শনিবার,১৮ নভেম্বর ২০১৭
হোম / ফিচার / ফিরে দেখা ২০১৬: গৌরবে ভাস্বর অনন্যারা
১২/৩১/২০১৬

ফিরে দেখা ২০১৬: গৌরবে ভাস্বর অনন্যারা

-

১২ মাস কিংবা ৩৬৫ দিন। এই সময়টায় পৃথিবী তার কক্ষপথে একবার সূর্যের চারদিকে প্রদক্ষিণ করেছে। আর প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনে নিজ নিজ কক্ষপথে বারবার ঘুরে চলতে অভ্যস্ত মানুষরা এগিয়ে চলেছে স্বাভাবিক নিয়মে। তবে এই স্বাভাবিকের ভিড়ে কয়েকজন ছিল্নে উজ্জ্বল ব্যতিক্রম, যারা তাদের মেধা ও শ্রম দিয়ে এনেছেন পরিবর্তন এবং সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। ফ্ল্যাশব্যাক মোডে ২০১৬ সাল ঘুরে এসে এমন কয়েকজন নারীর কৃতিত্ব আরো একবার স্মরণ করে নিই চলুন।

স্বর্ণকন্যা মাবিয়া এবং মাহফুজা
বছরের শুরুর দিকে ভারতে আয়োজিত এসএ গেমস-এ স্বর্ণপদকজয়ী প্রমীলা ভারোত্তলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত এবং তুখোড় সাঁতারু মাহফুজা খাতুন শিলা দেশকে এনে দিয়েছেন অনন্য এক গৌরবের উপলক্ষ। ভারোত্তলনের মতো কঠিন একটি খেলায় ৬৩ কেজি ওজন শ্রেণিতে স্ন্যাক এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্ক রাউন্ড মিলিয়ে ১৪৯ ওজন তুলে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরেছিলেন ভারোত্তলক মাবিয়া। আর ১০০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোকে ১ মিনিট ১৭:৮৬ সেকেন্ড এবং ৫০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোক ইভেন্টে ৩৪.৮৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে রীতিমতো এসএ গেমসের ইতিহাসে রেকর্ড গড়েই দেশকে অনাবিল আনন্দে ভাসান মাহফুজা।

সারা হোসেন
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর কর্তৃক প্রদত্ত ‘ইন্টারন্যাশনাল উইমেন অব কারেজ অ্যাওয়ার্ড’ সম্মাননা পেয়েছেন বাংলাদেশের আইনজীবী সারা হোসেন। সমাজে অবহেলিত ও পিছিয়েপড়া নারীদের অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণের জন্য বহু বছর ধরে কাজ করছেন এই আইনজীবী। নারীর প্রতি সহিংসতা রক্ষায় প্রবর্তিত আইনের খসড়া প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন সারা হোসেন। তাঁর নিরলস পরিশ্রমের বদৌলতে ২০১০ সালে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে তা পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হয়। আর এই মহান কর্মযজ্ঞের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার পান তিনি।

নাদিয়া শাহ
বছরের মাঝামাঝিতে লন্ডনের মেয়র নির্বাচনে জয়লাভ করে সারা বিশ্বে তাক লাইয়ে দেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী নাদিয়া শাহ। প্রথম বাংলাদেশির পাশাপাশি নাদিয়াই প্রথম মুসলিম নারী যিনি ব্রিটেনের কোনো শহরে মেয়র পদে নিযুক্ত হলেন। কৈশোর থেকেই ক্যামডেনে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করে আসছেন তিনি। এছাড়া মাদকাসক্তদের সহায়তায় প্রকল্প ও একটি কমিনিউটি সেন্টারে সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার জন্য নিরলস কাজ করেছেন এই আত্মবিশ্বাসী নারী। আর মেয়র নির্বাচনে এই সাফল্যের কারণে বিশ্বমঞ্চে নারীদের জন্য এক রোল মডেলে পরিণত হয়েছেন এই নারী।

শরনার্থী ইয়ুসরা মারদিনি
গেল বছরে অনুষ্ঠিত অলিম্পিক গেমসে শরণার্থী ও দেশহীন উদ্বাস্তুদের নিয়ে বিশেষ দলের হয়ে অংশগ্রহণ করা এই সাঁতারু তার ইস্পাত-কঠিন মনোবলের জন্য সমগ্র বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছিলেন। সিরিয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চল থেকে পালিয়ে ছোট ডিঙি নৌকা নিয়ে তুরস্ক ও গ্রিসের মধ্যকার হিমশীতল এজিয়ান সাগর পাড়ি দেয়া এই প্রমীলা সাঁতারু এমন দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন শুধুমাত্র সাঁতারের প্রতি তার অগাধ ভালোবাসার জন্য। এত প্রতিকূল পরিবেশ পাড়ি দিয়ে অলিম্পিকে অংশ নেয়া এই সাঁতারু পরিণত হয়েছেন ক্রীড়াপ্রেমী মারীদের অনুপ্রেরণা যোগানো এক আইকন।

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ প্রমীলা ফুটবল দল
এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন অনূর্ধ্ব-১৬ প্রমীলা ফুটবল দল বছরজুড়েই ছিলেন মৃতপ্রায় বাংলাদেশ ফুটবলের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন। প্রতিযোগিতায় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন করার পাশাপাশি নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো নিয়ে গিয়েছে অনূর্ধ্ব-১৬ এএফসি নারী টুর্নামেন্টের মূল পর্বে। এ-বছর থাইল্যান্ডে এশিয়ান পরাশক্তি উত্তর কোরিয়া, চীন বা জাপানের সঙ্গে একই মঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা বহন করবেন কৃষ্ণা রানিরা যা দেশের ফুটবল ইতিহাসে এক কথায় অনন্য প্রাপ্তি বলা চলে।

একজন সংকল্পবদ্ধ নারী ছাড়াও বছরজুড়ে অনেক নারীই স্ব স্ব ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কাজের মাধ্যমে দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছেন। তাঁদের প্রতি অনন্যার পক্ষ থেকে রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ।

- নাসিফ রাফসান