বুধবার,১৬ অগাস্ট ২০১৭
হোম / ফিচার / আন্তর্জাতিক তাঁত উৎসব: ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন
১২/১৯/২০১৬

আন্তর্জাতিক তাঁত উৎসব: ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন

-

আবহমান বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অন্যতম পরিচায়ক হলো তাঁতশিল্প। বিদ্যুৎ কিংবা অন্যান্য জ্বালানি ছাড়াই সম্পূর্ণ হাতের ছোঁয়ায় পরিবেশবান্ধব উপায়ে প্রস্তুত এই তাঁতবস্ত্রের সুনাম তাই সুদূর বিস্তৃত। তবে সময়ের সাথে সাথে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে দেশের তাঁতশিল্পের পুরনো জৌলুস আর নেই। ভাটার টান দেখা দিয়েছে। তাঁতশিল্পের সেই হারানো জৌলুস ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে গত ১৭ থেকে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক তাঁত উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে সফল এই আয়োজনে উৎসুক মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণে বোঝা যায়, তাঁতবস্ত্রের আবেদন এখনো এতটুকু কমেনি।

আন্তর্জাতিক তাঁত-উৎসব ২০১৬
১৭ থেকে ১৯ নভেম্বর এই তিন দিন দেশে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক তাঁত-উৎসব আয়োজন করা হয়। ঢাকা সেনা জাদুঘরে আয়োজিত এই উৎসবের আয়োজক টিএস ইভেন্টস ও রিলাস ফ্যাশন বুটিক। ‘দেশিয় পণ্য কিনুন, দেশিয় বস্ত্র পরুন’ -- এই কথাকে সামনে রেখে আয়োজিত উৎসবটিতে বাংলাদেশসহ পাঁচটি দেশের ২৫জন ডিজাইনার তাদের নিপুণ শিল্পকর্ম তুলে ধরেন। উৎসবজুড়ে খাদি, জামদানি, মসলিন, গামছা, বেনারসি ও জামদানি কাপড়ের পোশাকের প্রদর্শনী ছিল। বলার অপেক্ষা রাখে না তা দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণে পুরোপুরি সক্ষম হয়েছিল। পোশাকের পাশাপাশি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, তথ্যচিত্র প্রদর্শনী এবং জেমসের গান ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছিল বলা চলে।

আতশবাজির আলোয় শুভ উদ্বোধনের পর অনুষ্ঠানের প্রথম দিনে খাদি এবং জামদানি পোশাক প্রদর্শন করা হয়। প্রদর্শনী স্থানটি অনেকটা গ্রাম্য হাটের মতো করে সাজানো হয়, যা ঢাকার বুকে কিছুটা হলেও ঐতিহ্যবাহী তাঁতপল্লীর আমেজ তৈরি করেছিল। প্রথম দিনে ডিজাইনার তুতলী রহমান এবং স্যামুয়েল হকের বানানো জামদানির পাশাপাশি ভারতীয় বেশ ক’জন ডিজানারের কাজও প্রদর্শন করা হয়। দিনশেষে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি শিল্পী শিরিন, ব্যান্ড দল চিরকুট এবং ভারতীয় গায়িকা মোনালি ঠাকুরের গান উৎসবের আনন্দ বাড়িয়ে দিয়েছিল বহুগুণে।

উৎসবের দ্বিতীয় দিনে গামছা ও বাংলার ঐতিহ্যবাহী মসলিনের প্রদর্শনী ছিল। জনপ্রিয় ব্যান্ড জলের গান-এর মনোজ্ঞ সংগীত পরিবেশনার পাশাপাশি দিনটিতে শ্রীলংকান ডিজাইনারদের সৃষ্টিশীল হস্তশিল্পের প্রদর্শনী চলে। ঢাকার বিখ্যাত মিরপুরী বেনারসির বাহারি নকশা ও কারুকাজ দেখা গিয়েছে উৎসবের তৃতীয় ও শেষ দিনে। এদিনে নেপালি ডিজাইনের পোশাকের প্রদর্শনীর পাশপাশি আজীবন সম্মাননা পুরস্কারেরও আয়োজন করা হয়। দিনশেষে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি টানা হয়।

খাদি: দ্য ফিউচার ফেব্রিক শো বাংলাদেশ
একটা সময়ের ‘মোটা চাল, মোটা কাপড়’ ঐতিহ্যের অনুসারী বাঙালির জীবনে পরিবর্তন এসেছে অনেক। চিকন চালের পাশাপাশি মোটা কাপড়ও এখন অনেক মিহি হয়েছে, এর সঙ্গে যোগ হয়েছে দেশ-বিদেশের নিত্যনতুন ডিজাইন। তবে এত কিছুর পরও মোটা খাদি কাপড়ের আবেদন কিন্তু আগের মতোই আছে।

খাদি কাপড়ের এই জনপ্রিয়তার কথা মাথায় রেখে চলতি ডিসেম্বরের ৯-১০ তারিখে আয়োজিত হলো ‘খাদি: দ্য ফিউচার ফেব্রিক শো বাংলাদেশ’ নামের বিশেষ ফ্যাশন শো। র‌্যাডিসন ব্লু-তে বাংলাদেশ ফ্যাশন ডিজাইন কাউন্সিলের উদ্যোগে আয়োজিত এই ফ্যাশন শো’তে বরাবরের মতো এবারো বাংলার ঐতিহ্যবাহী খাদি কাপড়ের তৈরি পোশাকের বাহারি প্রদর্শনী ছিল। সেটি আরেকবার মনে করিয়ে দিয়েছে যতই নিত্যনতুন ট্রেন্ড আসুক না কেন, বাঙালির ঐতিহ্যের শেকড়টা এখনো মজবুতই আছে।

জামদানি হোক বা খাদি, উন্নতমানের কাপড় ও নকশার দিক থেকে বাংলাদেশে প্রস্তুত পোশাক এক কথায় শৈল্পিক বলা চলে। এর নেপথ্যে রয়েছে এ দেশের গর্বের তাঁতশিল্প এবং সৃষ্টিশীল ক্ষমতার তাঁতিরা। এ-ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে তাই দেশের তাঁতশিল্প আরো একধাপ এগিয়ে যাবে,এমনটা আশা করাই যায়।

-মুহাম্মদ রিদোয়ান