বুধবার,২৩ অগাস্ট ২০১৭
হোম / ফিচার / বড়দিনের আয়োজন
১২/২৩/২০১৬

বড়দিনের আয়োজন

-

সারা পৃথিবীর খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী মানুষদের জন্য ক্রিসমাস বা ‘বড়দিন’ প্রধান ধর্মীয় উৎসব। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও উৎসবমুখর পরিবেশে বড়দিন উদযাপন করা হয়। যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ-উৎসবের মাঝে পালিত এই উৎসবের রংটা দেশের অন্যান্য স্থানের তুলনায় ঢাকাতেই একটু বেশি গাঢ় বলা যায়।

ঢাকা শহরে ক্রিসমাস
ঠিক বিদেশি ধাঁচে বাংলার ঘরে ঘরে ক্রিসমাস ও তার আগের উৎসবগুলো (যেমন-থ্যাংকসগিভিং) পালন করা হয় না। তবে এদেশেও গির্জায় গির্জায় চলে প্রার্থনা ও প্রীতিভোজ। অভিজাত হোটেল ও খাবারের জায়গাগুলোতে ক্রিসমাস স্পেশাল আয়োজন করা হয়।

খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী মানুষরা ক্রিসমাস ইভ (২৪ তারিখ রাত) থেকে গির্জায় ভিড় জমায় এবং প্রার্থনা চলে বড়দিন জুড়েই। বাংলাদেশের খ্রিস্টান সম্প্রদায় ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা থেকেই বড়দিন উপলক্ষে উৎসব পালন করা শুরু করে। ২৫ তারিখ সকালে রাজধানীর তেজগাঁও ক্যাথলিক গির্জা (পবিত্র জপমালার গির্জা) এবং কাকরাইলের আর্চ বিশপ হাউসসহ অন্যান্য গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা ও খ্রিস্টযোগ হয়। দিনটিকে ঘিরে বিভিন্ন গির্জার আঙিনায় আর কিছুদিনের মধ্যেই মেলা বসবে এবং দোকানগুলোতে বিক্রি হবে যিশু-মরিয়মের মূর্তি, কার্ড, বিভিন্ন রঙের মোমবাতি, স্যান্টা ক্লজের টুপি, জপমালা, ক্রিসমাস ট্রি জাতীয় বিভিন্ন দরকারি জিনিস।

ঢাকা শহরের ৪০টি গির্জার বেশিরভাগেই মাথায় লাল টুপি-জামা-প্যান্ট, শুভ্র লম্বা দাড়ি-গোঁফ, আকর্ষণীয় জুতা, পিঠে ঝোলা ব্যাগ নিয়ে তৈরি থাকেন স্যান্টা ক্লজ। খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী মানুষরা সাধারণত নিজেদের মধ্য থেকেই একজনকে স্যান্টা ক্লজ বানান। বড়দিনের জন্য ঢাকার অনেক এলাকায় বা গির্জা প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় প্রীতিভোজের। সবাই শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এই প্রীতিভোজে।

ঢাকার সব পাঁচতারকা হোটেলেই বিশেষ আয়োজনের ব্যবস্থা নেয়া হয়ে থাকে এ দিনকে ঘিরে। গত কয়েক বছর ধরেই র‌্যাডিসন, প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ, ওয়েস্টিন, লা মেরিডিয়ান, সিক্স সিজনস ইত্যাদি তারকা হোটেলে জাঁকজমক করে বড়দিন উদযাপন করা হয়। এই হোটেলগুলোর প্রধান আকর্ষণ থাকে ক্রিসমাস ট্রি। যদিও ক্রিসমাস ট্রি বানানোর জন্য অন্যান্য দেশে পাইন গাছ ব্যবহার করা হয়, আমাদের দেশে সাধারণত ঝাউগাছ দিয়েই কাজ চালানো হয়।

প্রথাগত আয়োজনের সঙ্গে উৎসবে বাঙালিয়ানার ছোঁয়াও দেখা যায়। ক্রিসমাস ক্যারলের পাশাপাশি নজরুল, রবীন্দ্রসংগীত, ভাটিয়ালী, কীর্তন ইত্যাদির পরিবেশন তারই প্রমাণ। ক্রিসমাস ডিনারে বিদেশি ডিশের সঙ্গে থাকে পোলাও, মাংস, বিরিয়ানি জাতীয় খাবার। আবার ক্রিসমাস কেকের পাশাপাশি মিষ্টি জাতীয় খাবারের কাতারে পিঠা-পুলি, দই, মিষ্টি, রসমালাই, লাচ্ছি ইত্যাদি যোগ হয়।

এসব হোটেলে বড়দিনে শিশুদের জন্য অনন্য একটি সংযোজন থাকে -- স্যান্টা ক্লজ। ‘ক্রিসমাস ফাদার’ হিসেবে পরিচিত স্যান্টা ক্লজের পিঠে ঝোলানো বড় ঝুলির ভেতরে থাকে শিশুদের জন্য উপহার। শুধু উপহার বিতরণই নয়, স্যান্টা ক্লজের উপস্থিতি সবার বিনোদনের একটি উৎসও বটে।

ঢাকায় খ্রিস্টান সম্প্রদায় তাদের ঘর বাড়ি আকর্ষণীয়ভাবে সাজায়। ঘরে নানাধরনের আলোকসজ্জা, আল্পনা আঁকা, গাছের গোড়ায় চুন দেওয়া, ঘরের চালায় আলো দিয়ে তারা তৈরিসহ নানাভাবে সাজানো হয় বাড়ি।

অনেকেরই এটি জানা নেই যে, আমাদের দেশে খ্রিস্টানরা শতাংশের হিসাবে মোট জনসংখ্যার মাত্র ০.০৪% হলেও, এখানে আমেরিকারও অনেক আগে থেকে ঘটা করে ক্রিসমাস পালনের রীতি প্রচলিত। যেখানে ব্রিটিশরা ভারতীয় উপমহাদেশের ক্ষমতা গ্রহণ করার পর থেকেই বাংলাদেশে বড়দিনের ছুটি পালন করা হয়, সেখানে আমেরিকায় ক্রিসমাসের দিনটিকে ছুটির দিন হিসেবে পালন করা শুরুই হয়েছে ১৮৭০ সালের পর থেকে। এদিক থেকে ঢাকায় ক্রিসমাস আয়োজনের রীতি বেশ পুরানো বলা চলে। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব এদেশে হয়ে ওঠে সর্বজনীন একটি উৎসব।

- নৌশিন মিথি