রবিবার,২০ অগাস্ট ২০১৭
হোম / ভ্রমণ / বিজয়ের মাসে ঐতিহাসিক স্থাপনায়
১২/০৮/২০১৬

বিজয়ের মাসে ঐতিহাসিক স্থাপনায়

-

আসন্ন বিজয় দিবসের সময় বাঙালি জাতির সুমহান ইতিহাসকে নতুন করে জানার জন্য আপনারা বাংলাদেশের কিছু স্থাপনা ঘুরে দেখতে পারেন। পাকিস্তানের আগ্রাসী থাবা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য বাংলাদেশের মানুষকে করতে হয়েছে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। সেই যুদ্ধের ইতিহাস জানা প্রত্যেকটি বাঙালির পবিত্র দায়িত্ব। চলুন, জানিয়ে দেই কিছু স্থানের কথা, যেখানে ঘুরে আসলে জেনে নিতে পারবেন বাংলাদেশ এবং তার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা যাদুঘর
সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি সুপরিসর নগরউদ্যান। বাংলাদেশের ইতিহাসে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। এই সুবিশাল ঐতিহাসিক ময়দানটির মধ্যে নির্মাণ করা হয়েছে স্বাধীনতা যাদুঘর। একটি সুউচ্চ গ্লাস টাওয়ারের মাটির নিচে শিল্পের ছোঁওয়ায় নির্মাণ করা হয়েছে স্বাধীনতা যাদুঘর। বলতে গেলে বাংলাদেশের সবচেয়ে আধুনিক এবং সুন্দর যাদুঘর এটি। বঙ্গবন্ধুর অম্লান স্মৃতি দেখা যায় চারপাশে, আর যাদুঘরটির আছে একটি অসাধারণ কৃত্রিম ঝরনা। মনোমুগ্ধকর এক স্থাপনা এই যাদুঘরটি। প্রবেশপথের শিখা অনির্বাণ স্থাপনাটিকে আরো অধিক উচ্চতায় নিয়ে যায়। রাতের অন্ধকারে গ্লাস টাওয়ার থেকে আকাশে নিক্ষেপ করা হয় তীব্র আলো, যা পুরো এলাকাটিকে আলোকিত একটি রূপ প্রদান করে।

কখন যাবেন কীভাবে যাবেন
ঢাকার যেকোনো জায়গা থেকে সিএনজি বা বাসে করে শাহবাগ নেমে হেঁটে যাওয়া যায়। যাদুঘরটি সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খোলা থাকে।

শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে শহিদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে ঢাকার রায়েরবাজারে নির্মিত হয় বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ। বাঙালি জাতির বিবেক, চেতনা, মননশীলতা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক ও বাহক এ-মাটির সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার চেষ্টা ছিল পাকিস্তান বাহিনী। তবে, তারা হারিয়ে যায়নি। বাঙালি জাতি এগিয়ে চলেছে এই বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করে। শহিদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য নির্মিত এই স্মৃতিসৌধ সবার মন কেড়ে নিবে এক অদ্ভুত সৌন্দর্যের মধ্য দিয়ে। উঁচুনিচু ভূমির মধ্যে বিস্তৃত এলাকার মাঝে স্মৃতিসৌধটি আপনাকে মিশ্র অনুভুতি উপহার দিবে। নান্দনিক নকশায় নির্মিত এ স্মৃতিসৌধটিতে পর্যটকরা এসে অতীতের কথা জানতে পারেন।

কখন যাবেন কীভাবে যাবেন
এ-স্থাপনাটি সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে। রাতের বেলায় এখানে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। মহাম্মাদপুরের বাসে করে কিংবা অটোতে করে সরাসরি যেতে পারবেন।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর দেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধ-ভিত্তিক জাদুঘর। এটি ঢাকার ৫নং সেগুনবাগিচায় অবস্থিত। মুক্তিযুদ্ধের অনেক দুর্লভ বস্তু আছে এই জাদুঘরে। ইতিহাসের স্মারক সংগ্রহ, সংরক্ষন ও উপস্থাপনের জন্য এই যাদুঘরে আপনার দেখার জন্য অনেক জিনিস রয়েছে। বর্তমানে জাদুঘরের সীমিত পরিসরে প্রায় ১৪০০ স্মারক প্রদর্শিত হলেও সংগ্রহভাণ্ডারে জমা হয়েছে ১৫,০০০-এরও বেশি স্মারক। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের রয়েছে গ্রন্থাগার ও তথ্যভাণ্ডার এবং অডিও-ভিজ্যুয়াল সেন্টার। হৃদয় আলোড়িত করা জাদুঘর-প্রদর্শনী ও বিভিন্নমুখি কর্মতৎপরতা দ্বারা মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর পরিণত হয়েছে নন্দিত প্রতিষ্ঠানে।

জাতীয় স্মৃতিসৌধ
ঢাকা থেকে ২৫ কিমি দূরে, সাভারে অবস্থিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নিবেদিত জাতীয় স্মৃতিসৌধ। বাংলাদেশ স্বাধীনতাযুদ্ধকে চিরস্মরণীয় করে রাখার জন্য এ স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়। শহীদদের গণকবরের জন্য সংরক্ষিত এলাকা, হেলিপ্যাড, গাড়ি পার্কিংয়ের স্থান, চত্বর, কৃত্রিম লেক, উদ্যান ইত্যাদি মিলিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধ শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের প্রতীক হিসেবে সুমহান উচ্চতায় দাঁড়িয়ে আছে চিরস্থায়ী সৌন্দর্যের সাথে ।

প্রায় ১০ হেক্টর জমি নিয়ে স্মৃতিসৌধের পাশে আছে বৃক্ষরাজি পরিপূর্ণ একটি সবুজ বলয়। ঝকঝকে মেঝে, লেকে গোলাপি শাপলার ছড়াছড়ি আর সাথে গাছের পাখিদের খেলা সব মিলিয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের জন্য উপযুক্ত চিরনিদ্রার স্থান এই জাতীয় স্মৃতিসৌধ। এই স্মৃতিসৌধের বৈশিষ্ট্য হলো একে একেক দিক থেকে একেক রকম আকৃতির মনে হয়। প্রবেশপথের দু’পাশে নানাজাতের ফুলগাছ পাশেই আছে কৃত্রিম জলাশয়, যেখানে স্মৃতিসৌধের ছবি প্রতিফলিত হয়। পরিবারের সবাইকে নিয়ে, বিশেষ করে ছোটদের দেশের ইতিহাস সম্পর্কে জানানোর জন্য আপনি অবশ্যই স্মৃতিসৌধ ঘুরে আসতে পারেন।

কখন যাবেন কীভাবে যাবেন
সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। বিশেষ দিনে যেতে হলে বেশ ভিড়ের মুখোমুখি হবেন। ঢাকার সায়দাবাদ বা গাবতলী বাস দিয়ে যাওয়া যায়। এছাড়া মতিঝিল ও গুলিস্তান থেকে বিআরটিসি, হানিফ, নন্দনসুপার বাস ও গ্রীনওয়ে বাস সার্ভিস সরাসরি নবীনগর পর্যন্ত যাতায়াত করে।

কখন যাবেন কীভাবে যাবেন :
সোমবার-শনিবার : ১০ - ৫ (অক্টোবর-মার্চ), ১০ - ৬ (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর)। সাপ্তাহিক বন্ধ-রবিবার। ঢাকা প্রেসক্লাবের কাছে এসে খুব সহজেই সেগুনবাগিচায়-৫ যেতে পারেন।

বাঙালি হয়ে আপনার অবশ্যই জানা উচিত দেশের ইতিহাস। পরিবার-পরিজন নিয়ে অবশ্যই ঘুরে আসবেন উপরোক্ত স্থানগুলোতে। শুধু ঘুরবার জন্য নয়, বরং দেশের স¤পর্কে জানা এবং ইতিহাসকে ছুঁয়ে দেখবার জন্য আপনার ঘুরে আসা উচিত এইসব স্থানে।

- কাজী মাহদী আমিন