রবিবার,২০ অগাস্ট ২০১৭
হোম / ভ্রমণ / ভ্রমণে চলুন হংকং
১২/১৯/২০১৬

ভ্রমণে চলুন হংকং

-

চীনের দক্ষিণপূর্বে অবস্থিত হংকং বর্তমানে চীনের একটি স্বতন্ত্র প্রশাসনিক অঞ্চল হলেও আগে তা ছিল একটি ব্রিটিশ উপনিবেশ। হংকং বর্তমানে পৃথিবীর অন্যতম প্রভাবশালী ব্যবসায়িক অঞ্চল এবং এর পাশাপাশি একটি অতি জনপ্রিয় ভ্রমণের গন্তব্য। এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব পরিবর্তন আসে চীন এবং যুক্তরাজ্যের শত বছরের পুরনো আন্তর্জাতিক সম্পর্কের কারণে। ১৯৫০ সাল থেকে শুরু হয় হংকং-এর দ্রুত উন্নয়ন এবং ১৯৯৭ সালে ব্রিটিশ সরকার এই অঞ্চলের দায়িত্ব চীনের কাছে হস্তান্তর করে।

হংকং-এর সৌন্দর্য বোঝার জন্য আপনার জানতে হবে এই অঞ্চলের ইতিহাস। ব্যবসার খাতিরে এই অঞ্চলে কালক্রমে পাড়ি জমিয়েছে নানা দেশ ও জাতির মানুষ। আমেরিকান, ইন্ডিয়ান, আফ্রিকান ইত্যাদি নানা মানুষের আসা যাওয়ার ফলে হংকং পৃথিবীর বুকে এক অন্যতম বিশ্বজনীন অঞ্চল হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে। নানা ধরনের মানুষের সংস্কৃতির সঙ্গে এখানে এক হয়ে মিলে গেছে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক চালচলন এবং চীনের রক্ষণশীল সমাজের সামাজিক প্রথা যেখানে আপনি দেখতে পাবেন এক অনন্য বৈচিত্র্য। হংকং-এর রাস্তাঘাটে ঘুরলে কিছুক্ষণ পরপর আপনার মনে হবে যেন অন্য এক দেশে এসে পড়েছেন। বাজার-হাট, দালানকোঠা সবকিছুতেই যেন বিশ্বায়নের ছাপ দেখা যায়।

বিশ্বের সবচাইতে বড় ব্যাংকগুলো হংকং অঞ্চলে গড়ে তুলেছে তাদের সুবিশাল অবকাঠামো, যা রাতের আকাশে আলোকিত শিখরের মতো দাঁড়িয়ে থাকে সবকিছু ছাড়িয়ে। বলা হয়ে থাকে, হংকং-এর রাতের আকাশ দিনের সূর্য থেকেও উজ্জ্বল। প্রত্যেকটি দালান নির্মাণকৌশলের দিক দিয়ে অসাধারণ। হংকং শপিং করার জন্যও অন্যতম একটি গন্তব্য। শহরের প্রাণকেন্দ্রের পাশেই আছে পণ্য রপ্তানির জন্য বন্দর। হংকং-এর বন্দর কোনো সাধারণ পণ্য ওঠানামার স্থান নয়, বরং এটি শহরের সঙ্গে প্রকৃতির এক অদ্ভুত মেলবন্ধন।

হংকং-এর মূল ভিক্টোরিয়া শহরের পাশেই অবস্থিত ‘ভিক্টোরিয়া পিক’। ভিক্টোরিয়া সেন্ট্রালের জগদ্বিখ্যাত রাতের আকাশ দেখার জন্য ভিক্টোরিয়া পিকের পর্বত চূড়ায় ট্যুরের জন্য আছে ‘ভিক্টোরিয়া ট্রাম লাইন’। পাহাড়ের চূড়ায় ট্রামটি ধীরগতিতে উঠে যায় এবং চোখের সামনে নিয়ে আসে হংকং-এর আকাশ, সুউচ্চ দালানগুলো যেন তখন মেঘ ছুঁয়ে যায়। রাতের বেলা সেই ভিক্টোরিয়া পিক হয়ে যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং অদ্ভুত সুন্দর একটি স্থান।

মূল শহরে ঘুরে বেড়ালে হংকংকে আপনার ঢাকা শহরের চেয়েও জনবহুল মনে হবে। তবে হংকং শুধুমাত্র শহুরে ব্যস্ততার স্থান নয়। মূল শহর থেকে কিছুটা দূরে আছে মেঘে আবৃত উঁচু পাহাড় এবং প্রকৃতির অপরূপ পরিবেশ। বন্দর থেকে নৌকায় করে যাওয়া যায় দক্ষিণ চীনা সমুদ্রে অবস্থিত হংকং-এর কিছু দ্বীপে। সেগুলোতে স্থানীয়রা সামুদ্রিক মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে এবং প্রত্যেকটি দ্বীপ সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে অদ্বিতীয়। তাছাড়া হংকং থেকে ছেড়ে যায় পৃথিবীর সবচাইতে নামি-দামি ক্রুজ জাহাজগুলো। ক্রুজ ভ্রমণের জন্য আপনার আগে থেকে পরিকল্পনা করে যেতে হবে এবং অবশ্যই দুই থেকে তিন মাস হাতে নিয়ে ভ্রমণে রওনা দিতে হবে।

হংকং শহরের অদূরে আছে দু’টি থিম পার্ক– হংকং ডিজনিল্যান্ড ও ওশান পার্ক। আন্তর্জাতিক মানের এই দু’টি থিম পার্ক উন্নত এই দেশটির অন্যতম বিনোদনের স্থান। ছুটির দিনে প্রচুর জনসমাগম হয় এখানে। তাছাড়াও, নানা রকম জাদুঘর আছে হংকং -এর বিভিন্ন অঞ্চলে। বৌদ্ধমন্দির এবং প্রাচীন স্থাপনা সংরক্ষিত আছে বেশ কয়কটি দ্বীপে।

খরচ
হংকং বিশ্বে চতুর্থ প্রভাবশালী অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং এখানে ভ্রমণের খরচ নিতান্ত কম নয়। হংকং ভ্রমণে যেতে হলে আপনার অবশ্যই পকেট ভারি করে যেতে হবে। আপনি সেখানে ‘অক্টোপাস কার্ড’ ব্যবহার করতে পারেন, যা একটি ইউজারভিত্তিক ক্রেডিট কার্ড। ডলারের বিনিময়ে এই কার্ড কিনে আপনি যে কোনো জায়গায় লেনদেন করতে পারবেন।

ভিসা
বাংলাদেশি নাগরিকদের হংকং ভ্রমণের জন্য ভিসা প্রয়োজন হয়। ঢাকায় চীনের এমব্যাসি থেকে তা সংগ্রহ করা যায় এবং নানা এয়ারলাইনের নিয়মিত ফ্লাইট আছে হংকং-এর জন্য।

- কাজী মাহদী