পালকিতে চাল ছিটাবে। ট্র্যাডিশনাল চীনা মানুষেরা এই রীতিকে সুস্বাস্থ্য ও সৌভাগ্যের প্রতীক মনে করে।

জার্মানি
বর এবং কনের প্রথম গৃহস্থালি কাজ হবে ভাঙা চীনামাটির বাসনের স্তূপ পরিষ্কার করা, যা বিয়ের দিন উপস্থিত অতিথিরা মাটিতে ছুড়ে ফেলে। মনে করা হয় এটি নববিবাহিতদের খারাপ আত্মার হাত থেকে সুরক্ষিত রাখবে। এছাড়াও এটি নববিবাহিতদের একসাথে কাজ করা এবং যে কোন সমস্যা একসাথে মোকাবেলা করা শেখায়।

জাপান
জাপানে বিয়েতে কনেরা ঐতিহ্যবাহী ‘শিনতো’ অনুষ্ঠানে পা থেকে মাথা পর্যন্ত সাদা পোশাক পরিধান করে থাকে। এমনকি তাদের মেকআপও হবে সাদা। ঐতিহ্যবাহী কিমোনো পোশাকের সাথে তারা মাথায় সাদা রঙের হুড পরিধান করে। সাদা রঙ কনের মনের শুভ্রতা প্রকাশ করে এবং মাথার হুড কনের কথিত ‘হর্ন অফ জেলাসি’ অর্থাৎ ‘হিংসের শিং’ ঢেকে রাখে যা তারা তার শাশুড়ির প্রতি অনুভব করে।

রাশিয়া
নববিবাহিত রাশিয়ান দম্পতিদের একপ্রকার মিষ্টি জাতীয় ব্রেড খেতে দেওয়া হয় যা গম থেকে তৈরি। বর অথবা কনের মধ্যে যে সবচেয়ে বড় ব্রেডের অংশটি খেতে পারবে তাকেই বাড়ির কর্তা হিসেবে ধরে নেওয়া হবে।

পাকিস্তান
কনের বোন এবং মেয়ে বন্ধুরা বরের জুতো নিয়ে লুকিয়ে রাখে, যদি বর তার জুতো ফেরত চায় তবে তাকে একটি মোটা অংকের টাকা দিয়ে জুতো জোড়া ফেরত নিতে হবে, নয়ত খালি পায়েই তাকে পুরো বিয়ের অনুষ্ঠান পার করতে হবে। বলা বাহুল্য আমদের দেশেও এই রীতিটি কম বেশী প্রচলিত আছে।

ফিলিপাইন
বিয়ের অনুষ্ঠানে ফিলিপিনো নবদম্পতিরা একজোড়া কবুতর উড়িয়ে দেয়, যার একটি মেয়ে ও অন্যটি ছেলে। নবদম্পতির জন্য এই কবুতরজোড়া তাদের বিবাহিত জীবনের শান্তির প্রতীক হিসেবে গণ্য হয়।

ভেনেজুয়েলা
বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বর ও কনের সাথে কথা বলার জন্য অপেক্ষা করা একদমই বৃথা, কারণ বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগেই বর ও কনে সেখান থেকে পালিয়ে যাবে। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগে কারও কাছে ধরা না পরে এভাবে পালিয়ে যাওয়াকে সৌভাগ্য হিসেবে ধরা হয়। আর যে ব্যক্তি তাদের অনুপস্থিতি প্রথম ধরতে পারবে তার জন্যও এটি সৌভাগ্যের প্রতীক।

পেরু
পেরুতে বিয়ের জন্য তৈরি বিশেষ কেকে একটি নকল বিয়ের আংটি দেয়া থাকে। কেক পরিবেশনের সময় যে আংটি সহ কেকের অংশটি পাবে তাকে সৌভাগ্যবান মনে করা হবে এবং ধারণা করা হয় পরবর্তী বিয়েটি তারই হতে যাচ্ছে।

- রাজিয়া সুলতানা