রবিবার,২০ অগাস্ট ২০১৭
হোম / অন্দর-বাগান / ঘরের সাজে ক্রিসমাসের আমেজ
১২/২৩/২০১৬

ঘরের সাজে ক্রিসমাসের আমেজ

-

আর কিছুদিন পরেই আসছে ক্রিসমাস বা বড়দিন। সারা বিশ্বের খ্রিস্টান ধর্মালম্বীদের জন্য সবচেয়ে বড় উৎসব। পশ্চিমাবিশ্বের মতো অতটা জমকালোভাবে না হলেও বাংলাদেশে সাধ্যমতো আনন্দঘন পরিবেশে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী মানুষের সঙ্গে সবাই ‘ক্রিসমাস ডে’ (শুভ বড়দিন) উদযাপন করে থাকেন। আর বড়দিন পালনের প্রধান একটি অংশ হলো ঘর সাজানো। বিশেষ এই দিনটি সামনে রেখে কিভাবে ঘর গোছাতে পারেন, তা সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।

ডাইনিং রুম
ক্রিসমাসে ডাইনিং রুম খুবই গুরুত্বপূর্ণ স্থান। কেননা অনেকটুকু সময় একে ঘিরেই থাকে সবাই। আপনার ক্রিসমাস ডিনার টেবিলের জন্য বানিয়ে নিন একটি সুন্দর সেন্টারপিস। টেবিলের মাঝামাঝি জায়গায় একটি মাঝারি আকারের বোল রেখে তাতে লাল আপেল, কমলা বা আঙুরের মতো সুস্বাদু, আকর্ষণীয় ও রঙিন ফলমূল রাখুন এবং এই পাত্রে কিছু পরিষ্কার পাতা সাজিয়ে দিন।

সেন্টারপিসের জন্য বেছে নিতে পারেন ছোটো সাজানো গাছ কিংবা মোমবাতিও। মোমবাতির ক্ষেত্রে বড় একটি মোমদানি ব্যবহার করুন এবং কিছু সবুজ পাতা দিয়ে পরিপাটি করে সাজিয়ে নিন। ডাইনিং টেবিলের চেয়ারগুলোর চারপাশে মখমল বা চকচকে কাপড় দিয়ে মোড়ান।

খাবার টেবিলের পাশে লম্বা একটি ছোট্ট টেবিলের মতো রাখুন এবং তাতে একটি বড় বোল বা জগে বিভিন্ন আকৃতির চকলেট বার, ক্যান্ডি দিয়ে রাখুন। এতে শুধু খাবারের পরে মিষ্টিমুখ করার উদ্দেশ্যই পূর্ণ হয় তা না, সঙ্গে খাবার ঘরে অসাধারণ একটি ডেকোরেশনও তৈরি হয়। জায়গাটির পেছনে কার্ডবোর্ড বা কাগজে ‘চকলেট স্টেশন’ লিখেও ঝুলিয়ে দিতে পারেন।

যেহেতু বড়দিন সবসময় শীতের সময়েই পড়ে, তাই সবার জন্য হট চকলেট কাপও পরিবেশন করতে পারেন।

ঘর সাজানোর টুকিটাকি
- জানালার ধারে কিংবা বাড়িতে ঢোকার দরজার বাইরে লাল রঙের কিছু মোজা (যা ক্রিসমাস স্টকিংস নামে পরিচিত) ঝুলিয়ে দিন, এতে ক্রিসমাসের আমেজ আসে পুরো ঘরেই। এই মোজাগুলোতে আপনার নাম, আপনার পরিবারের অন্যান্য সদস্যের নাম, আপনার পোষা কোনো প্রাণী থাকলে তার নামও সোনালি বর্ণে লিখিয়ে নিন।

- ক্রিসমাস এঞ্জেল ঘরের জন্য মঙ্গলজনক হিসেবে মনে করা হয় এবং তাই ক্রিসমাসের দিন আপনার ঘরে শান্তি, আনন্দ ও সৌন্দর্য যোগ করতে এঞ্জেল আকৃতির কিছু বিভিন্ন ধরনের অলঙ্কার গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে দিন।

- বাড়িতে ঢোকার পথটা মরিচবাতি দিয়ে সাজিয়ে নিতে পারেন।

- বড়দিনের ছোঁয়া আনতে দরজার পাশে এবং ঘরের কিছু খালি দেয়ালে ফুলের তোড়া ঝুলিয়ে দিন, এতে ঘর বেশ সুন্দর দেখাবে।

- বাড়ির কিছু জায়গায় যেমন সেন্টার টেবিলের উপরে বা বেডসাইড টেবিলে কিছু লাল রঙের গ্লাস শৈল্পিকভাবে রাখুন। ক্রিসমাসের অন্যতম প্রধান একটি রং লাল হওয়ায় এটি ঘরে উৎসবের আমেজ নিয়ে আসবে।

- আপনার এ্যাপার্টমেন্টে ওঠার পথের সিঁড়ি কিংবা বারান্দার রেলিং জড়িয়ে লতানো গাছ লাগিয়ে দিন, এতে পুরো বাড়িতেই একটি ক্ল্যাসিক ক্রিসমাস লুক আসবে। সঙ্গে ঘরের ঝাড়বাতিগুলোকে ঘিরেও সবুজ জড়িয়ে দিতে পারেন।

খেয়াল রাখুন
ক্রিসমাস ডেকোরেশন শুরু হয় ২৫ তারিখের অন্তত এক সপ্তাহ আগে; ঘরবাড়ি জামাকাপড় ও আসবাবপত্র ধোয়া, পরিষ্কার করা, স্ক্রাবিং, পলিশ করা ও ইস্ত্রি করা ইত্যাদি কাজের মাধ্যমে। এক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন:

- প্রথমেই আগে আগে বাড়ির সব বাল্বগুলো পরীক্ষা করে দেখুন। ক্রিসমাসের দিন সঙ্গে একটি টেস্টার থাকা ভালো, এতে কোনো বাল্ব নষ্ট হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে ঠিক করা যাবে।

- কোনো বিশেষ দিনের ঘর সাজানোতে ব্যক্তিগত স্পর্শ থাকা খুব প্রয়োজন। দরকারি সব জিনিস দোকান থেকে না কিনে নিজ হাতে বানানো কিছু অলংকার, সযত্নে ট্রিম করা ছোটো একটি ক্রিসমাস গাছ এবং মরিচবাতি দিয়ে সাজিয়ে নিন ঘর।

- মোবাইল বা ক্যামেরায় পুরো চার্জ দিয়ে রাখুন, যাতে উৎসবের স্মরণীয় মুহূর্তগুলো ধরে রাখতে পারেন।

- নুসরাত ইসলাম