বুধবার,২৩ অগাস্ট ২০১৭
হোম / রূপসৌন্দর্য / পা ফাটার ঘরোয়া প্রতিকার
১২/১৫/২০১৬

পা ফাটার ঘরোয়া প্রতিকার

-

শীত এলেই ত্বক অনেকটা শুষ্ক ও প্রাণহীন হয়ে পড়ে। সেই সঙ্গে চামড়া ওঠা বা পা ফাটার মতো সমস্যাও দেখা দেয়। এ-ধরনের সমস্যা থেকে রেহাই পেতে অনেক সময় শুধু লোশন বা তেল যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন পড়ে বাড়তি যত্ন।

পা বা পায়ের গোড়ালি ফাটার সমস্যা নতুন কিছু নয়। শীত এলে এই সমস্যা আরও বেড়ে যায়। এর কারণে পা যেমন সৌন্দর্য হারায়, তেমনি সমস্যা বেড়ে গেলে তা থেকে ব্যথাও হতে পারে। তাই শুরু থেকেই যত্ন নেওয়া জরুরি।

এই প্রতিবেদনে সহজলভ্য কিছু ঘরোয়া উপাদান দিয়ে কিভাবে ফাটা পায়ের যত্ন নেওয়া যায় তা উল্লেখ করা হলো।

ওটমিল ও জোজোবা তেলের স্ক্রাব
ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে বেশ কার্যকর ওটমিল। ১ টেবিল চামচ ওটমিলের সঙ্গে খানিকটা জোজোবা তেল মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করতে হবে। এই মিশ্রণ পুরো পায়ে লাগিয়ে ভালোভাবে ঘষে নিন। বিশেষ করে ফাটা অংশে। এরপর আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। মিশ্রণ শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

লেবু, লবণ, গ্লিসারিন ও গোলাপজলের মিশ্রণ
একটি বড় পাত্রে কুসুম গরম পানি নিয়ে সেখানে সামুদ্রিক লবণ, লেবুর রস, গ্লিসারিন এবং গোলাপজল নিন। তারপর ওই পানিতে পা ভিজিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর ঝামা বা ‘ফুট স্ক্রাবার’ দিয়ে পায়ের গোড়ালি বিশেষ করে ফাটা অংশ ভালোভাবে স্ক্রাব করে নিন। তবে বেশি জোর দিয়ে ঘষা যাবে না। হালকাভাবে ঘষে মৃত চামড়া উঠিয়ে নিতে হবে।

স্ক্রাবিং শেষে ১ টেবিল চামচ গ্লিসারিন, ১ টেবিল চামচ গোলাপজল ও ১ টেবিল চামচ লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে গোড়ালি ফাটা জায়গায় লাগিয়ে রাখতে হবে সারারাত। এই মিশ্রণ কিছুটা আঠালো তাই চাইলে ঘুমানোর আগে মোজা পরে ঘুমানো যেতে পারে।

সবশেষে সকাল বেলা হালকা গরম পানিতে ধুয়ে ফেললেই পা দেখাবে মসৃণ । কিছুদিন পর পর এই পদ্ধতিতে পা পরিষ্কার করলে অচিরেই উপকার পাবেন।

কলার মাস্ক
একটি পাকা কলা চটকে নিয়ে পুরো পায়ে এবং গোড়ালিতে লাগিয়ে ১০ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলতে হবে। চাইলে কলার সঙ্গে খানিকটা অ্যাভোকাডো মিশিয়েও মিশ্রণ তৈরি করা যায়।

একটি পাকা কলার সঙ্গে অর্ধেক অ্যাভোকাডো বা খানিকটা নারিকেলের শাঁস ব্লেন্ড করে ঘন পেস্ট করে নিতে হবে। তারপর সেটা গোড়ালির ফেটে যাওয়া জায়গায় লাগিয়ে নিতে হবে।

বিভিন্ন ধরনের তেল
সাধারণত পায়ের গোড়ালি শুষ্ক হয়ে গেলে গোড়ালি ফেটে যায়। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে তেল ম্যাসাজ বেশ উপকারী।

প্রথমে পা পরিষ্কার করে ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। তারপর গোড়ালির ফেটে যাওয়া অংশে বাদাম তেল বা জলপাই তেল বেশি পরিমাণে লাগিয়ে একজোড়া মোটা মোজা পরে সারারাত রেখে দিতে হবে। সকালবেলা কুসুম গরম পানি দিয়ে পা ধুয়ে নিতে হবে। নিয়মিত তেল ব্যবহার গোড়ালির ফাটা কমাতে সাহায্য করে।

মধু
মধুতে আছে ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধক উপাদান। এছাড়াও মধু ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

কুসুম গরম পানিতে ১ কাপ মধু মিশিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পা ভিজিয়ে রাখুন। তারপর ফাটা গোড়ালির চামড়া নরম হয়ে এলে হালকাভাবে পা ঘষে ধুয়ে ফেলতে হবে। এতে পায়ের রুক্ষ ত্বক কোমল ও নমনীয় হবে। আর নিয়মিত ব্যবহারে পা ফাটাও কমে আসবে।

শীতে আর্দ্রতা কমে যাওয়ার কারণে ত্বক শুষ্ক হওয়া ও ফেটে যাওয়াসহ নানান সমস্যা দেখা দেয়। তাই এ সময় ত্বকের নমনীয়তা ধরে রাখতে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত।

তাছাড়া ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহার থেকে বিরত থাকা ভালো। বরং মাইল্ড ক্লিনজার ব্যবহার করে ত্বক নিয়মিত পরিষ্কার করা উচিত।

- সামিরা আহসান