শনিবার,১৮ নভেম্বর ২০১৭
হোম / জীবনযাপন / বিবাহিত জীবনে চিরসুখী হতে চান?
০৩/১৬/২০১৬

বিবাহিত জীবনে চিরসুখী হতে চান?

- নুসরাত ইসলাম

আমাদের সবার প্রেমকাহিনিই স্বপ্নময় প্রেমের প্রথম অনুভূতি পাওয়া থেকে শুরু করে ভালোবাসার সম্পর্কে যাওয়া, একে অপরের কাছে আসা, রাতভর মুঠোফোনে কথা বলা, দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর কিছুক্ষণের জন্য সাক্ষাৎ পাওয়া পর্যন্ত। এসব ছোটো ছোটো ধাপ পেরিয়ে, অনেক অপেক্ষার পরে আসে সেই সন্ধিক্ষণ - বিয়ের দিন। কিন্তু এখানেই সব শেষ না, বরং শুরু। জীবনের এক প্রয়োজনীয়, একইসাথে চ্যালেঞ্জিং ক্ষেত্র হলো দাম্পত্যজীবন। অনেকটুকু ভালোবাসা এবং কিছু প্রতিদানের মাধ্যমে আপনি পারেন বিবাহিত জীবনে চিরসুখী হয়ে উঠতে।

একসাথে ঘুমোতে যান
ভালেবাসার মানুষটির ঘুমিয়ে পড়া বা ফোনে কথা বলতে বলতে একসাথে ঘুমিয়ে থাকা পর্যন্ত কত অপেক্ষা করেছেন- খেয়াল আছে সেই দিনগুলোর কথা? এই অভ্যাসটি বিয়ের পরেও বাদ দিবেন না। আপনার স্বামীর যদি কাজ থেকে আসতে দেরি হয়, তবে অফিস থেকে আসার পরে এটি নিয়ে রাগ-অভিমান বা মুখ গোমরা করে না থাকাই শ্রেয়। ভালোবাসার মানুষটির জন্য মাঝে মাঝে কিছু ব্যতিক্রমধর্মী হওয়াটা সম্পর্কের নিগূঢ়তা বাড়ায়। তাছাড়া রাতে একসাথে ঘুমোতে গেলে পরের দিন সকালে প্রায় একই সময়ে ওঠা হয়। দুজনের দিনের শিডিউল এক থাকলে সুসংগতভাবে থাকা যায় এবং এই উপায়ে প্রিয় মানুষটির সাথে অনেকটুকু সময় কাটানো হয়ে যায়।

ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ করুন ইঙ্গিতে
ঘুম থেকে ওঠে কিংবা সকালের নাস্তা বানানোর সময়, বা যখন আপনি বা আপনার স্বামী কাজের জন্য বের হন, অফিস থেকে বাসায় আসার পর মুহূর্তে এবং রাতে ঘুমিয়ে পড়ার আগে আলিঙ্গন বা চুম্বনের মাধ্যমে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ করতে পারেন। ছোটোখাটো উপায়ে অনুভূতি প্রকাশ শুধু আপনার প্রিয় মানুষটিকে দৈনন্দিন জীবনের শত ক্লান্তি থেকে শান্তিই দিবে না, পাশাপাশি সে আপনার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গণনা করবে নিজেকে। একটি জরিপে দেখা গিয়েছে যে সঙ্গীর হাত ধরে রাখলে বা তাকে আলিঙ্গন করলে তা দেহে অক্সিটসিনের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়, এর জন্য আমাদের হৃদপিন্ডের কার্যক্রম ঠিকঠাক থাকে এবং স্ট্রেস লেভেল অনেকাংশে কমে যায়।

বলুন ‘আমি তোমায় ভালোবাসি’
আপনারা বিবাহিত অবশ্যই একে অপরকে ভালোবাসেন বলেই। কিন্তু এখানেই সব শেষ না, মাঝেমধ্যে জাদুকরী এই তিনটি শব্দ আপনার সঙ্গীকে আশ্বস্ত করতে পারে। দিনটি যেভাবেই গড়াক না কেন-রাস্তায় ট্রাফিকে আটকে থেকে, কর্মস্থলে বসের ঝাড়ি খেয়ে বা ভিন্ন কোনো পারিবারিক সমস্যায়- আপনার মুখ থেকে শোনা তিনটি শব্দ তাকে অনুপ্রেরণা দিবে দিনভর।

দিনে অন্তত একবার তার খোঁজ নিন
কাজের ব্যস্ততায় আমরা কাছের মানুষজনের খোঁজ নিতে ভুলে যাই। যার সাথে বাকিটা জীবন একসাথে কাটানোর প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, দেখা যায় দিনের বেশিরভাগ সময় তার ধরা-ছোঁয়ার বাইরেই থাকা হয়। বিয়ের আগে প্রতিক্ষণ মুঠোফোনে আলাপ হলেও, বিয়ের পরে তা আর স্বভাবতই চালিয়ে যাওয়া হয় না। দিনে অন্তত একবার তাকে ফোন দিয়ে খোঁজখবর নিন। এছাড়া ইন্টারনেটের যুগে চাইলেই তাকে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ বা ভাইবার-এ বার্তা পাঠিয়ে দিতে পারেন।

আপনার জীবনসঙ্গীর তারিফ করুন
সম্পর্ক থাকাকালীন সময়ে প্রেমিক-প্রেমিকা একে অপরের প্রশংসায় ব্যস্ত থাকেন তা আপনার খোলাচুল নিয়ে বা তার নতুন পারফিউম নিয়েই হোক না কেন। বিয়ের পর এসব অভ্যাস অতলে হারিয়ে যায়। কেননা তখন আমরা একে অপরকে সারাজীবনের জন্য নিজের মনে করে নিই। কিন্তু না, আপনার অবশ্যই তাকে বোঝাতে হবে যে, বিয়ের পর কিছু বদলায়নি, এখনো আপনারা আগের মতো আকর্ষণীয় আছেন।

দুজনে মিলে একসাথে নতুন কিছু করুন
কয়েকবছর একসাথে বসবাস করার পর স্বাভাবিকভাবে সে আপনার শপিং ব্যাগ ধরে রাখতে কিংবা আপনি তার অবিরত খবরের কাগজ পড়ায় বিরক্ত হয়ে যাবেন এবং একই বিষয়ে ঝগড়া করা প্রতিদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে। ভুলে যান এসব, দুজনে মিলে নতুন কিছু চেষ্টা করে দেখুন। প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে বের হয়ে যান বাড়ির বাইরে, তারাভরা রাতে শহর ছেড়ে দূরে কোথাও রাত কাটান। বনভোজনের আয়োজন করুন, দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ান, সময় ও সুযোগ না পেলে একত্রে বিদেশি ভাষা শেখার কোর্সে ভর্তি হয়ে যান।